০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লেবাননের শৈলশিরায় ইসরায়েলি হামলা নিয়ে ‘যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইরান’

অগাস্টের মাঝামাঝি মধ্যস্থতাকারী ওমানের মাধ্যমে ইরান ওয়াশিংটনকে এ বার্তা পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিন কর্মকর্তা।

লেবাননের শৈলশিরায় ইসরায়েলি হামলা নিয়ে ‘যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইরান’
দক্ষিণপূর্ব লেবানন ও ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের ওপর নজর রাখার মতো সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা ‘আলি আল-তাহের’ শৈলশিরা। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Sep 2026, 05:27 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:29 PM

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে এক পর্বতের শৈলশিরায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের পাশপাশি আশ্রয় নিয়ে থাকা ইরানি সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর ইসরায়েল আক্রমণ চালালে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইরান; এই বার্তার বিষয়ে অবহিত তিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এমনটি জানিয়েছেন।    

অগাস্টের মাঝামাঝি মধ্যস্থতাকারী ওমানের মাধ্যমে ইরান ওয়াশিংটনকে এ বার্তা পাঠিয়েছে বলে তাদের মধ্যে দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তারা সবাই নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেছেন।  

ওই অঞ্চলে থাকা এ কর্মকর্তাদের দাবি, ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক চাপের মুখে আপাতত ওই পর্বতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বড় ধরনের অভিযান স্থগিত রয়েছে।

আঞ্চলিক সংঘাত নতুন ধাপে পৌঁছানোর পর থেকে দক্ষিণ লেবাননে চলমান স্থলযুদ্ধে ইরানের সরাসরি সামরিক উপস্থিতি ও সম্পৃক্ততার চিত্র এই বার্তার মাধ্যমে নতুন করে সামনে এল।

তবে মার্কিন প্রশাসনের কাছে এই ধরনের বার্তা পাঠানো বা ইসরায়েলকে চাপ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “এই তথ্য সঠিক নয়।” 

এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর (পেন্টাগন), ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কিংবা জেনেভায় ইরানের স্থায়ী মিশন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

দক্ষিণপূর্ব লেবাননের ওপর নজর রাখার মতো সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা ‘আলি আল-তাহের’ শৈলশিরায় হিজবুল্লাহ মাটির নিচে একটি গোপন কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রের গুদাম গড়ে তুলেছে বলে ধারণা করা হয়।

এলাকাটিকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার যুদ্ধে অন্যতম প্রধান স্পর্শকাতর লক্ষ্যস্থল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী পবর্তটির দক্ষিণ অংশ দখলে নিয়ে এটিকে তাদের অন্যতম প্রধান সামরিক কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেছে।

আঞ্চলিক ওই দুই কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, পর্বতটিতে হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অন্তত ডজনখানেক সদস্য অবস্থান করছেন, যাদের মধ্যে অন্তত দুইজন ঊধ্র্বতন সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন।

হিজবুল্লাহর মিডিয়া সেল এই বার্তার বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত বা অস্বীকার না করলেও জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কবার্তা পাঠানো একটি ‘স্বাভাবিক পরিণতি’।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের নতুন স্থল অভিযান, বিশেষ করে ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ বা সমঝোতা স্মারকের মারাত্মক লঙ্ঘন বলে মনে করে ইরান।”

গত জুনের শুরুতে বৈরুতের শহরতলীতে হিজবুল্লাহর ওপর হামলার জবাবে ইরান সরাসরি ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল।

জুনে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও ইসরায়েলের দাবি, পবর্তটি ঘিরে এখনো হিজবুল্লাহ সক্রিয় রয়েছে। গত সপ্তাহেও পর্বতটির কাছে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ দুটি বিস্ফোরক ড্রোন নিক্ষেপ করে। 

এর আগে জুলাই মাসে পর্বতের গোপন সুরঙ্গের প্রবেশমুখে এক হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।

পর্বতটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে হিজবুল্লাহ ও আইআরজিসি সেনাদের কাবু করার চেষ্টা করছে ইসরায়েলি বাহিনী। ড্রোন দিয়ে রসদ ও পানি সরবরাহের চেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়ে অবরুদ্ধ সৈন্যদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছে তারা।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘মারিভ’ একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, অনাহারে হিজবুল্লাহর কয়েকজন যোদ্ধা মারা গেছেন এবং সেখানে আইআরজিসির কোনো সেনা নেই বলে মনে করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

হিজবুল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত লেবাননের একটি সূত্র জানিয়েছে, পর্বতটির উত্তর দিক দিয়ে এখনো তাদের যোদ্ধারা মূল সামরিক অবস্থানে আসা- যাওয়া করতে পারছেন।

মার্কিন চাপ এবং তেহরানের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও আগামী সপ্তাহগুলোতে ওই পর্বতে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা এখনো ইসরায়েলের হাতে রয়েছে বলে মনে করছেন লেবাননের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে হিজবুল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আলি আল-তাহের শৈলশিরায় ইসরায়েলের যেকোনো বড় ধরনের হামলা উভয়পক্ষকে ফের পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে নিয়ে যাবে এবং এর জবাবে উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।