বিচারক, কৌঁসুলিদের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় আইসিসির ‘কঠোর নিন্দা’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘আইনি আক্রমণের হাতিয়ার’ আখ্যা দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাদের বিচারক ও কৌঁসুলিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন নিষেধাজ্ঞার ‘কঠোর নিন্দা’ জানিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার নতুন করে আইসিসির দুই বিচারক ও দুই কৌঁসুলির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এই চারজন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি নাগরিকদের বিচার করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসিকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি’ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘আইনি আক্রমণের হাতিয়ার’ আখ্যা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গালান্টের বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সমালোচনা করে একে ‘হতাশাজনক’ অভিহিত করেছে ফ্রান্স। মার্কিন নতুন নিষেধাজ্ঞায় থাকা দুই বিচারকের মধ্যে একজন নিকোলাস গুইলু ফ্রান্সের।
বাকি যে তিন আইসিসি কর্মকর্তার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার খড়্গ নেমে এসেছে তারা হলেন বিচারক কিম্বারলি প্রস্ট, তিনি কানাডার; সহকারী কৌঁসুলিদের মধ্যে নাজাত শামীম খান ফিজির, আর মামে মান্দিয়ায়ে নিয়াং সেনেগালের।
নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে রুবিও আন্তর্জাতিক এ আদালতের ‘রাজনৈতিকীকরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বেআইনি বিচারিক হস্তক্ষেপের’ নিন্দা জানিয়েছেন।
গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচারের এখতিয়ার থাকা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) বিচারক ও কৌঁসুলিদের ওপর সর্বশেষ মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে ‘নির্লজ্জ আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছে।
“এটা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে চলা বিশ্ব ব্যবস্থা, এবং সর্বোপরি বিশ্বজুড়ে অপরাধের শিকার কোটি কোটি নিরীহ মানুষকে অপমান,” বলেছে তারা।
নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ‘স্বাধীন বিচারব্যবস্থার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক’।
নেতানিয়াহু ও গালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় গুইলুর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, বলেছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কানাডীয় বিচারক প্রস্টকে আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের নিয়ে তদন্ত করার দায়ে এবং শামীম খান ও নিয়াংকে ‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বেআইনি পদক্ষেপ নেওয়ার’ দায়ে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে, বলেছে তারা।
এ তালিকায় থাকার মানে হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে এই চারজনের কোনো সম্পদ বা কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন থাকলে তা জব্দ করা হবে।
এর আগে বছরের প্রথমভাগে ওয়াশিংটন আইসিসির প্রধান কৌঁসুলি করিম খান ও আরও চার বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ওই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে চার বিচারকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
পরে জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টার ফ্রাঞ্চেসকা আলবানেজের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আলবানেজে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচক।
আইসিসির প্রতি সমর্থন এবং আমেরিকান ও ইসরায়েলি নাগরিকদের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সিদ্ধান্তে জড়িত থাকার দায়ে আলবানেজেকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বলে রুবিও জানিয়েছিলেন।
এর প্রত্যুত্তরে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এ বিশেষ র্যাপোর্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইসিসির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, তিনি ইতালি থেকে এসেছেন, যে দেশটি আইসিসির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা দেশ এবং যেখানকার আইনজীবী ও বিচারকরা ন্যায়বিচারের জন্য চড়া মূল্য দিয়ে আসছেন, কখনো কখনো নিজের জীবনও।
“আমি সেই চর্চাকে সম্মান জানাতে আগ্রহী,” পোস্টে এমনটাই লিখেছিলেন তিনি।
