অভিযান বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পর গাজা সিটিতে ইসরায়েলের তুমুল বোমাবর্ষণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, ইসরায়েলের ট্যাংক এবং বিমান সোমবার গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলীয় সাবরা, জয়তুন এবং শেজাইয়ায় বোমা বর্ষণ করেছে।
গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সোমবার সবচেয়ে ভারি বোমা হামলা চালানো শুরু করেছে ইসরায়েল।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজা সিটিতে নতুন সম্প্রসারিত অভিযান খুব দ্রুতই শেষ করতে চান বলে জানানোর পর সেখানে এই তুমুল বোমাবর্ষণ শুরু হল।
গাজা শহরের আল-শিফা হাসপাতালের কাছে একটি তাঁবুতে ইসরায়েলের বিমান হামলায় আল জাজিরার বিশিষ্ট সংবাদদাতা আনাস আল শরিফসহ ৬ সাংবাদিক নিহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছে, ইসরায়েলের ট্যাংক এবং বিমান সোমবার গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলীয় সাবরা, জয়তুন এবং শেজাইয়ায় বোমা বর্ষণ করেছে। এতে বহু পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে পশ্চিমের দিকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
গাজা সিটির কিছু বাসিন্দা বলেছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই রাত ছিল সবচেয়ে বাজে। এতে শহরটিতে আরও জোরদার সামরিক হামলা হওয়ার প্রস্তুতির আশঙ্কা বেড়েছে।
ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হিসাবমতে, এখন গাজা সিটিতে প্রায় ১০ লাখ মানুষের বাস। উত্তরের দিকগুলো বাসিন্দারা বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলছে, তারা ওই এলাকার হামাস জঙ্গিদের এলাকাগুলোতে গোলা ছুড়েছে।
গাজা সিটির এক বাসিন্দা বলেন, “যুদ্ধ আবার নতুন করে শুরু হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। ট্যাংক থেকে বাড়িঘরে গোলা ছোড়া হচ্ছে। বেশ কয়েকটি বাড়িঘরে গোলা আঘাত হেনেছে। বিমান থেকে ছোড়া হচ্ছে ক্ষেপণাস্ত্র। কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র গাজার পূর্বাঞ্চলের কিছু রাস্তায় পড়েছে।"
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা রোববার গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে হামাসের একটি রকেট উৎক্ষেপণস্থল ধ্বংস করেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু রোববার বলেছেন, তিনি নতুন অভিযান ত্বরান্বিত করার জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমি যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধ শেষ করতে চাই। সেকারণে আমি খুব কম সময়ের মধ্যে গাজা সিটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-কে নির্দেশ দিয়েছি।”
নেতানিয়াহু এদিন আরও জানিয়েছিলেন, নতুন অভিযানে ইসরায়েল গাজা সিটির ওপর মনোনিবেশ করবে। কারণ, এই শহরটি হামাসের ‘সন্ত্রাসের রাজধানী’।
গাজা সিটির পর ইসরায়েলি বাহিনীর লক্ষ্য হতে পারে গাজার মধ্যাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকাগুলো। কারণ, সেখানেও হামাস যোদ্ধাদের আনাগোনা আছে।
