ইরানি হামলায় জর্ডানে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত: সিবিএস নিউজ
জর্ডান দাবি করেছে, তাদের সামরিক বাহিনী ইরানের ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি প্রতিহত করেছে।
জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমান ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ।
এই হামলার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা সিবিএসকে জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে ও বুধবার ভোররাতে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান আর তাতে অনেকগুলো যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বুধবার জর্ডান জানিয়েছিল, তাদের সামরিক বাহিনী ২০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি প্রতিহত করেছে। দুটি ক্ষেপণাস্ত্র খোলা জাায়গায় পড়ে বিস্ফোরিত হলেও এতে হতাহতের কোনো খবর হয়নি।
ওই দিনই পরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকটি সূত্র সিবিএন নিউজকে জানান, প্রায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু ওয়ার্থগ নামে পরিচিত একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমানে আঘাত লেগেছে আর সেটির একটি ডানা উড়ে গেছে।
ইরানের চালানো এ হামলায় কোনো মার্কিন সেনা বা কর্মী নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়নি।
মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল ইরান। তারা জবাবে মঙ্গলবার পাঁচটি ইরানি ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো ডুবিয়ে দেয় মার্কিন বাহিনী। এর প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান।
বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশানি গার্ড কোর জানায়, তারা জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির কাছে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও আটটি ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে।
সিবিএস নিউজের খবর অনুযায়ী, জর্ডানে থাকা মার্কিন বাহিনী ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ৩০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে।
এর আগে আরেক প্রতিবেদনে সিবিএস নিউজ জানিয়েছিল যে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ অন্যান্য ধরনের নিখুঁত লক্ষ্যভেদী অস্ত্রশস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমতে থাকায় মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানায়, ইরানি তেল ট্যাংকারগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ নিতে তেহরান পুরো পশ্চিম এশিয়াজুড়ে মার্কিন সম্পদগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান আছে। এই ঘাঁটিটি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে মার্কিন বিমান শক্তির একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
