মাউন্ট সেমেরুতে অগ্ন্যুৎপাত, আটকে পড়া পর্বতারোহীদের সরিয়ে নিচ্ছে ইন্দোনেশিয়া
২০২১ সালের ডিসেম্বরে এ আগ্নেয়গিরির সর্বশেষ বড় অগ্ন্যুৎপাত অন্তত ৫১ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, ছাইয়ে ঢাকা পড়েছিল আশপাশের গ্রামগুলো।
দেশের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়গুলোর একটিতে অবস্থিত সেমেরু আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের পর ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ ৯০০-র বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার তারা আটকে পড়া ১৭০ পর্বতারোহীর নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে ব্যবস্থাও নিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
জাভা দ্বীপে অবস্থিত সেমেরুতে বুধবার ১০ বার অগ্ন্যুৎপাতে বিপুল পরিমাণ ছাই উদ্গীরণের পাশাপাশি লাভা ও পাথর ১৩ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত পৌঁছায়, সেখানে সতর্কর্তার মাত্রা এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
পর্বতারোহীরা রাতভর ওই আগ্নেয়গিরির পাদদেশে একটি হ্রদের ধারে ক্যাম্পিং এলাকায় আটকে পড়েছিলেন, এখন তাদেরকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হচ্ছে, বলেছেন সেমেরু ন্যাশনাল পার্কের কর্মকর্তা সেপ্তি ওয়ারধানি।
“সকল পর্বতারোহী ও তাদের গাইডরা নিরাপদে আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে,” রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন তিনি।
ইন্দোনেশিয়ার আগ্নেয়গিরি সংক্রান্ত সংস্থার দেওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, জ্বালামুখ থেকে বের হওয়া গরম ছাইয়ের প্রকাণ্ড মেঘ আগ্নেয়গিরির ঢালগুলো ঢেকে দিচ্ছে।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে এ আগ্নেয়গিরির সর্বশেষ বড় অগ্ন্যুৎপাত অন্তত ৫১ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, ছাইয়ে ঢাকা পড়েছিল আশপাশের গ্রামগুলো।
ইন্দোনেশিয়ায় এখন যে ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে তার মধ্যে ৩ হাজার ৬৭৬ মিটার উঁচু মাউন্ট সেমেরু একটি। ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’ নামক এলাকার মধ্যে পড়ায় ইন্দোনেশিয়ায় নিয়মিত ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত দেখা যায়।
অগ্ন্যুৎপাতের পর আশপাশের এলাকায় থাকা লোকজনকে সরিয়ে নিতে পূর্ব জাভার উদ্ধারকারী সংস্থা সেখানে কয়েক ডজন কর্মকর্তা মোতায়েন করেছে। আগ্নেয়গিরিটির কাছাকাছি থাকা ৯৫৬ জনকে এরই মধ্যে বিভিন্ন স্কুল, মসজিদ ও সরকারি ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তা প্রাহিস্তা দিয়ান।
“কোনো বাসিন্দা এখনও কোথাও আটকা পড়ে আছে কিনা, তা খুঁজে দেখতেও লোকজন মোতায়েন করা হয়েছে,” বলেছেন তিনি।
