০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্রিকস সম্মেলনে ভাষণ থামিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি’র খোঁজ নিলেন মোদী

ব্রিকস নেতাদের উদ্দেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ চীনের প্রেসিডেন্টের পাশে কিছু একটা সমস্যা চোখে পড়ায় বক্তব্য থামান তিনি।

ব্রিকস সম্মেলনে ভাষণ থামিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি’র খোঁজ নিলেন মোদী
ছবি: ইউটিউব/এনডিটিভি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Sep 2026, 07:48 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:27 PM

ভারতের নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে ভাষণ দিতে শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু বক্তব্যের মাঝেই হঠাৎ তাল কাটল। বক্তব্য থামালেন মোদী। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দিকে। 

প্রশ্ন করলেন, সব ঠিক আছে তো? (ইজ় ইট ওকে?) । ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই মুহূর্তের ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার ব্রিকস নেতাদের উদ্দেশে মোদী উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার সময় ওই ঘটনা ঘটে। বক্তব্যের মাঝে হঠাৎ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাশে কিছু একটা সমস্যা চোখে পড়ে মোদীর। 

তখন চীনের প্রেসিডেন্টকে ঘিরে কয়েকজন কর্মকর্তা ও তার দোভাষী ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি লক্ষ্য করেই মোদী নিজের ভাষণ থামিয়ে দেন। 

তিনি চীনের প্রেসিডেন্টের দোভাষীর দিকে তাকিয়ে জানতে চান, সব ঠিক আছে কি না। প্রথমবার স্পষ্ট সাড়া না পেয়ে মোদী ফের একই প্রশ্ন করেন।

এর কয়েক সেকেন্ড পর শি জিনপিং মাথা নেড়ে সম্মতি ও ধন্যবাদ জানালে মোদী তার ভাষণ শুরু করেন।

জিনপিংয়ের ঠিক কী হয়েছিল তা সরকারিভাবে জানানো হয়নি। তবে মনে করা হচ্ছে, ইয়ারফোন, মাইক্রোফোনে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি বা সরাসরি অনুবাদ সংক্রান্ত কিছু নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছিল।

দীর্ঘ সাত বছর পর ভারত সফরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছে তিনি ব্রিকস সম্মেলনের বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন।

তবে, সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে অংশ নিলেও শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেননি তিনি। 

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘ ভ্রমণ, ব্যস্ত সূচি এবং সময়ের পার্থক্যের (জেট ল্যাগ) কারণে ক্লান্ত থাকায় তিনি নৈশভোজে থাকতে পারেননি। 

আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদও এই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন।

অবশ্য দিনভর ‘ভারত মণ্ডপমে’ আয়োজিত ব্রিকসের মূল অধিবেশন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘ভারত ইনোভেটস এক্সপোজিশন’ পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে, বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের অগাস্টে তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর থেকে ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই নেতা।

বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশই সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। 

দুই নেতার মতে, “দুই দেশের মধ্যকার মতপার্থক্য যেন কোনো অবস্থাতেই বিরোধে পরিণত না হয়।”

প্রধানমন্ত্রী মোদী জোর দিয়ে বলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ‘তিনটি পারস্পরিক নীতি’, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা এবং পারস্পরিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।

আলোচনায় মোদী স্পষ্টভাবে জানান, সীমান্ত এলাকার স্থিতিশীলতা ও শান্তিই ভারত-চীন সম্পর্কের ভবিষ্যতের প্রধান ভিত্তি। সীমান্ত সংক্রান্ত বিদ্যমান সব চুক্তি ও সমঝোতা মেনে চলার ওপর জোর দেন তিনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দুই দেশের জনগণের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সীমান্ত সমস্যার একটি ন্যায্য, যৌক্তিক এবং উভয়পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধানের বিষয়ে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই শীর্ষ নেতা। 

পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ পর্যালোচনা করে তারা সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন, ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং নাগরিকদের অবাধ যাতায়াত ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হন।

১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এই ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে জোটের ১১টি সদস্য দেশ, ১০টি সহযোগী দেশ ও একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।