ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ: ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন আগামী সপ্তাহে
ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন করা এবং সেখানকার পুলিশও কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি থেকে গৃহহীন মানুষজনকে বিতাড়িত করা ও অপরাধ সামাল দেওয়ার অভিযানে সেখানে ৮০০ ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি ওয়াশিংটন পুলিশ বিভাগরও কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার হোয়াইট হাউজে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। এ সম্পর্কিত নির্বাহী আদেশও এরই মধ্যে দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের সই করা সেই আদেশের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজ।
ট্রাম্পের নির্দেশনা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সংবাদ সম্মেলনে জানান, আসছে সপ্তাহেই রাজধানীতে ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, তারা ওয়াশিংটন ডিসিতে অন্যান্য বিশেষায়িত ন্যাশনাল গার্ড ইউনিট মোতায়েন করতেও প্রস্তুত। তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে বিক্ষোভ দমাতে ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েনের কথাও উল্লেখ করেন।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারিতে ক্যাপিটল হিলে রিপাবলিকান ট্রাম্পের সমর্থকদের দাঙ্গা-হাঙ্গামার সময় ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হলেও তারপর থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আর দরকার হয়নি।
ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের সবগুলো রাজ্যের ক্ষেত্রে সাধারণত গভর্নররা সিদ্ধান্ত নেন কখন ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন করবেন। কিন্তু ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী সরাসরি প্রেসিডেন্টের নিয়ন্ত্রণাধীন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী সহিংস ও রক্তপিপাসু অপরাধী চক্রের আখড়া হয়ে উঠেছে- ট্রাম্প এই যুক্তিতে এবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন করতে চলেছেন। যদিও শহরটির মেয়র দাবি করেছেন, বর্তমানে সেখানে অপরাধ বৃদ্ধির কোনো রেকর্ড নেই।
কিন্তু ট্রাম্প তার নির্বাহী আদেশে বলেছেন, “রাজধানীতে বাড়তে থাকা সহিংসতা এখন সরকারি কর্মচারী, সাধারণ নাগরিক, পর্যটকদের গুরুতরভাবে বিপন্ন করে তুলেছে। সেখানে নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার ঠিকমত কাজ করতে পারছে না।”
আদেশে জরুরি পরিস্থিতির কারণে ওয়াশিংটন ডিসির পুলিশক বিভাগকেও কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এর আগে ট্রাম্প লিখেছিলেন, “গৃহহীনদের সরে যেতে হবে, অবিলম্বে। আমরা আপনাদের থাকার জায়গা দেব, তবে রাজধানী থেকে অনেক দূরে।
“অপরাধীরা, আপনাদের সরে যেতে হবে না। যেখানে আছেন আপনাদের সেখানেই কারাগারে রাখব আমরা।”
রাজধানীতে নিরাপত্তা বাড়াতে ট্রাম্প যে পদক্ষেপ নিতে চলেছেন, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। রাজনীতিকরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ করেছেন।
তারা বলছেন, ওয়াশিংটন ডিসিতে অপরাধের পরিবেশ থেকে থাকতে পারে, তবে নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে, সেখানে অপরাধের কারণে কোনও জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।
ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার নির্বাচিত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রায়ান বলেছেন, নগরীর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নিয়ন্ত্রণ ফেডারেল প্রশাসনের নিজের হাতে নেওয়ার ঘটনা ‘নজিরবিহীন, অপ্রয়োজনীয় এবং বেআইনি’।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনেক সমালোচকই বলছেন, তিনি (ট্রাম্প) আদতে ডেমোক্র্যাটদের-পরিচালিত এলাকাগুলোর ওপরই বেশি মনোনিবেশ করছেন। মিসিসিপি, লুইজিয়ানা এবং অ্যালাবামার মতো লাল (রিপাবলিকান-শাসিত) অঙ্গরাজ্যগুলোতে খুনের হারের কথা ট্রাম্প উল্লেখ করেননি।
