জলবাযু পরিবর্তন মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান দক্ষিণ এশিয়ার আইনপ্রণেতাদের
নেপালে সম্প্রতি ভয়াবহ দুর্যোগে অন্তত ১,৩৫৫ জনের মৃত্যু এবং ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভুটানে আয়োজিত আঞ্চলিক সংলাপে এই তাগিদ দেওয়া হল।
জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাস্তবসম্মত প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নেপাল, ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান ও বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা। বিদ্যমান চুক্তিগুলোকে কার্যকর কর্মপদ্ধতিতে রূপান্তর করা প্রয়োজন বলে জানান তারা।
‘কাঠমান্ডু পোস্ট’ পত্রিকা জানায়, ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে রোববার শেষ হওয়া দুই দিনব্যাপী ‘সাউথ এশিয়ান পার্লামেন্টারি ডায়লগ অন এনভায়রনমেন্ট, ক্লাইমেট অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আঞ্চলিক সংলাপে আইনপ্রণেতারা এই আহ্বান জানিয়েছেন।
‘সাউথ এশিয়া রিজিওনাল পার্লামেন্টারি ফোরাম ফর ক্লাইমেট, এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ (এসএআরপিএফ) এবং ভুটানের জাতীয় পরিষদের যৌথ আয়োজনে গত ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন দেশের আইনপ্রণেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
সম্প্রতি নেপালে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ দুর্যোগে অন্তত ১,৩৫৫ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভুটানের এই সংলাপে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ দেওয়া হল। নেপালের এই দুর্যোগ অঞ্চলটিতে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মাত্রা কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।
একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসএআরপিএফ জানায়, সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক জলবায়ু এবং জ্বালানি সহযোগিতার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া বা উপায় খোঁজার বিষয়ে রাজি হয়েছেন, যার মধ্যে 'সাউথ এশিয়া ক্লাইমেট কোঅপারেশন কাউন্সিল' বা 'দক্ষিণ এশিয়া জলবায়ু সহযোগিতা পরিষদ' গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রস্তাবিত এই পরিষদ সার্ক, বিমসটেক, বিবিআইএন কিংবা স্যাকপের মতো বিদ্যমান সংস্থাগুলোর কাজের পুনরাবৃত্তি না করে জলবায়ু, জ্বালানি ও পরিবেশের দিকে রাজনৈতিক মনোযোগ ধরে রাখতে কাজ করবে।
প্রতিনিধিরা এসএআরপিএফকে এই কাউন্সিলের একটি সম্ভাব্য রূপরেখা (ব্লুপ্রিন্ট) তৈরি এবং সার্ক, বিমসটেক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), বিশ্বব্যাংক ও এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) মতো বহুপক্ষীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা অঞ্চলের পরিপূরক শক্তি সম্পদের কথা উল্লেখ করে ‘দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড’ গড়ে তোলার পদক্ষেপও সমর্থন করেন।
নেপালের ৪২ হাজার মেগাওয়াট এবং ভুটানের প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, যার মাত্র ১২ শতাংশ এখন পর্যন্ত কাজে লাগানো গেছে।
অন্যদিকে, ভারতের নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন সক্ষমতা ২ লাখ ৫৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।
এছাড়া, হিমালয় অববাহিকায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, হিমবাহ হ্রদ ও বন্যা পর্যবেক্ষণ এবং আন্তঃসীমান্ত জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ের জন্য যৌথ দুর্যোগ প্রস্তুতি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংলাপে জাতিসংঘের 'ইউএনওপিএস'-এর প্রধান জলবায়ু কর্মকর্তা সামান্থা স্ট্র্যাটন-শর্ট ‘সাউথ এশিয়া এনার্জি ট্রানজিশন স্ট্যাটাস রিপোর্ট ২০২৬’ প্রকাশ করেন।
সংলাপে স্ট্র্যাটন-শর্ট এবং এসএআরপিএফের সহপরিচালক অধ্যাপক মুকুল শর্মা ও সুমেধা বসু আন্তঃসীমান্ত তথ্য আদান-প্রদান জোরদারের তাগিদ দেন।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডাশো শেরিং তোবগে, জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী ল্যোনপো সোনাম তাশি, কৃষি ও পশুপালন মন্ত্রী ইয়ুনতেন ফুনতশো এবং ভুটানের জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার সাঙ্গে খাণ্ডু।
ভুটানে দুই দিনব্যাপী সংলাপের সভাপতিত্ব করেন এসএআরপিএফের চেয়ারম্যান ও ভারতের লোকসভার সদস্য সঞ্জয় জয়সওয়াল এবং সংস্থাটির কো-ডিরেক্টর শর্মা ও বসু।
