২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

১৯ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর পাকিস্তানে ফিরল ঘুড়ি উৎসব

এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু মানুষের প্রাণহানির তিক্ত স্মৃতি। মূলত সেকারণেই ২০০৭ সালে এই উৎসব নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

১৯ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর পাকিস্তানে ফিরল ঘুড়ি উৎসব
ছবি: বিবিসি

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Feb 2026, 12:50 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:54 PM

পাকিস্তানের লাহোরে নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘ ১৯ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর আবার ফিরে এসেছে ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব ‘বসন্ত’।

শহরের আকাশজুড়ে রঙিন ঘুড়ি উড়ছে, বাড়ির ছাদে ছাদে মানুষের হাসি, চিৎকার আর ঢোলের শব্দ বসন্তের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। 

প্রায় দুই দশক হারানো এক সাংস্কৃতিক উৎসব ফের ফিরে পাওয়ার আনন্দে গদগদ পুরো শহর। শহরের সরু গলিতে হোটলেই চোখে পড়েছে বৈদ্যুতিক তারে আটকে থাকা ঘুড়ি নামানোর চেষ্টা করছে যুবক ও কিশোরেরা।

আকাশে অসংখ্য ঘুড়ি কখনো জিগজ্যাগ, আবার কখনো গোল পাকিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে। লাহোরের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী টেক ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর আহমেদ বলেন, ঘুড়ি ওড়ানো মোটেও সহজ নয়। 

আবু বকরের চাচাতো ভাই তাকে ঘুড়ির সুতা টানার কৌশল শেখাচ্ছিলেন। হাসতে হাসতে আবু বকর বলেন, “আমাদের গোটা প্রজন্মই ভীষণ উত্তেজিত। আমাদের আগের প্রজন্ম জানে, কিন্তু আমরা জেন-জি আমরা তো প্রায় কিছুই জানি না।”

পাকিস্তানে ঘুড়ি উড়ানোর এই ‘বসন্ত’ উৎসব মূলত বসন্ত মৌসুমের সূচনা উপলক্ষে শত শত বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে। তবে এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু মানুষের প্রাণহানির তিক্ত স্মৃতি। মূলত সেকারণেই ২০০৭ সালে এই উৎসব নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

ধারাল ও শক্ত সুতা পথচারী কিংবা মোটরসাইকের আরোহীদের গলায় পেঁচিয়ে কিংবা ঘুড়ি ওড়াতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে এবং উৎসব উপলক্ষে আকাশে গুলি ছোড়ার ঘটনায় অতীতে দেশটিতে অসংখ্য দুর্ঘটনায় বহু মানুষ আহত ও নিহত হয়েছে।

এবার সেই অতীত মাথায় রেখে কড়া নজরদারি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে শহরজুড়ে। নেওয়া হয়েছে কড়াকড়ি ব্যবস্থা। এবারের ‘বসন্ত’ উৎসব সীমিত করা হয়েছে মাত্র তিনদিনে। বড় আকারের ঘুড়ি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ সেগুলোর জন্য শক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ সুতা প্রয়োজন হয়। 

নাবালকদের ঘুড়ি ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাবধানতা হিসেবে মোটরসাইকেল আরোহীদের হ্যান্ডেলের মাঝে ধাতব দণ্ড লাগানো হয়েছে, যাতে সুতা তাদের গলায় না পেঁচায়। 

কিছু কিছু রাস্তায় জালও বসানো হয়েছে। কারণ, অতীতে ধাতব সুতা বৈদ্যুতিক তারে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা ঘটেছে। ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ছাদ ও আকাশ নজরে রাখা হচ্ছে।

তাছাড়া, উৎসব শুরুর আগে যাতে কেউ ঘুড়ি না ওগায় সেটি নিশ্চিত করতে ১ ফেব্রুয়ারির আগে বিক্রি হওয়া বিপজ্জনক সুতার ঘুড়ি জব্দ করা হয়েছে।

লাহোর পুলিশের উপ ইন্সপেক্টর জেনারেল বলেছেন, তারা এক লাখের বেশি ঘুড়ি ও দুই হাজারের বেশি সুতার রিল জব্দ করেছেন।