নিরাপত্তা শঙ্কায় পাকিস্তানের পেশোয়ারে কনস্যুলেট বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র
পেশোয়ারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের সব কূটনৈতিক কার্যক্রম এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবস্থিত দূতাবাস থেকে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্রদপ্তর।
পাকিস্তানের পেশোয়ারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট বন্ধ করে দিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। কূটনীতিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে একথা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে জানানো হয়, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের সব কূটনৈতিক কার্যক্রম এখন ইসলামাবাদে অবস্থিত দূতাবাস থেকেই পরিচালিত হবে।
পররাষ্ট্রবিভাগ বলেছে, “এই সিদ্ধান্ত আমাদের কূটনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা এবং সম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য আমাদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”
খাইবার পাখতুনখোয়া আফগানিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত একটি স্পর্শকাতর অঞ্চল। অতীতে সেখানে একাধিক হামলা হয়েছে। পাকিস্তানি বাহিনী এবং ইসলামাবাদের ভাষায়, আফগানিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের সঙ্গে এলাকাটিতে তুমুল লড়াইও হয়েছে।
গত মার্চে পাকিস্তানের করাচি শহরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলা হয়। বিক্ষোভকারীরা কনস্যুলেটের বাইরের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। ওই ঘটনায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়।
এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর।
পেশোয়ারের মার্কিন কনস্যুলেট কয়েক দশক ধরে আফগান সীমান্তের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এসেছে।
কনস্যুলেটটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তে পেশোয়ারে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি উপস্থিতি কমে গেলেও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনের নীতিগত অগ্রাধিকার এবং উন্নয়নমূলক কাজে কোনও পরিবর্তন হবে না বলে পররাষ্ট্রদপ্তরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
