২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

গাজা সিটিতে তুমুল হামলার মধ্যেই হামাসের আত্মসমর্পণ চাইলেন ইসরায়েলি মন্ত্রী

প্রত্যুত্তরে হামাস বলেছে, তারা অস্ত্র সমর্পর্ণ করবে না। তবে যদি ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে রাজি হয় এবং গাজা থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে তারা সব জিম্মিদের ছেড়ে দিতে পারে।

গাজা সিটিতে তুমুল হামলার মধ্যেই হামাসের আত্মসমর্পণ চাইলেন ইসরায়েলি মন্ত্রী
গত মাসে ইসরায়েল গাজার সবচেয়ে বড় শহরাঞ্চল দখলের অভিযান শুরু করে, এখন তারা গাজা সিটির কেন্দ্র থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Sep 2025, 05:29 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:15 PM

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজার সবচেয়ে বড় শহর গাজা সিটিতে ইসরায়েলি সেনাদের তুমুল হামলার মধ্যেই তেল আবিব ফের হামাসকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছে। 

রোববার ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’র জেরুজালেমে সাংবাদিকদের বলেছেন, যদি হামাস বাকি জিম্মিদের ছেড়ে দেয় এবং অস্ত্র নামিয়ে রাখে তাহলে সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হতে পারে।

“রাজনৈতিভাবে লক্ষ্য পূরণ হলে আমরা বেশি খুশি হবো,” সা’র এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ইসরায়েলি মন্ত্রীর এ মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হামাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসেম নাইম তাদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, তারা অস্ত্র সমর্পর্ণ করবে না তবে সব জিম্মিদের ছেড়ে দিতে পারে, যদি ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে রাজি হয় এবং গাজা থেকে সব সৈন্য প্রত্যাহার করে নেয়।

গত মাসে ইসরায়েল গাজার সবচেয়ে বড় শহরাঞ্চল দখলের অভিযান শুরু করে, এখন তারা গাজা সিটির কেন্দ্র থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে। 

শহরটিতে শনিবার রাতভর তাদের হামলায় ১৪ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ গাজার একটি স্কুলেও হামলা চালিয়েছে, যেখানে ঘরছাড়া অনেক ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন।

স্কুলে হামলার ব্যাপারে রয়টার্স জানতে চাইলে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা হামাস জঙ্গিদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাছাড়া হামলার আগে তারা বেসামরিকদের স্থানটি ছেড়ে যেতে সতর্কবার্তাও দিয়েছিল।  

“বেসামরিক ইসরায়েলিদের ওপর থাকা হুমকি নির্মূলে গাজা ভূখণ্ডে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে ইসরায়েলি বাহিনী,” বলেছেন সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গত কয়েকদিন ধরে গাজা সিটিতে তাণ্ডব চালাচ্ছে, এরই মধ্যে তারা বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নেওয়া দুটি বহুতল ভবনও গুঁড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। 

তেল আবিবের সেনারা বলছে, ওই ভবনগুলো হামাস ব্যবহার করছিল। ভবন দুটিতে থাকা বেসামরিকদের সরে যেতে আগাম সতর্কবার্তাও দিয়েছিল তারা।   

তবে ভবন দুটি যে আসলেই হামাস ব্যবহার করতো, তার সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি ইসরায়েল। হামাসও ভবনগুলো ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত মাসে তার সেনাদের গাজা সিটি দখলের নির্দেশ দেন। বৈশ্বিক এক ক্ষুধা পর্যবেক্ষক সংস্থার হিসাবে, সেখানকার লাখো ফিলিস্তিনি এখন দুর্ভিক্ষের মুখে রয়েছেন। 

গাজায় অনেকে অনাহারে আছে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা স্বীকার করলেও সেখানে দুর্ভিক্ষের অস্তিত্ব মানছেন না তারা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র সংগঠনগুলো ইসরায়েলে আচমকা হামলা চালিয়ে তেল আবিবের ভাষায় এক হাজার ২০০ লোককে হত্যা ও আড়াইশ জনকে জিম্মি করার পর নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সর্বাত্মক যুদ্ধে নামেন। ইসরায়েলের আক্রমণে গাজায় নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে ৬৪ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব বলছে।