ইউক্রেইনে মার্কিন সেনা মোতায়েন নিয়ে ট্রাম্প-জেলেনস্কি আলোচনা
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতি কিইভের নিরাপত্তায় বিশাল শক্তি হিসেবে কাজ করবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পশ্চিমা প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইউক্রেইনকে দেওয়া নিরাপত্তা নিশ্চয়তার অংশ হিসেবে দেশটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
মঙ্গলবার এক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে গণমাধ্যমকে একথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। সেইসঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বাসভবনে হামলার অভিযোগকে ভুয়া বলেও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চালিয়ে যেতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং যে কোনওভাবেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে প্রস্তুত।
ইউক্রেইনের নিরাপত্তার বিষয়ে জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেইনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের উপস্থিতি কিইভের নিরাপত্তার জন্য বিশাল শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, “অবশ্যই আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং পশ্চিমা জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি। আমরা এটি চাই। এটি পছন্দও করব। এটি হবে নিরাপত্তার নিশ্চয়তার জন্য শক্তিশালী অবস্থান।”
তবে হোয়াইট হাউজ রাশিয়ার সঙ্গে কোনও শান্তি চুক্তির আওতায় মার্কিন সেনা ইউক্রেইনে পাঠানোর বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।
ডনাল্ড ট্রাম্প গত রোববার বলেছিলেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য জেলেনস্কির সঙ্গে আলোচনায় তিনি চুক্তির‘খুব কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছেন। তবে ভূখণ্ডগত কিছু কন্টকাকীর্ণ বিষয় অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
ট্রাম্প বলেন, চুক্তির পথে তারা ৯৫ শতাংশ এগিয়েছেন এবং আশা করেন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইউরোপীয় দেশগুলো এই প্রচেষ্টার বড় ভুমিকা নেবে।
রাশিয়া এর মধ্যেই অভিযোগ করেছে যে, ইউক্রেইন নভোগোরোদে প্রেসিডেন্ট পুতিনের একটি বাসভবনে হামলা চালাতে ৯১ টি ড্রোন পাঠিয়েছে। তবে কিইভ এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে বলেছে, রাশিয়া শান্তি আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।
তাছাড়া, পুতিনের বাসভবনে হামলার দাবির সপক্ষে ক্রেমেলিন কোনও প্রমাণও দিতে পারেনি। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ এক সূত্রও জানিয়েছে, পুতিনের বাসভবনে হামলার দাবির সপক্ষে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
জেলেনস্কি অবশ্য রাশিয়ার অভিযোগের মধ্যেও আলোচনায় প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়ে বলেছেন, “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলেছি, ইউরোপীয় নেতাদেরকে বলেছি আমি যে কোনও ফরম্যাটে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে প্রস্তুত। আমি কোনও ফরম্যাট নিয়েই ভয় পাচ্ছি না... এখন মূল ব্যাপার হচ্ছে রাশিয়ানদের ভয় না পাওয়া।”
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডনাল্ড টাস্ক এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়ায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শান্তি অর্জন সম্ভব হতে পারে। তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেইনের মধ্যকার লাইন অব কনটাক্টে মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দেন।
তবে টাস্ক এমন প্রস্তাবের বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু বলেননি এবং হোয়াইট হাউজও তার বক্তব্যে বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি।
