৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্পের নির্দেশে প্রকাশ্যে এল কেনেডি হত্যাকাণ্ডের হাজারো নথি

এসব নথি ১৯৬২ সালের কিউবান মিসাইল ক্রাইসিস পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবিশ্বাস ও আতঙ্কের পরিবেশ সম্বন্ধে অনেক কিছু জানাবে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের নির্দেশে প্রকাশ্যে এল কেনেডি হত্যাকাণ্ডের হাজারো নথি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে প্রকাশ্যে এল জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত হাজারো নথি। ছবি রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Mar 2025, 05:06 PM

Updated : 26 Aug 2026, 12:03 PM

বাষট্টি বছর আগে টেক্সাসে হওয়া যে ঘটনা সমগ্র বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিল সেই জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত হাজারো গোপন নথি প্রকাশ করল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। 

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ন্যাশনাল আর্কাইভসের ওয়েবসাইটে দুই হাজারের বেশি পিডিএফ ফাইলে ওই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত ৬৩ হাজার ৪০০ পৃষ্ঠা উন্মুক্ত করা হয়েছে। 

রিপাবলিকান ট্রাম্প গত বছর তার নির্বাচনী প্রচারণায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এ সংক্রান্ত সব নথি জনসমক্ষে আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন; মঙ্গলবার হাজারো নথি আপলোডের মাধ্যমে তিনি তার সেই প্রতিশ্রুতি রাখলেন, বলছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ট্রাম্পের নির্দেশে সবমিলিয়ে ৮০ হাজারের বেশি গোপন পৃষ্ঠা প্রকাশিত হবে; এর মধ্যে বেশিরভাগই প্রকাশিত হয়েছে, কিছু নথি আইন মন্ত্রণালয়ের আইনজীবীদের যাচাই বাছাই শেষে কয়েক ঘণ্টা পর প্রকাশিত হওয়ার কথা। 

পিডিএফ ফাইলসহ ডিজিটাল এসব নথি, ১৯৬২ সালে প্রায় পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া কিউবান মিসাইল ক্রাইসিস পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের অবিশ্বাস ও আতঙ্কের পরিবেশ সম্বন্ধে অনেক কিছু জানাবে বলেই অনুমান করা হচ্ছে।

এসব নথি কেনেডির প্রশাসন ও তার হত্যাকাণ্ড এবং সেসময়কার নাটকীয় ইতিহাস সম্পর্কে তীব্র কৌতুহলি অনেকের আগ্রহও খানিকটা পূরণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

এসব নথির বেশিরভাগ অংশজুড়েই স্থান পেয়েছে হত্যাকারী লি হার্ভে অসওয়াল্ডের সোভিয়েত ইউনিয়নে কাটানো সময় এবং ২২ নভেম্বর ১৯৬৩ ডালাসে হত্যাকাণ্ডের আগের কয়েক মাস তিনি কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন, কার কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন সেসব তথ্য। 

প্রাথমিক পর্যালোচনায় এসব নথিতে এমন কোনো তথ্য মেলেনি যাকে ‘বিস্ফোরক’ বলা যেতে পারে। 

ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র এর আগে বলেছিলেন, তার চাচা জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ডে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর হাত আছে বলে বিশ্বাস করেন তিনি। সিআইএ শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

মঙ্গলবার হাজারো নথি প্রকাশের পর রয়টার্স তার প্রতিক্রিয়া জানতে চায়, তবে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। 

জন এফ কেনেডির নাতি জ্যাক স্লসবার্গ এক্সে বলেছেন, এসব নথি প্রকাশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কেনেডি পরিবারকে আগে থেকে কিছু জানায়নি। 

নতুন এসব নথি কেনেডি হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে ‘অনেক শূন্যস্থান’ পূরণ করবে বলে মনে করছেন হার্ভার্ডের ইতিহাসের অধ্যাপক ফ্রিডরিক লগভাল।

“সমস্ত নথি প্রকাশিত হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ, আদর্শগতভাবে অসম্পাদিত হলে সবচেয়ে ভালো হয়। যদিও আমি নাটকীয় নতুন কিছুর আশা করছি না, যা ঘটনা সম্পর্কে আমাদের ধারণার মূল অংশকে পরিবর্তন করবে,” ইমেইলে এমনটাই লিখেছেন তিনি। 

প্রকাশিত নথিগুলোতে ১৯৬০-এর দশকের শুরুর দিকে লাতিন আমেরিকাজুড়ে সিআইএর তৎপরতা, কিউবা থেকে ফিদেল কাস্ত্রোকে উৎখাতে নাশকতা ও অস্থিরতা সৃষ্টি, লাতিনের বিভিন্ন দেশের কমিউনিস্ট বাহিনীগুলোকে কিউবার সমর্থন এবং তা ঠেকাতে মার্কিন গোয়েন্দাদের পরিকল্পনাও উঠে এসেছে।   

অসওয়াল্ডই কেনেডিকে হত্যা করেছে বলে আগে অবমুক্ত করা বেশিরভাগ প্রতিবেদনে ধারণা দেওয়া হলেও এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে বড়সড় ষড়যন্ত্র ছিল- এখনও অনেক মার্কিনি এমনটাই বিশ্বাস করেন বলে একাধিক জরিপে উঠে এসেছে। 

হত্যাকাণ্ডের সময় অসওয়াল্ড বিবাহিত ছিলেন, তার স্ত্রী মারিনা অসওয়াল্ড ছিলেন সোভিয়েত নাগরিক। 

জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পরপরই ট্রাম্প জন এফ কেনেডি হত্যাকাণ্ড সংশ্লিষ্ট সব গোপন নথি প্রকাশে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট নাগরিক অধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ও সেনেটর রবার্ট কেনেডি হত্যাকাণ্ড সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশেরও অঙ্গীকার করেছিলেন। এ দুজনই ১৯৬৮ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এর মধ্যে রবার্ট কেনেডি জন এফ কেনেডির ভাই, এখনকার মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রের বাবা।