ব্রিকস সম্মেলন: ৭ বছরের মধ্যে প্রথম ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট
শেষবার ২০১৯ সালের অক্টোবরে ভারত সফর করেছিলেন শি জিনপিং। তবে পরের বছরই গালওয়ানে চীন ও ভারতের সেনাদের সংঘর্ষ হয়।
ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে প্রায় সাত বছর পর ভারতে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় দুই দেশের সেনাদের মধ্যে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর এটিই জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর।
আগামী শনিবার ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে দুই দিনের ব্রিক্স সম্মেলন শুরু হচ্ছে। এর প্রথম দিনেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং শি জিনপিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হতে পারে।
এই বৈঠক নিবিড়ভাবে নজরে থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে। কারণ, ভারত ও চীন বছরের পর বছর ধরে চলা সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক দূরত্ব এবং তিক্ত অর্থনৈতিক সম্পর্কের বরফ গলাতে চাইছে।
জিনপিংয়ের সফর নিয়ে প্রথমে ধোঁয়াশা থাকলেও পরে তার সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে চীন।
চীনের পররাষ্ট্রদপ্তর একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, “ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নয়াদিল্লিতে আয়োজিত অষ্টাদশ ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ দেবেন। ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সম্মেলন চলবে।”
তবে মোদীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি চীন।
শেষ বার ২০১৯-এর অক্টোবরে ভারতে সফর করেছিলেন জিনপিং। তার পরের বছরেই পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) লঙ্ঘনকারী চীনা সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় ভারতীয় সেনারা।
রক্তক্ষয়ী ওই সংঘর্ষে এক কর্নেল-সহ ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়। চীন সরকারি ভাবে তাদের চার সেনার মৃত্যুর কথা জানিয়েছিল।
ওই সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত এবং চীনের পারস্পরিক সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যায়। ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ এবং পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে চীন প্রকাশ্যেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল।
গালওয়ান সীমান্ত সংঘর্ষের পর ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজ়ানে বৈঠক হয়েছিল মোদী এবং জিনপিংয়ের।
এরপর দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত মেলে। ২০২৫-সালের ৩১ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী মোদী দু’দিনের সফরে চীনে যান।
সেই সময় তিয়ানজিনে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি জিনপিংয়ের সঙ্গে পার্শ্ববৈঠক করেছিলেন তিনি।
অগাস্টের শেষে কিরগিজ়স্তানের রাজধানী বিশকেকে আয়োজিত এসসিও বৈঠকে দুই জন উপস্থিত থাকলেও মোদী এবং জিনপিংয়ের দ্বিপাক্ষীয় বৈঠক হয়নি।
তবে এবার চীনের প্রেসিডেন্টের ভারত সফরে নয়াদিল্লি-বেইজিং কূটনৈতিক সম্পর্কের ‘বরফ গলার’ সূচনা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
