ইউরোপে গ্যাস সরবরাহে আফ্রিকার তিন দেশের সমঝোতা, পাইপলাইন হবে সাহারায়

ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ করতে সাহারা মরুভূমির ওপর দিয়ে পাইপলাইন তৈরির জন্য সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে আফ্রিকার তিন দেশ আলজেরিয়া, নাইজার ও নাইজেরিয়া।

রয়টার্স
Published : 29 July 2022, 01:21 PM
Updated : 29 July 2022, 01:21 PM

সাহারা মরুভূমির ওপর দিয়ে ইউরোপে বাড়তি গ্যাস সরবরাহে এগিয়ে এসেছে আফ্রিকার তিন দেশ। রাশিয়ার গ্যাসের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প উৎসের সন্ধানে ইউরোপ যখন মরিয়া, তখনই এ উদ্যোগ এল।

সাহারা মরুভূমির ওপর দীর্ঘ পাইপলাইন নির্মাণের জন্য বৃহস্পতিবার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে আলজেরিয়া, নাইজার এবং নাইজেরিয়া। আলজেরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী মোহাম্মদ আরকাব একথা জানিয়েছেন।

পাইপলাইনটি বানাতে খরচ হবে ১ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার। এ পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে তিন হাজার কোটি কিউবিক মিটার গ্যাস ইউরোপে পাঠানো যাবে।

ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসনের জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন রুশ গ্যাস পাইপলাইনের ওপর থেকে নির্ভরতা কমানোর জন্য নাইজেরিয়া থেকে বাড়তি গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার চেষ্টায় আছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো সম্প্রতি তাদের মোট তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ১৪ শতাংশ নাইজেরিয়া থেকে আমদানি করে। সাহারা পাইপলাইন তৈরি হলে গ্যাস সরবরাহ দ্বিগুণ বাড়বে।

সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী, সাহারা মরুভূমির মধ্য দিয়ে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে।

নাইজেরিয়ার ওয়ারি থেকে শুরু হয়ে এই পাইপলাইন যাবে আলজেরিয়ার হাসি আর’মেল পর্যন্ত। সেখানে ইউরোপে চলে যাওয়া গ্যাস পাইপলাইনের সঙ্গে এই নতুন পাইপলাইনটি জুড়ে দেওয়া হবে।

সাহারা মরুভূমির ওপর দিয়ে পাইপলাইন তৈরির এই প্রকল্পটি প্রথম প্রস্তাব করা হয়েছিল ৪০ বছরেরও বেশি সময় আগে। ২০০৯ সালে দেশগুলোর মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিও সই হয়েছিল। কিন্তু তারপর থেকে এ প্রকল্পে আর কোনও অগ্রগতি হয়নি।

প্রকল্পটি নিয়ে কয়েক দশকের পুরোনো আলোচনা আবার নতুন করে শুরু করতে গত জুন মাসে রাজি হয় আফ্রিকার তিন দেশ।

বৃহস্পতিার ‘এমওইউ’ সই হওয়ার পর সাংবাদিকদের আলজেরিয়ার জ্বালানি মন্ত্রী আরকাব বলেছেন, এই প্রকল্পের কাজ যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়নের জন্য তিন দেশ আলোচনা চালিয়ে যাবে।

রাশিয়া গ্যাস সরবরাহ কমাতে থাকায় জার্মানিসহ মধ্য ইউরোপের দেশগুলোতে গ্যাসের দাম লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতে ইউরোপের দিশেহারা অবস্থা।

সামনে শীত মৌসুমে বাড়িঘর গরম রাখতে যে পরিমাণ গ্যাসের প্রয়োজন পড়বে তা কোথা থেকে আসবে সেটি নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। চাহিদা পূরণের কথা মাথায় রেখে ইউরোপের দেশগুলোকে এখন বিকল্প উৎসের কথা ভাবতে হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া যখন ইউক্রেইনে আগ্রাসন শুরু করে তখন থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম হু হু করে বাড়ছে। এরই মধ্যে তেল-গ্যাসের দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে।

সারা বিশ্বে যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মস্কো বলছে, তাদের কারণে নয় বরং রাশিয়ার অর্থনীতি ধ্বংস করতে পশ্চিমা বিশ্ব দেশটির উপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তার জেরেই বিশ্ববাজারে এ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক