০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইমরান খানের প্রতি ‘অমানবিক’ আচরণ: কমনওয়েলথকে সাবেক স্ত্রীর ভাইয়ের চিঠি

চিঠিতে লর্ড জ্যাক গোল্ডস্মিথ লিখেছেন, "আমার ভাগ্নেরা হাজার হাজার মাইল দূরে বসে বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ ও যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছে।"

ইমরান খানের প্রতি ‘অমানবিক’ আচরণ: কমনওয়েলথকে সাবেক স্ত্রীর ভাইয়ের চিঠি
ইমরানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন তার দলের সমর্থকেরা। ছবি রয়র্টাস।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Sep 2026, 01:36 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:53 AM

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের চিকিৎসা ও কারাজীবনের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি আয়োরকর বোচওয়েকে চিঠি দিয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথের ভাই, যুক্তরাজ্যের হাউজ অব লর্ডসের সদস্য লর্ড জ্যাক গোল্ডস্মিথ। 

গত ২২ অগাস্ট লেখা ওই চিঠিতে তিনি ইমরান খানের অধিকার রক্ষায় কমনওয়েলথের সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। 

এর জবাবে কমনওয়েলথ জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানের সাথে এ বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাবে।

২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খান অসংখ্য আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক মামলার মুখে পড়েন। বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। 

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা তার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

ইমরান খান ও জেমিমা গোল্ডস্মিথ।

ইমরান খান ও জেমিমা গোল্ডস্মিথ।

কী বলা হয়েছে গোল্ডস্মিথের চিঠিতে?

চিঠিতে গোল্ডস্মিথ অভিযোগ করেন, গত ১৮ অগাস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে আদিয়ালা জেল থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেও পাকিস্তান সরকার তা যথাযথভাবে পালন করেনি। 

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল,  একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, সাধারণ চিকিৎসক ও তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন প্যানেল গঠন করে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে।

কিন্তু এর বদলে ২০-২১ অগাস্ট রাতে ইমরান খানকে তড়িঘড়ি সরকারি হাসপাতাল পিমস-এ নিয়ে যাওয়া হয় এবং ভোরেই আবার জেলে ফেরত পাঠানো হয়। 

সেখানে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে ডাকা হলেও তাকে ইমরান খানের কাছে যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন গোল্ডস্মিথ। 

চিঠিতে ইমরান খানের বোন ডা. উজমা খানের বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রায় দশ মাস পর তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছিলেন। ইমরান খান তার দীর্ঘ নিঃসঙ্গ কারাবাসকে ‘মারাত্মক নির্যাতন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এমনকি তিনি মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির (যিনি দীর্ঘ কারাবাসের পর মারা যান) পরিণতির সঙ্গে নিজের অবস্থার তুলনা করেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

লর্ড জ্যাক গোল্ডস্মিথ ব্যক্তিগতভাবে ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথের ভাই। সে হিসেবে তিনি ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিমের মামা।

চিঠিতে এই ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা তুলে ধরে গোল্ডস্মিথ লিখেছেন, "আমার ভাগ্নেরা হাজার হাজার মাইল দূরে বসে বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে চরম উদ্বেগ ও যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছে।"

কমনওয়েলথের জবাব

জ্যাক গোল্ডস্মিথের চিঠির জবাবে গত ২ সেপ্টেম্বর একটি ফিরতি চিঠি দেন কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি আয়োরকর বোচওয়ে।

চিঠিতে তিনি সরাসরি কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা হস্তক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দেননি। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, কমনওয়েলথ সচিবালয় মানবাধিকার, আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চার মত বিষয়গুলোকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে।

মহাসচিব তার চিঠিতে বলেন, "কমনওয়েলথ চার্টারে বর্ণিত নীতি ও মূল্যবোধ রক্ষায় আমরা সব সদস্য দেশের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যে আমরা অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রের মত পাকিস্তানের সঙ্গেও গঠনমূলক আলোচনা অব্যাহত রাখব।"

সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের কারণে কমনওয়েলথ এর আগে দুই দফা পাকিস্তানের সদস্যপদ স্থগিত করেছিল।

১৯৯৯ সালের ১২ অক্টোবর পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল পারভেজ মোশাররফ প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করলে কমনওয়েলথ মিনিস্টেরিয়াল অ্যাকশন গ্রুপ কমনওয়েলথের কাউন্সিলগুলোর কার্যক্রমে পাকিস্তানের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

প্রায় সাড়ে চার বছর পর, ২০০৪ সালের মে মাসে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

এরপর ২০০৭ সালের ৩ নভেম্বর সেনাপ্রধান ও প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং সংবিধানের কার্যকারিতা ব্যাপকভাবে স্থগিত করেন। কমনওয়েলথ সে সময় মোশাররফকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার, আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সেনাপ্রধানের পদ ছেড়ে দেওয়ার জন্য সময় বেঁধে দেয়।

তা পুরোপুরি পূরণ না হওয়ায় ২২ নভেম্বর কমনওয়েলথে পাকিস্তানের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়। পরে ২০০৮ সালের ১২ মে সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেয় কমনওয়েলথ।

১৯৪৭ সালে কমনওয়েলথে যোগ দেওয়া পাকিস্তান আরও একবার এ জোটে জটিলতায় পড়েছিল।

১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ব্রিটেন এবং অন্যান্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে শুরু করলে এর প্রতিবাদে পাকিস্তান ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি কমনওয়েলথ থেকে বেরিয়ে যায়। ওই বছর ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ কমনওয়েলথের সদস্য হয়।

সতের বছর পর ১৯৮৯ সালে পাকিস্তান আবার কমনওয়েলথে ফিরে আসে।

পুরনো খবর

ইমরান খানের চিকিৎসায় ব্রিটিশ সরকারের হস্তক্ষেপ চান প্রাক্তন