ভারতেই ‘আইফোন ১৪’ উৎপাদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অ্যাপল
ফক্সকন ইতোমধ্যেই চীন থেকে দক্ষিণ ভারতের শহর চেন্নাইয়ের কারখানায় যন্ত্রাংশ আমদানি করে আইফোনের নতুন মডেলের উৎপাদন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে দেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সরকারে মধ্যে বিদ্যমান রাজনৈতিক উত্তেজনা আর মহামারীর লকডাউনে চীন থেকে পণ্য ও যন্ত্রাংশের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আইফোনের পরবর্তী সংস্করণের উৎপাদনে ভারতে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে অ্যাপল।
ভারতে পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে এবং উৎপাদনে সময় খরচ কমাতে অ্যাপল এরইমধ্যে চুক্তিভিত্তিক নির্মাতা ও সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লমবার্গ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ব্লমবার্গ জানিয়েছে, প্রতিটি নতুন আইফোনের ক্ষেত্রে সাধারণত ছয় থেকে নয় মাস বিলম্ব হয় উৎপাদন প্রক্রিয়ায়।
ভারতের ক্ষেত্রে পণ্য উৎপাদনে এই বিলম্ব অ্যাপল কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে ব্লমবার্গ। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অ্যাপল পণ্যের চুক্তিভিত্তিক নির্মাতা ফক্সকন ইতোমধ্যেই চীন থেকে দক্ষিণ ভারতের শহর চেন্নাইয়ের কারখানায় যন্ত্রাংশ আমদানি করে আইফোনের নতুন মডেলের উৎপাদন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে দেখেছে।
অ্যাপল আইফোনের নতুন সংস্করণের নাম নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও বাজার সংশ্লিষ্টরা একে চিহ্নিত করছেন ‘আইফোন ১৪’ নামেই।
ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, ভারতের কারখানায় প্রথম আইফোন ১৪এস উৎপাদনের কাজ সম্পন্ন হতে পারে অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ অথবা নভেম্বর মাসের শুরুতে।
এ প্রসঙ্গে জানতে অ্যাপলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল বার্তাসংস্থা রয়টার্স। তবে সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি অ্যাপল।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের রাজনৈতিক সম্পর্কে সৃষ্ট টানাপোড়েন এবং সর্বশেষ কোভিড মহামারীর লকডাউনে আইফোনের উৎপাদন ও সরবরাহ থমকে যাওয়া বিকল্প উৎপাদনকারী দেশ খুঁজছিল অ্যাপল। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন বাজার আছে ভারতে।
ইতোমধ্যেই ভারতে আইফোনের কয়েকটি মডেলের উৎপাদন চলছে। রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটিতে আইপ্যাড উৎপাদনের পরিকল্পনাও করে রেখেছে অ্যাপল।
কেবল ভারত নয়, চীনের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর কাছে মেক্সিকো এবং ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোর গুরুত্বও বাড়ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। চীনের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে চাইছে শিল্পখাতের উৎপাদনমুখী কোম্পানিগুলো।
ভিয়েতনামে অ্যাপল ওয়াচ এবং ম্যাকবুক উৎপাদনের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে দেশটির চুক্তিভিত্তিক নির্মাতাদের সঙ্গে অ্যাপলের আলোচনা চলছে বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল জাপানের সংবাদমাধ্যম নিককেই।
