টিকটকের মালিকানা বিক্রির উদ্দেশ্যে নতুন বিল পাস যুক্তরাষ্ট্রে
ইভি খাত থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ সকল ক্ষেত্রেই চীনকে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি বলে বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র, যার পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের নেওয়া সিরিজ পদক্ষেপের সর্বশেষ ঘটনা হল এ বিল।
হয় টিকটক অ্যাপটি বিক্রি করে দিতে হবে নয়তো যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হবে চীনা কোম্পানির মালিকানাধীন জনপ্রিয় এই অ্যাপ - এমন বাধ্যবাধকতা দিয়ে নতুন এক বিল পাশ হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের সদস্য নতুন এ বিলটির পক্ষে সম্মতি দিয়েছেন, যেখানে উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেছে অ্যাপটির মালিক কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি, এমন ঝুঁকি।
এখন বিলটি আইনে পরিণত হবে কি না, তা বিবেচনা করবে মার্কিন সিনেট। আর পরবর্তীতে বিলটি স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে, যিনি এরই মধ্যে এতে স্বাক্ষরের বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়ে রেখেছেন।
এরপর টিকটক বিক্রির জন্য ছয় মাস সময় পাবে বাইটড্যান্স। এর মধ্যে যদি কোম্পানিটি শর্ত পূরণ না করে, তাহলে সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক অ্যাপটি ব্লক হয়ে যাবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
এক প্রকাশ্য শুনানির ছোট বিতর্কে বিলটি প্রস্তাবের এক সপ্তাহ পরই মার্কিন কংগ্রেসে ভোটাভুটি হল, যে পদক্ষেপ এক বছরের বেশি সময় ধরে পরিকল্পনায় রেখেছিল কংগ্রেস।
নিজের নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর লক্ষ্যে গত মাসে টিকটকে যোগ দিয়েছিলেন বাইডেন। ফলে কোম্পানি আশা করেছিল, এ বছর সম্ভাব্য আইনটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কম।
ইভি খাত থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চিপ সকল ক্ষেত্রেই চীনকে জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি বলে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, যার পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনের নেওয়া সিরিজ পদক্ষেপের সর্বশেষ ঘটনা হল এ বিল।
“এটা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুতর এক ঝুঁকি। সিনেটের উচিৎ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনটি পাস করা,” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ বলেন হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর রিপাবলিকান দলের সদস্য স্টিভ স্কেলিস।
এর পরপরই ডেমোক্র্যাট দলের মার্ক ওয়ার্নার ও রিপাবলিকান দলের মার্কো রুবিও এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বিলটির পক্ষে দুই দলের সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি খুবই অনুপ্রেরণামূলক। আর ‘বিলটি সিনেট থেকে পাস করিয়ে একে আইনে পরিণত করতে যে স্বাক্ষর প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করতে’ একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও আশাবাদী তারা।
তবে টিকটকের এক মুখপাত্র বলেছেন, “প্রক্রিয়াটি গোপন ছিল। আর বিলটি আটকে থাকার একমাত্র কারণ ছিল সরাসরি নিষেধাজ্ঞা। আমরা আশা করি, সিনেট ঘটনাগুলো বিবেচনায় নেবে, নিজস্ব নির্বাচন কর্তাদের কথা শুনবে ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব যে আমাদের সেবা ব্যবহার করা ৭০ লাখ ছোট ব্যবসা ও ১৭ কোটি মার্কিন নাগরিকের ওপর পড়বে, সে বিষয়টিও উপলব্ধি করতে পারবে।”
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা জেক সালিভান বলেন, তাদের লক্ষ্য টিকটকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া নয়, বরং এর চীনা মালিকানার প্রভাব শেষ করা।
“টিকটক মার্কিন কোনও কোম্পানির মালিকানাধীন হলে ভালো না কি চীনা মালিকানাধীন? আমরা চাই, টিকটকের শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ডেটা চীনের মতো কোনও দেশে না গিয়ে বরং আমেরিকাতেই থাকুক,” বলেন তিনি।
তবে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র অংশের সম্পদ ছয় মাসে বিক্রি হতে পারে বা চীন অ্যাপটি বিক্রি করার সিদ্ধান্তে সম্মতি দেবে কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
আর বাইটড্যান্স এমনটি করতে ব্যর্থ হলে, অ্যাপল, গুগল ও অন্যান্য অ্যাপ স্টোর বাইটড্যান্স নিয়ন্ত্রিত অ্যাপ্লিকেশনগুলোয় ওয়েব হোস্টিং সেবা দেওয়ার আইনি বৈধতা হারাবে।
এদিকে, ২০২০ সালে টিকটক ও চীনা মালিকানাধীন মেসেজিং সেবা উইচ্যাটে নিষেধাজ্ঞা দিতে চেয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে, তা নাকচ করে দেয় মার্কিন আদালত।
তবে সম্প্রতি অ্যাপটির সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নিজ শঙ্কার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া, সম্ভাব্য আইনটির প্রভাব টেনসেন্ট মালিকানাধীন উইচ্যাট বা অন্যান্য হাই প্রোফাইল চীনা মালিকানাধীন অ্যাপগুলোর ওপর পড়বে কি না, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়।
