২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

মাস্কের স্টারলিংকের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী বেজোসের ‘টেরাওয়েভ’

গোটাবিশ্বে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা দেবে ‘টেরাওয়েভ’ নামের প্রকল্প, যেখানে অন্যান্য প্রতিযোগী সেবার তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে তথ্য আদান-প্রদান করা যাবে।

মাস্কের স্টারলিংকের নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী বেজোসের ‘টেরাওয়েভ’
তাদের এ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সর্বোচ্চ গতি হবে প্রতি সেকেন্ডে ৬ টেরাবিট। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Jan 2026, 02:23 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:46 PM

ইলন মাস্কের স্টারলিংককে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবার মহাকাশে বিশাল স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে তার এ উদ্যোগ।

বেজোসের রকেট কোম্পানি ‘ব্লু অরিজিন’ বলেছে, নতুন এক যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির জন্য মহাকাশে পাঁচ হাজার চারশটিরও বেশি স্যাটেলাইট পাঠাবে তারা।

বিবিসি প্রতিবেদনে লিখেছে, গোটাবিশ্বে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা দেবে কোম্পানিটির ‘টেরাওয়েভ’ নামের এ প্রকল্প।

ব্লু অরিজিনের দাবি, অন্যান্য প্রতিযোগী সেবার তুলনায় অনেক দ্রুতগতিতে বিশাল পরিমাণ তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে তাদের এই সেবা।

তবে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে হাজার হাজার স্যাটেলাইট পাঠানোর পরও সংখ্যার দিক থেকে ইলন মাস্কের স্টারলিংকের চেয়ে অনেক পিছিয়ে থাকবে ব্লু অরিজিন। বর্তমানে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে স্টারলিংকের একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে।

সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ইন্টারনেট ও ফোন সেবা দিয়ে থাকে মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স-এর আওতাধীন স্টারলিংক। অন্যদিকে, ব্লু অরিজিন বলেছে, তাদের ‘টেরাওয়েভ’ মূলত ডেটা সেন্টার, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের ওপর বেশি গুরুত্ব দেবে।

ব্লু অরিজিনের দাবি অনুসারে, তাদের এ নেটওয়ার্কের সর্বোচ্চ গতি হবে প্রতি সেকেন্ডে ৬ টেরাবিট, যা বর্তমানে বাজারে থাকা অন্যান্য বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট সেবার চেয়ে অনেক বেশি দ্রুতগতির।

টেরাওয়েভের জন্য আরও বড় প্রতিযোগী হচ্ছে মার্কিন ই কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন। এ কোম্পানিটিই বেজোসকে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবেরে পরিণত করেছে। ২০২১ সালে অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও বর্তমানে কোম্পানিটির নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন বেজোস।

অ্যামাজনের নিজস্ব স্যাটেলাইট প্রকল্পের নাম হচ্ছে ‘লিও। গত সপ্তাহে ডজনখানেক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর বর্তমানে মহাকাশে প্রায় একশ ৮০টি স্যাটেলাইট রয়েছে তাদের। তবে কোম্পানিটির পরিকল্পনা রয়েছে কক্ষপথে তিন হাজারেও বেশি স্যাটেলাইট বসানোর।

স্টারলিংকের মতোই অ্যামাজনও ব্যবসা বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে সাধারণ মানুষের ওপর বেশি নজর দিচ্ছে। ‘লিও’কে বিশ্বজুড়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরছে কোম্পানিটি।

তবে তাদের সব স্যাটেলাইট ঠিক কবে নাগাদ মহাকাশে পাঠানো শেষ হবে সে বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি অ্যামাজন।

অন্যদিকে, ব্লু অরিজিন বলেছে, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ‘টেরাওয়েভ’ প্রকল্পের বিভিন্ন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ শুরু করবে তারা।

গেল নভেম্বরে কোম্পানিটি প্রথমবারের মতো ভাসমান এক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের রকেট বুস্টার সফলভাবে অবতরণ করাতে পেরেছে। এর আগে, কেবল স্পেসএক্স এ কঠিন কাজটি করে দেখাতে পেরেছিল।

গেল বছরের এপ্রিলে ব্লু অরিজিন ১১ মিনিটের এক মহাকাশ যাত্রা সম্পন্ন করে, যার ক্রু বা অভিযাত্রী দলের সবাই ছিলেন নারী। এ দলে ছিলেন বেজোসের স্ত্রী লরেন সানচেজ, জনপ্রিয় গায়িকা কেটি পেরি ও সিবিএস চ্যানেলের উপস্থাপিকা গেইল কিং।

তবে এ সফর নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা বা সংকটের এই সময়ে সেলিব্রিটিদের নিয়ে এমন ক্ষণস্থায়ী ও ব্যয়বহুল ভ্রমণ আয়োজন করা ছিল পরিস্থিতির তুলনায় একেবারেই ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’।