চিপ সংকটে বাড়তি দামেও মিলছে না নতুন ম্যাকবুক এয়ার
এআই ডেটা সেন্টারগুলোতে মেমোরি চিপের ব্যাপক চাহিদার ফলে তৈরি বৈশ্বিক চিপ সংকটের কারণেই এ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
দাম বাড়ার পর বিশ্ববাজারে অ্যাপলের জনপ্রিয় পাতলা ও হালকা ওজনের ল্যাপটপ ম্যাকবুক এয়ার-এর তীব্র সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে।
ম্যাকবুক এয়ারের দাম ১ হাজার ৯৯ ডলার থেকে বেড়ে সম্প্রতি ১ হাজার ২৯৯ ডলার হয়েছে। তবে বাড়তি দাম দিতে রাজি থাকলেও বর্তমানে বাজারে ল্যাপটপটি পাওয়ার সুযোগ নেই বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
এআই ডেটা সেন্টারগুলোতে মেমোরি চিপের ব্যাপক চাহিদার ফলে তৈরি বৈশ্বিক ‘র্যামাগেডন’ বা মেমোরি সংকটের কারণেই এ ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্রেতাদের বিকল্প হিসেবে ম্যাকবুক প্রো কেনার দিকে উৎসাহিত করছে অ্যাপল।
মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গের প্রযুক্তি প্রতিবেদক মার্ক গারম্যানকে বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতা সূত্র বলেছে, সোমবারই যদি কেউ নতুন ম্যাকবুক এয়ার অর্ডার করেন তবুও অগাস্টের শেষদিকের আগে তা হাতে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
এমন সংকটের মুখে ক্রেতাদের কোম্পানিটির অন্য মডেলের ল্যাপটপ কিনতে উৎসাহিত করছে অ্যাপল।
গারম্যান লিখেছেন, “নিজের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও অ্যাপল স্টোরগুলোতে গ্রাহকদের ম্যাকবুক এয়ারের বদলে ‘বেইস’ বা মূল ম্যাকবুক প্রো মডেলটি কেনার পরামর্শ সরাসরি তুলে ধরেছে অ্যাপল। এর আগে কোম্পানিটিকে খুব কমই বা কখনোই হয়ত এমনটা করতে দেখা যাযনি।
“কিছু প্রচারণামূলক উপাদানের ওপর অ্যাপল স্পষ্ট করে সতর্কবার্তাও জুড়ে দিয়েছে, যেখানে লেখা রয়েছে, ‘ম্যাকবুক এয়ার পাওয়ার বিষয়টি এর প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করবে’।”
সাধারণত চাহিদা অনুসারে পর্যাপ্ত ম্যাকবুক তৈরিতে অ্যাপলের কখনও তেমন বেগ পেতে হয় না। তবে বর্তমান পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন।
ম্যাকবুক এয়ারের সাম্প্রতিক এ সংকটের নেপথ্যে আংশিকভাবে দায়ী চলমান ‘র্যামাগেডন’ বা মেমোরি চিপ সংকট, যা তৈরি হয়েছে নতুন নতুন এআই ডেটা সেন্টারের অতিরিক্ত মেমোরি চাহিদার কারণে।
এ ছাড়া মার্ক গারম্যান বলেছেন, আসন্ন এম৬ চিপওয়ালা নতুন ল্যাপটপ বাজারে আনার আগে পুরানো স্টক খালির উদ্দেশ্যে অ্যাপল আপাতত ম্যাকবুক এয়ারের চেয়ে ১৪-ইঞ্চির ম্যাকবুক প্রো’র উৎপাদন ও সরবরাহে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
সর্বশেষ আয় ব্যয়ের হিসাবে ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে অ্যাপল।
এরপরও কোম্পানিটি বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের সতর্ক করে বলেছে, পণ্য সরবরাহের এ সীমাবদ্ধতা তাদের আগামী প্রান্তিকের মোট আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে এবং পণ্যের দাম আরও বাড়াতে বাধ্য করতে পারে।
এদিকে, গেল সপ্তাহে চালু হওয়া নতুন ‘অ্যাপল আপগ্রেড প্রোগ্রাম’-এর কারণে ম্যাকবুক সিরিজসহ অন্যান্য অ্যাপল পণ্যের সার্বিক চাহিদা আরও বাড়তে পারে।
