২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬ আশ্বিন ১৪৩৩

অ্যালগরিদম বন্ধের সুযোগ রেখে আইন প্রস্তাব অস্ট্রেলিয়ায়

সামাজিক মাধ্যমে অ্যালগরিদমের নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারকারীদের হাতে রাখতে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে যুগান্তকারী আইন আনতে চলেছে অস্ট্রেলিয়া।

অ্যালগরিদম বন্ধের সুযোগ রেখে আইন প্রস্তাব অস্ট্রেলিয়ায়
নতুন এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আইন অমান্যকারী বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ২৪

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Sep 2026, 06:15 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:31 PM

সামাজিক মাধ্যমের ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকাতে ও ব্যবহারকারীদের স্বাধীনতা বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, যেখানে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে এসব প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব অ্যালগরিদম বাদ দেওয়ার সুযোগ রেখে নতুন আইন করতে চলেছে দেশটির সরকার।

অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার দেশটির ২ কোটি ১০ লাখ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীকে বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির অ্যালগরিদম বাদ দেওয়ার সুযোগ দিয়ে নতুন প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।

এ সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে পেশ করতে যাওয়া ‘ডিজিটাল ডিউটি অফ কেয়ার’ নামের এ আইনের আওতায় এক্স এবং মেটার ইনস্টাগ্রাম ও ফেইসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মকে নির্দেশ দেওয়া হবে, যেন তারা অস্ট্রেলিয়ার ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত রুচি অনুসারে কনটেন্ট সাজানোর অ্যালগরিদম বন্ধ রাখার সুযোগ দেয়।

এর আগে, ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক মাধ্যমে নিষিদ্ধের বিভিন্ন নিয়মকে আরও কঠোর করার জন্য ‘অনলাইন সেইফটি অ্যামেন্ডমেন্ট বিল’ বা অনলাইন নিরাপত্তা সংশোধনী বিলের প্রস্তাব করেছিল অস্ট্রেলিয়া সরকার। বর্তমান খসড়া নিয়মটি সেই বিল থেকে আলাদা।

নতুন প্রস্তাবিত নিয়ম অনুসারে, পপ-আপ বার্তার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই সামাজিক মাধ্যম অ্যালগরিদম বাদ দিতে পারবেন।

অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী অনিকা ওয়েলস বলেছেন, “এসব কোম্পানিকে তাদের প্ল্যাটফর্মে থাকা বিভিন্ন ঝুঁকি চিহ্নিত ও তা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে।”

দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সরকার এমন কিছু বিকল্প বা অপশন নিয়ে ভাবছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের সামাজিক মাধ্যম ফিডে কেবল সেই ব্যক্তিদের কনটেন্ট দেখতে পাবেন যাদের তারা নিজে থেকে ফলো বা অনুসরণ করেন।

অনিকা ওয়েলস বলেছেন, “এসব খসড়া নিয়মের মূল উদ্দেশ্য সামাজিক মাধ্যমে অবৈধ কনটেন্টের প্রচার ঠেকানো এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইটিং ডিসঅর্ডারের মতো ক্ষতিকর আচরণের মুখে পড়ার ঝুঁকি কমিয়ে আনা।”

শিশুদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এ নতুন আইনে বডি ইমেইজ বা শারীরিক গঠন ও সাইবার বুলিয়িং বা বুলিয়িংয়ের মতো বিষয়সহ আরও অন্তত অর্ধ ডজন বিষয় চিহ্নিতের চেষ্টা করা হয়েছে।

নতুন এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আইন অমান্যকারী বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মকে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।

অস্ট্রেলিয়ার নতুন এসব নিয়ম দেশটির নাগরিকদের জন্য কতটা কল্যাণকর হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বিরোধী দল। তাদের আশঙ্কা, এর মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমে সেন্সরশিপের চেষ্টা করা হতে পারে।

বিরোধীদলীয় নেতা অ্যাঙ্গাস টেইলর বলেছেন, “আমি ভীষণ সন্দিহান। আমার আশঙ্কা, এ পদক্ষেপ সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যম সেন্সরের প্রচেষ্টা হতে পারে। তবে, এখনও সেটা দেখিনি।

“আমরা দেখতে চাই শিশুরা সামাজিক মাধ্যমে কী দেখছে তার ওপর অভিভাবকদের যেন আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ থাকে। আমরা এ আইনের বাস্তবায়ন দেখার জন্য অপেক্ষা করব।”

অস্ট্রেলিয়া ঠিক কীভাবে এসব নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন ও এর প্রয়োগ নিশ্চিত করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এদিকে, ১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করায় বিশ্বের প্রথম আইনটি করেছিল অস্ট্রেলিয়া। গবেষণায় দেখা গেছে, ডিসেম্বরে ওই আইন প্রাবর্তনের পরও এ বছরের জুলাই পর্যন্ত দেশটির অধিকাংশ শিশু তাদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছে।

‘কার্টিন ইউনিভার্সিটি’র ইন্টারনেট স্টাডিজের অধ্যাপক তামা লিভার বলেছেন, “ডিজিটাল ডিউটি অফ কেয়ারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে তাদের কমপ্লায়েন্স বা আইন মেনে চলার বিষয়ে স্বচ্ছ হতে বাধ্য করা।

“প্রস্তাবিত ডিজিটাল ডিউটি অফ কেয়ার আইনের অধীনে কোম্পানিগুলো এসব আইন মেনে চলার জন্য কী করছে তা খুঁজে বের করতে ও পরীক্ষার জন্য ই-সেইফটি কমিশনার ও গবেষকদের যোগ করার বিধান থাকতে পারে।”