রেকর্ড পরিমাণ অর্থ চুরি করেছে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা: গবেষণা
জাতিসংঘের অনুমান অনুসারে, এই চুরি করা অর্থের পরিমাণ উত্তর কোরিয়ার মোট রাজস্বের প্রায় ১৩ শতাংশের সমান।
উত্তর কোরিয়ার সরকারের সঙ্গে জড়িত হ্যাকাররা এ বছরে এখন পর্যন্ত দুইশো কোটি ডলারের বেশি চুরি অর্থ চুরি করেছে বলে দাবি গবেষকদের।
তারা বলছেন, ২০২৫ সাল হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার সাইবার অপরাধীদের জন্য রেকর্ড ভাঙার বছর। এ বছর এখন পর্যন্ত হ্যাকিংয়ে সবচেয়ে বেশি ‘সাফল্য’ পেয়েছে হ্যাকাররা।
জাতিসংঘের অনুমান অনুসারে, এই চুরি করা অর্থের পরিমাণ উত্তর কোরিয়ার মোট রাজস্বের প্রায় ১৩ শতাংশের সমান।
পশ্চিমা দেশগুলোর বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা বলছে, এই অর্থ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি চালানোর জন্য ব্যবহার করছে দেশটি।
গত কয়েক বছর ধরে ‘ল্যাজারাস’ নামের হ্যাকিং দলের সদস্যরা মেটা অংকের ডিজিটাল টোকেন চুরির জন্য বিভিন্ন ক্রিপ্টোকরেন্সি কোম্পানিকে টার্গেট করে সাইবার হামলা চালাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছ বিবিসি।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে সবচেয়ে খারাপ মাত্রার সাইবার হামলা চালিয়েছে হ্যাকাররা। ওই সময় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ‘বাইবিট’ থেকে একশ ৪০ কোটি ডলার চুরি করেছিল সাইবার অপরাধীরা।
তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এলিপ্টিক’-এর তদন্তকারীরা সতর্ক করে বলেছেন, মোটা অংকের ক্রিপ্টোমুদ্রা রাখেন এমন ব্যক্তিদেরও এখন বেশি করে টার্গেট করছে সাইবার অপরাধী চক্র।
গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন, সম্পদশালী ব্যক্তিরা ক্রমেই আকর্ষণীয় টার্গেট হয়ে উঠছেন হ্যাকারদের কাছে। কারণ এসব ব্যক্তিরা সাধারণত ব্যবসায়িক কোম্পানির মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না।
‘এলিপ্টিক’-এর প্রধান বিজ্ঞানী ড. টম রবার্টসন বলেছেন, ব্যক্তিদের টার্গেট করার বিষয়টি সাধারণত প্রকাশ পায় না। যার মানে হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার মাধ্যমে চালানো হ্যাকিংয়ের আসল সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
“অন্যান্য চুরির ঘটনা সম্ভবত প্রকাশ পায়নি বা অজানা রয়ে গিয়েছে। ফলে সাইবার হামলার ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার যোগ থাকার বিষয়টি বিজ্ঞানভিত্তিকভাবে সঠিক নয়।
“আমরা অনেক চুরির কথা জানি যেগুলোর সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার জড়িত থাকার সূত্র মিললেও নিশ্চিতভাবে দেশটিকে দায়ী করা জন্য যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে নেই।”
এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার যুক্তরাজ্যে দূতাবাসের কাছে মতামতের জন্য যোগাযোগ করে কোনো সাড়া পায়নি বিবিসি। তবে এর আগে, এসব হ্যাকিংয়ের অভিযোগে দেশটির সরকারের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া।
ব্লকচেইনে প্রকাশ্য লেনদেনের তালিকা অনুসরণ করে ক্রিপ্টোমুদ্রা বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের মতো চুরি হওয়া অর্থের পাচার ট্র্যাক করতে পারে ‘এলিপ্টিক’ ও ‘চেইনালাইসিস’-এর মতো অন্যান্য কোম্পানি।
কয়েক বছর ধরে গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা যে পদ্ধতি ও টুল বেশি ব্যবহার করে সেগুলোতে নির্দিষ্ট কিছু ধরন রয়েছে।
এলিপ্টিকের অনুমান, ২০২৫ সালের এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সরকারের মাধ্যমে চুরি করা ক্রিপ্টো সম্পদের মোট জানা মূল্য ছয়শ কোটি ডলারের বেশি।
ফেব্রুয়ারির বাইবিট হ্যাকিংয়ের পাশাপাশি এ বছর এখন পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি সাইবার হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছেন এলিপ্টিকের বিশ্লেষকরা।
জুলাইয়ে ‘উও এক্স’তে এক সাইবার হামলায় ৯ জন ব্যবহারকারীর কাছ থেকে মোট একশ কোটি ডলার চুরি হয়েছিল। আরেকটি ঘটনায় ‘সিডিফাই’ থেকে চুরি হয় ১২ লাখ ডলারের ডিজিটাল কয়েন।
এ বছর উত্তর কোরিয়ার সরকারের মাধ্যমে চালানো হ্যাকিং ২০২২ সালের রেকর্ডকেও পেছনে ফেলেছে। ২০২২ সালে দেশটির হ্যাকারদের বিরুদ্ধে মোট একশ ৩৫ কোটি ডলার চুরির অভিযোগ ছিল।
