গ্রকের বিরুদ্ধে তিন কিশোরীর মামলা, বিপাকে এক্সএআই
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে ওই মেয়েদের অভিভাবকদের বলেছেন, এসব ছবি এক্সএআইয়ের গ্রক ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে।
ছবি ব্যবহার করে শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট তৈরির অভিযোগে ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানি এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে ক্লাস অ্যাকশন মামলা করেছে তিন কিশোরী।
আগে থেকেই বিশ্বজুড়ে এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত চলছিল। কারণ কোম্পানির এআই টুল গ্রক ব্যবহার করে হাজার হাজার অপ্রাপ্তবয়স্কের ছবি বিকৃত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল।
বিশ্বজুড়ে একাধিক তদন্তের মুখে থাকা এ আইনি লড়াই এখন এআই প্রযুক্তির সুরক্ষা ও নৈতিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদে সাইট এনগ্যাজেট।
ক্যালিফোর্নিয়ায় এ মামলায় তিন টিনএজারের অভিযোগ, তাদের ছবি ব্যবহার করে গ্রক আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি করেছে।
মামলার দাবি অনুসারে, গেল ডিসেম্বরে এক কিশোরী জানতে পারে কেউ একজন এআই দিয়ে তার ও অন্যান্য অপ্রাপ্তবয়স্কদের তৈরি ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব ছবিতে তাদের ‘পরিচিত পরিবেশেই দেখা যাচ্ছিল। তবে সেগুলোকে কৃত্রিমভাবে আপত্তিকর ও যৌনতামূলক ভঙ্গিতে বিকৃত করা হয়েছে’।
অভিযোগ রয়েছে, এসব ছবি ও ভিডিও ডিসকর্ড, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে শেয়ার এবং শিশুদের অন্যান্য যৌন নিপীড়নমূলক ছবির বিনিময়ে ‘পণ্য’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
মামলাটিতে আরও বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করে ওই মেয়েদের অভিভাবকদের বলেছেন, এসব ছবি এক্সএআইয়ের গ্রক ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে।
মামলার নথিতে অনুসারে, টেনেসিতে বসবাসকারী ওই তিন কিশোরী (যাদের নাম গোপন রাখতে ‘জেন ডো ১, ২ ও ৩’ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে) এই ঘটনায় প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন।
ওই কিশোরীদের আইনজীবীরা লিখেছেন, “এসব যৌন নিপীড়নমূলক ছবি তৈরি ও ছড়িয়ে পড়ার কারণে কিশোরীদের প্রাইভেসি, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে এবং তাদের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
“এক্সএআই তাদের ইমেজ ও ভিডিও তৈরির টুলটি জনপ্রিয় করে যে আর্থিক মুনাফা করেছে তা কিশোরীদের জীবন ও সুস্থতার বিনিময়ে পেয়েছে।”
বাদীপক্ষের দাবি, তারা “এখন গোটা জীবন এই আতঙ্ক নিয়ে বেঁচে থাকবেন যে, তাদের এই আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নকারীদের মাধ্যমে বারবার কেনাবেচা বা পাচার হতে পারে।”
বর্তমানে এ মামলায় কেবল তিনজনের নাম উল্লেখ থাকলেও অভিযোগে বলা হয়েছে, বিষয়টি আসলে ‘হাজার হাজার অপ্রাপ্তবয়স্ক’ টিনএজারকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, যাদের ছবি গ্রক ব্যবহার করে বিকৃত হয়েছে।
এ ছাড়া মামলায় অভিযোগ উঠেছে, শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নমূলক ছবি তৈরি ও প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা আইনসহ আরও বেশ কিছু আইন লঙ্ঘন করেছে এক্সএআই।
এ মামলা নিয়ে এনগ্যাজেটের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মাস্কের প্লাটফর্মটি। কোম্পানিটি বর্তমানে সম্মতিহীন নগ্ন ছবি তৈরির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে একাধিক তদন্তের মুখে রয়েছে।
‘সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেইট’-এর গবেষকরা জানুয়ারিতে এক হিসেবে বলেছেন, গ্রক লাখ লাখ যৌনতাপূর্ণ ছবি তৈরি করেছে, যার মধ্যে অন্তত ২৩ হাজার ছবি শিশুদের হতে পারে।
