এবার সুইজারল্যান্ড নিজেই আনল ওপেনসোর্স এআই মডেল
‘অ্যাপারটাস’কে সম্পূর্ণ ওপেন সোর্স হিসেবে ডিজাইন করেছে সুইজারল্যান্ড, যা ব্যবহারকারীদের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার যে কোনও অংশ দেখার সুযোগ দেবে।
এআই প্রতিযোগিতার দৌড়ে নতুন খেলোয়াড় যোগ হয়েছে। আর এটি কোনও নতুন এআই কোম্পানি নয়, বরং গোটা একটি দেশ। নিজস্ব ওপেন-সোর্স এআই মডেল চালু করেছে সুইজারল্যান্ড।
‘অ্যাপারটাস’ নামের ওপেন-সোর্স ‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ বা এলএলএম উন্মোচন করেছে দেশটি। সুইজারল্যান্ড আশা করছে, চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের মতো নানা এআই কোম্পানির তৈরি বিভিন্ন মডেলের বিকল্প হয়ে উঠবে তাদের নতুন এই মডেল।
‘অ্যাপারটাস’ লাতিন শব্দ, যার অর্থ ‘উন্মুক্ত বা খোলা’। মডেলটি তৈরি করেছে ‘সুইস ফেডারেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট অফ লসান’ বা ইপিএফএল ও ‘ইটিএইচ জুরিখ অ্যান্ড ‘সুইস ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সেন্টার’ বা সিএসসিএস। এ সবকটিই সরকারি প্রতিষ্ঠান।
এআই সমর্থক ও এআইকে সুইজারল্যান্ডের জনসাধারণের অবকাঠামো হিসাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছেন জোশুয়া ট্যান। তিনি বলেছেন, “বর্তমানে আমাদের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক এআই মডেল অ্যাপারটাস, যেটি জনস্বার্থে সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তৈরি এক মডেল। এআই কোনো দেশের মহাসড়ক, পানি বা বিদ্যুতের মতো জাতীয় অবকাঠামোর মতো রূপও হতে পারে, আর আমাদের এই মডেল তারই প্রমাণ।”
‘অ্যাপারটাস’কে সম্পূর্ণরূপে ওপেন সোর্স হিসেবে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করেছে সুইজারল্যান্ডের সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠান, যা ব্যবহারকারীদের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার যে কোনও অংশ দেখার সুযোগ দেবে।
এআই মডেলটি ছাড়াও এর প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার বিস্তৃত ডকুমেন্টেশন ও সোর্স কোড প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠান দুটি। একইসঙ্গে তারা মডেলটি তৈরিতে তারা যেসব ডেটাসেট ব্যবহার করেছে সেগুলোও প্রকাশ করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযক্তি সাইট এনগ্যাজেট।
সুইস ডেটা সুরক্ষা ও কপিরাইট আইন মেনে চলার জন্য ‘অ্যাপারটাস’কে তৈরি করেছে সুইজারল্যান্ড। ফলে ইউরোপীয় নিয়ম মেনে চলতে চাওয়া বিভিন্ন কোম্পানির জন্য এআই মডেলটি ভালো বিকল্প হতে পারে।
এর আগে, ‘সুইস ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন’ বলেছিল, দেশীয় কোনো এআই মডেল বা এলএলএম তাদের জন্য হতে পারে ‘দীর্ঘমেয়াদী এক সম্ভাবনা’। কারণ, সুইজারল্যান্ডের কঠোর স্থানীয় ডেটা সুরক্ষা ও ব্যাংকের বিভিন্ন গোপনীয়তা নিয়ম আরও ভালভাবে মেনে চলতে পারবে সুজারল্যান্ডের নিজের তৈরি এআই মডেল।
তবে এই মুহূর্তে বিভিন্ন সুইস ব্যাংক নিজেদের প্রয়োজনে অন্যান্য কোম্পানির এআই মডেলগুলো ব্যবহার করছে। ফলে তারা এ নতুন ‘অ্যাপারটাস’ মডেলের ব্যবহার শুরু করবে কি না তা এখন দেখার বিষয় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে এনগ্যাজেট।
সুইজারল্যান্ডের এ নতুন মডেলটি যে কেউ ব্যবহার করতে পারবেন। বর্তমানে আটশ কোটি ও সাত হাজার কোটি প্যারামিটারসহ দুটি আকারে পাওয়া যাচ্ছে ‘অ্যাপারটাস। বর্তমানে সুইস তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি কোম্পানি ‘সুইসকম’ বা ‘হাগিং ফেইস’-এ পাওয়া যাচ্ছে মডেলটি।
