০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউএসবি-সি পোর্ট কি কেবল চার্জ করার জন্যই? দেখে নিন

ল্যাপটপ পোর্টেবল হলেও কখনো কখনো কাজের খাতিরে স্মার্টফোনটিকেই ছোটখাটো একটি ওয়ার্কস্টেশনে রূপ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।

ইউএসবি-সি পোর্ট কি কেবল চার্জ করার জন্যই? দেখে নিন
টুকটাক কিছু অসুবিধার পরও একটি মাত্র কানেক্টর দিয়ে নানান সৃজনশীল ও দরকারি কাজ করার সুযোগই ইউএসবি-সি সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক। ছবি: ম্যাগনিফিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2026, 02:45 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:27 PM

চার্জ করার বাইরেও আধুনিক স্মার্টফোনের ইউএসবি-সি পোর্ট দিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা সম্ভব।

প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, এক্সটার্নাল ডিসপ্লে যোগ থেকে শুরু করে গেইম কন্ট্রোলার ও নানা দরকারি সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ এনে দিয়ে পোর্টটি বদলে দিতে পারে ব্যবহারকারীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা। 

২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে স্মার্টফোনের চার্জিং পোর্টে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল। একদিকে অ্যাপল তাদের নিজস্ব ‘লাইটিং’ কেবল নিয়ে ব্যস্ত ছিল, অন্যদিকে বিভিন্ন অ্যান্ড্রয়েড ফোনে চলছিল অন্য পোর্টের রাজত্ব।

এর মধ্যেই হুট করে বিলুপ্ত হয়ে গেল বহুল ব্যবহৃত ৩.৫ মিলিমিটারের হেডফোন জ্যাক, যা নিয়ে অডিওপ্রেমী থেকে শুরু করে বাড়তি অ্যাডাপ্টার কিনতে বিরক্ত সাধারণ ব্যবহারকারী সবার মনেই ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।

অবশেষে সেই জটিলতা কাটিয়ে একটি একক সমঝোতায় পৌঁছায় মোবাইল নির্মাতা বিভিন্ন কোম্পানি। ব্র্যান্ড যাই হোক না কেন এ দশকে তৈরি যে কোনো স্মার্টফোনে এখন ইউএসবি-সি পোর্ট থাকাটা প্রায় নিশ্চিত।

এ ইউএসবি-সি পোর্ট প্রযুক্তি জগতে সর্বজনীন ও সুবিধাজনক সমাধান হিসেবে দাঁড়িয়েছে। টুকটাক কিছু অসুবিধার পরও একটি মাত্র কানেক্টর দিয়ে নানান সৃজনশীল ও দরকারি কাজ করার সুযোগই এর সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক। তারওয়ালা চার্জিংয়ের পথ সুগম করা ছাড়াও এ পোর্টের রয়েছে বহুমুখী ব্যবহারের সক্ষমতা। জেনে নিন সেসব দিক–

অন্যান্য ডিভাইস চার্জ করা

ল্যাপটপের সঙ্গে যোগ করে ফোন চার্জ করার বিষয়টি সবার জানা থাকলেও ইউএসবি-সি পোর্টের কারণে এ সক্ষমতার দিক এখন উল্টেও যেতে পারে, অর্থাৎ নিজের স্মার্টফোন থেকেই অন্য একটি ফোন, ওয়ারলেস হেডফোন বা স্মার্টওয়াচ চার্জ করা সম্ভব।

এজন্য প্রয়োজন কেবল দুই মাথায় ইউএসবি-সি পিনের একটি কেবল।

ফ্ল্যাশ ড্রাইভ ও মেমোরি কার্ড রিডার সংযোগ

যারা সংবেদনশীল কোনো ফাইল ইমেইল বা ক্লাউড স্টোরেজে আপলোডের ঝুঁকি নিতে চান না তাদের জন্য পোর্টেবল ফ্ল্যাশ ড্রাইভই সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান।

অতীতে এসব ড্রাইভ কেবল ইউএসবি-এ পোর্ট সমর্থন করলেও প্রযুক্তির বিবর্তনে এখন ইউএসবি-সি সমর্থিত ড্রাইভ মিলছে। সর্বোচ্চ সুবিধার জন্য বাজার থেকে ইউএসবি-এ ও ইউএসবি-সি দুই ধরনের পোর্টের সুবিধাওয়ালা পোর্টেবল ড্রাইভ বেছে নেওয়া যেতে পারে।

একইভাবে, স্মার্টফোনে যোগ করা যায় মেমোরি কার্ড রিডারও, বিশেষ করে আলোকচিত্রী বা ভিডিওগ্রাফারদের মতো যারা নিয়মিত বড় আকারের ভারী ফাইল নিয়ে কাজ করেন তাদের জন্য এই সুবিধা বেশ কার্যকর।

বিভিন্ন ডিভাইসে ব্যবহারের সুবিধার্থে বাজারে ইউএসবি-এ ও ইউএসবি-সি উভয় পোর্টওয়ালা কার্ড রিডার পাওয়া যায়। কাজের ধরন বুঝে এসডি ও মাইক্রোএসডি উভয় কার্ডে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে এমন ডিভাইস বাছাই করাই শ্রেয়।

চলতে ফিরতে টাইপিংয়ের সুবিধা

ল্যাপটপ যথেষ্ট পোর্টেবল হলেও কখনো কখনো কাজের খাতিরে নিজের স্মার্টফোনটিকেই ছোট খাটো একটি ওয়ার্কস্টেশনে রূপ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে। ইউএসবি-সি পোর্টের মাধ্যমে যে কোনো তারওয়ালা কিবোর্ড ফোনে যোগ করে খুব সহজেই দ্রুত গতিতে টাইপ করা সম্ভব।

কেবল দুটি বুড়ো আঙুলের ওপর ভরসা না করে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ইমেইল বা দীর্ঘ ফাইল লিখতে এই সুবিধা দারুণ কাজের।

এক্সটার্নাল ডিসপ্লে যোগ করা

আকারে বড় হলেও ভিডিও বা কাজের জন্য স্মার্টফোনের পর্দা অনেক সময় যথেষ্ট মনে নাও হতে পারে। স্পষ্ট ও বড় দৃশ্যপটের জন্য ইউএসবি-সি কেবলের সাহায্যে ফোনকে এক্সটার্নাল মনিটর বা টেলিভিশনের সঙ্গে যোগ করা যায়।

ব্যাটারি দ্রুত শেষ করে ফেলা অকেজো ‘স্ক্রিন মিররিং’ বা ‘কাস্টিং’-এর বিকল্প হিসেবে এসব তারওয়ালা সংযোগ দারুণ কার্যকর। কেবল মনিটরে যোগ করতে চাইলে একটি ‘ইউএসবি-সি টু এইচডিএমআই’ অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। একসঙ্গে একাধিক সংযোগ চাইলে আটটি ভিন্ন পোর্টওয়ালা হাব ব্যবহার করাই সেরা উপায়।

উচ্চমানের অডিও রেকর্ড

অনেক কনটেন্ট নির্মাতা এখন পুরো কাজই মোবাইল ফোন দিয়ে সম্পন্ন করেন। যে কোনো ভালো ভিডিওর জন্য মানসম্মত অডিও গুরুত্বপূর্ণ। রেকর্ডিংয়ের পরিবেশ ও প্রয়োজন অনুসারে বর্তমানে ইউএসবি-সি পোর্ট উপযোগী নানা ধরনের অডিও মাইক্রোফোন পাওয়া যাচ্ছে।

মোবাইলে রেকর্ডিংয়ের মান বহুগুণ বাড়িয়ে নিতে ব্যবহারকারীদের বাজেট ও কাজের চাহিদা অনুসারে বাজারে মিলছে নানা ধরনের মাইক্রোফোন।

তারওয়ালা হেডফোন ব্যবহার

কঠোর ব্যায়ামের সময় ব্যবহারের উপযোগী মজবুত হেডফোন হোক বা লসলেস অডিও উপভোগের টুলই হোক না কেন সব সময় তারবিহীন হেডফোন মনের মতো অভিজ্ঞতা নাও দিতে পারে।

তারওয়ালা হেডফোনই পছন্দ হলে ‘বোস’ ‘জেনহাইজার’ বা জেবিএল-এর মতো শীর্ষ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নতুন মডেলে সরাসরি ইউএসবি-সি কেবলই দেওয়া থাকছে। তবে পুরানো দিনের ৩.৫ মিমি পোর্টের হেডফোন থাকলে কেবল সাশ্রয়ী ইউএসবি-সি অ্যাডাপ্টার জুড়েই পুরানো হেডফোন দিয়ে চমৎকার অডিও উপভোগ করা সম্ভব।

গেইমিংয়ের অভিজ্ঞতা

ইউএসবি-সি পোর্টের মাধ্যমে ফোনে গেইম খেলার স্বাচ্ছন্দ্য বাড়িয়ে নেওয়া যায় কয়েক গুণ। ব্লুটুথের ল্যাটেন্সি বা সংযোগ বিলম্বের সমস্যা এড়াতে সরাসরি তারের মাধ্যমে ফোনের সঙ্গে গেইম কন্ট্রোলার যোগ করে খেলা বেশি উপভোগ্য হতে পারে।

প্লেস্টেশন ও এক্সবক্সের মতো জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের গেইম কন্ট্রোলার এখন অ্যাপল ও অ্যান্ড্রয়েড উভয় ডিভাইসেই অনায়াসে সমর্থন করে।

এ ছাড়া, স্মার্টফোনকে একটি পোর্টেবল গেইমিং কনসোলে রূপ দিতে ব্যাকবোন ওয়ান বা রেজাক কিশি’র মতো মোবাইল গেইম কন্ট্রোলার ব্যবহৃত হতে পারে। এতে স্ক্রিনে হাত না রেখে ‘স্টিম ডেক’ বা ‘নিনটেনডো সুইচ’-এর মতো পুরোপুরি গেইম কনসোলের অভিজ্ঞতা মেলে।

বৈজ্ঞানিক ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চালনা

মানুষের প্রতিদিনের কাজে না লাগলেও ইউএসবি-সি পোর্টের মাধ্যমে বেশ কিছু কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম স্মার্টফোনে যোগ করে ব্যবহার করা যায়। এসব পোর্টেবল ডিভাইস প্রচলিত বড় বিভিন্ন যন্ত্রের মতো সক্ষমতার না হলেও দূরবর্তী স্থানে কারিগরি সরঞ্জাম সহজে বহনের সুবিধাটাই এখানে মুখ্য।

কারিগররা দ্রুত কোনো ত্রুটি অনুসন্ধানের জন্য কিটে ‘এন্ডোস্কোপ ক্যামেরা’ রাখতে পারেন। অন্যদিকে, স্মার্টফোন দিয়ে পরিচালিত পোর্টেবল ‘আল্ট্রাসাউন্ড’ যন্ত্রের মাধ্যমে চিকিৎসকরা দুর্গম অঞ্চলেও সাধারণ রোগীদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারেন।