‘গোল্ডেন ডোম’: ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক চুক্তি পেল স্পেসএক্স
‘গোল্ডেন ডোম’ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার পেছনে আগামী ২০ বছরে দেশটির আনুমানিক ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে।
মহাকাশ গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও টেলিযোগাযোগের পর ইলন মাস্কের বহুমুখী ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে এবার যোগ হল সামরিক প্রতিরক্ষা খাত।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে বিদেশি প্লেন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নজরদারি রাখার স্যাটেলাইট তৈরির জন্য মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্স’কে ৪১৬ কোটি ডলারের বড় চুক্তি দিয়েছে মার্কিন ‘স্পেস ফোর্স’।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রকল্পের জন্য ‘স্পেস-বেইসড এয়ারবোর্ন মুভিং টার্গেট ইন্ডিকেটর’ নামে আরও এক প্রাতিষ্ঠানিক নাম ব্যবহার করেছে মার্কিন সংস্থাটি।
তবে ‘গোল্ডেন ডোম’ মূলত সেই একই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার পেছনে আগামী ২০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের আনুমানিক ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে।
স্পেস ফোর্সের প্রেস রিলিজ অনুসারে, মহাশূণ্যে থাকা যে কোনো লক্ষ্যবস্তুকে সার্বক্ষণিক এবং বিশ্বজুড়ে শনাক্ত ও নজরদারির জন্য এ প্রকল্পে ‘উন্নত মহাকাশভিত্তিক সেন্সর, সুরক্ষিত ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী গ্রাউন্ড প্রসেসিং’ ব্যবহৃত হবে।
সংস্থাটি বলেছে, এ দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের অংশ হিসেবে তারা আরও বেশ কয়েকটি চুক্তি সম্পাদন করবে।
তবে স্পেসএক্সের সঙ্গে করা এ প্রাথমিক চুক্তির মূল লক্ষ্য, ২০২৮ সালের মধ্যে মহাকাশে সম্পূর্ণ ‘স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন’ বা স্যাটেলাইটের ঝাঁক তৈরি করা।
এর আগে, গেল বছরের শেষদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে লিখেছিল, গোল্ডেন ডোম প্রকল্পে সহায়তার জন্য স্পেসএক্স ২০০ কোটি ডলারের চুক্তি পেতে যাচ্ছে।
তবে এ গোল্ডেন ডোম প্রকল্পের আওতার বাইরেও এ সপ্তাহের শুরুতে স্পেস ফোর্স আরেকটি ২২৯ কোটি ডলারের চুক্তির জন্য স্পেসএক্স’কে নির্বাচন করেছে।
এসব চুক্তির বিষয়টি শুনতে একই রকম মনে হলেও আগের চুক্তিটি মহাকাশভিত্তিক ‘শক্তিশালী ও উচ্চ-গতির যোগাযোগ নেটওয়ার্ক’ তৈরির জন্য দেওয়া হয়েছে।
তবে যোগাযোগে কাজের জন্য স্পেস ফোর্স এবারই প্রথম স্পেসএক্সের শরণাপন্ন হল বিষয়টি এমন নয়।
এর আগেও সামরিক যোগাযোগের কাজে এ কোম্পানির ‘স্টারশিল্ড’ প্রোগ্রাম ব্যবহারের জন্য সংস্থাটি ৭ কোটি ডলারের চুক্তি অনুমোদন করেছিল।
