এফটিসি ও মার্কিন ২২ অঙ্গরাজ্যের মামলার মুখে অ্যামাজন
ওয়েবসাইটের স্পনসর্ড পণ্য ও অন্যান্য বিজ্ঞাপনের নিলামে ‘গোপন চার্জ’ যোগ করে দিনের পর দিন বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রতারিত করে আসছে অ্যামাজন।
বিজ্ঞাপন নিলামে গোপন বাড়তি ফি যোগ করে শত শত কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মার্কিন ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন বা এফটিসি ও ২২টি অঙ্গরাজ্য।
এফটিসির তথ্য অনুসারে, টানা ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে গোপন কৌশলে বিজ্ঞাপনের দর বাড়িয়ে অ্যামাজন এ মোটা অংকের অর্থ আয় করেছে।
সোমবার দাখিল করা মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ওয়েবসাইটের স্পনসর্ড পণ্য ও অন্যান্য বিজ্ঞাপনের নিলামে ‘গোপন চার্জ’ যোগ করে দিনের পর দিন বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রতারিত করে আসছে অ্যামাজন।
এর ফলে আমাজনের প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে অজান্তেই অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হয়েছে ক্রেতাদের।
বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে একাধিক কর্মী উদ্বেগ প্রকাশ করলেও খুচরা বিক্রির এই শীর্ষ কোম্পানিতে দীর্ঘদিন ধরে এ প্রথা চলে আসছিল।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, “অ্যামাজনের ওয়েবসাইটে যখনই কোনো ক্রেতা একটি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করেছেন প্রায় প্রতিবারই বিজ্ঞাপনদাতাদের ওপর সফলভাবে এ গোপন চার্জ চাপিয়ে দিতে পেরেছে কোম্পানিটি।”
এফটিসির দাবি, প্রতারণামূলক এ কৌশল ‘এখনও’ রয়েছে ও এর মাধ্যমে অসচেতন বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে অ্যামাজন অবৈধভাবে ২ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি হাতিয়ে নিয়েছে।
মামলার বেশ কিছু বিবরণ গোপন রাখা হলেও অ্যামাজনের অভ্যন্তরীণ নথি ও মেমো থেকে পাওয়া তথ্য আদালতের এজাহারে তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফটিসি, সেখানে উঠে এসেছে, নিলাম প্রক্রিয়ায় দাম বাড়ানো নিয়ে খোদ কোম্পানিটির কর্মীরাই প্রশ্ন তুলেছিলেন।
এমন এক মেমোর বরাত দিয়ে মামলায় বলা হয়েছে, অ্যামাজনের তরফ থেকে বিষয়টি স্বীকার করে বলা হয়েছিল গোপন ন্যূনতম দাম নির্ধারণের ফলে ‘আমাদের স্বল্পমেয়াদী রাজস্ব বেড়ে যাচ্ছে। এর পরিণামে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের ক্ষতি হবে’।
এফটিসির দাবি, বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে চড়া দাম আদায়ের প্রভাব শেষ পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মটিতে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যার চূড়ান্ত মাশুল দিতে হচ্ছে মার্কিন ভোক্তাদের।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার এ অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে দীর্ঘ এক বিবৃতিতে অ্যামাজন দাবি করেছে, এ মামলায় ‘পণ্যের দাম বাড়ার কোনো প্রমাণ তুলে ধরতে পারেনি এফটিসি’।
সংস্থাটির এ পদক্ষেপকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বর্ণনা করে অ্যামাজন বলেছে, বিজ্ঞাপনের নিলাম কীভাবে পরিচালিত হয় তা তারা ‘মৌলিকভাবেই বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে’।
“গেল ছয় বছরের আনুমানিক ১৫ লাখ পৃষ্ঠার নথি পর্যালোচনা করে এফটিসি হাতে গোনা কয়েকটি সরলীকৃত বার্তার ওপর ভিত্তি করে পুরো কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
