২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

শিশুদের মধ্যে ‘আসক্তি তৈরি করে’ টিকটকের অ্যালগরিদম

টিকটক শিশুদের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আসক্তিমূলক করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।

শিশুদের মধ্যে ‘আসক্তি তৈরি করে’ টিকটকের অ্যালগরিদম
এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪টি অঙ্গরাজ্য টিকটকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। ছবি: ফ্রিপিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Aug 2025, 03:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:37 PM

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য এবার জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগ, এ সামাজিক মাধ্যমটি তরুণ ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে ‘আসক্তিকর অ্যালগরিদম’ ব্যবহার করছে।   

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, স্টেট আদালতে দায়ের করা মামলায় টিকটককে মিনেসোটার প্রতারণামূলক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ভোক্তা প্রতারণা-বিরোধী আইন ভঙ্গের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।

মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন বলছেন, “এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নয়, যদিও তারা এটাই দাবি করবে। আসলে এটি প্রতারণা, এক ধরনের কৌশল এবং ভুল উপস্থাপন। এটি এমন এক কোম্পানিকে নিয়ে যারা তাদের পণ্যের বিপদ ও ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানে, কিন্তু কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়নি কিংবা ব্যবহারকারীদের ঝুঁকির ব্যাপারে সতর্কও করেনি।”

এ মামলাটি গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজনেরও বেশি অঙ্গরাজ্যে দায়ের করা মামলারই ধারাবাহিকতা। ওই অঙ্গরাজ্যগুলোতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ ছিল, টিকটক শিশুদের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে আসক্তিমূলক করে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে।  

এলিসনের দপ্তর বলছে, মিনেসোটার মামলাসহ এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪টি অঙ্গরাজ্য টিকটকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।

২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শুরু হওয়া এক তদন্ত থেকে টিকটকের বিরুদ্ধে মামলা হতে শুরু করে। তদন্তে ১৪টি অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেলরা একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। সেই তদন্তের মূল লক্ষ্য ছিল টিকটক তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলছে তা খতিয়ে দেখা। 

মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তারা নিজেদের তদন্ত শেষ করার জন্যই মামলা দায়ের করতে দেরি করেছেন।

রোজভিল এরিয়া স্কুল ডিস্ট্রিক্টের এক মিডল স্কুলের স্বাস্থ্য শিক্ষক শন প্যাডেন মামলার পক্ষে যোগ দিয়ে বলেন, টিকটকের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ‘অস্বাভাবিক বৃদ্ধি’ তিনি সরাসরি লক্ষ্য করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, রাগ, আত্মসম্মান বোধ কমে যাওয়া, মনোযোগের ঘাটতি যা শিক্ষার্থীরা টিকটকের স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও থেকে দ্রুত আনন্দ পাওয়ার অভ্যাসের কারণে ভোগ করছে।

মামলাটি এমন এক সময় হয়েছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প টিকটককে মার্কিন মালিকানায় আনার জন্য এখনো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কারণ এর মূল কোম্পানি চীনের বাইটড্যান্স, আর অ্যাপটির ১৭ কোটি মার্কিন ব্যবহারকারীর ডেটা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

যদিও ট্রাম্প প্রচারণার সময় টিকটক নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছিলেন, পরে তিনি নিজেই প্ল্যাটফর্মটিতে ভিডিও শেয়ার করা শুরু করে এরইমধ্যে দেড় কোটির বেশি অনুসারী পেয়েছেন।

শেষ পর্যন্ত টিকটকের মালিক যেই হোক না কেন এলিসনের ভাষায়, ‘তাকে আইন মেনে চলতেই হবে।’

অন্যদিকে, টিকটক মিনেসোটার আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

কোম্পানির মুখপাত্র নাথানিয়েল ব্রাউন এক বিবৃতিতে বলেছেন, “এই মামলা বিভ্রান্তিকর ও ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। টিকটক যে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করেছে তা এখানে উপেক্ষা করা হয়েছে।  

“টিকটকে কিশোরদের অ্যাকাউন্টে ৫০টিরও বেশি নিরাপত্তা ফিচার ও সেটিং থাকে, যা তাদেরকে নিরাপদে নিজেদের প্রকাশ করতে, শেখার সুযোগ পেতে এবং কনটেন্ট খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

“এছাড়া ফ্যামিলি পেয়ারিং টুলের মাধ্যমে অভিভাবকরা ২০ টিরও বেশি কনটেন্ট ও প্রাইভেসি সেটিং নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এর মধ্যে স্ক্রিন টাইম, কনটেন্ট ফিল্টার এবং টাইম অ্যাওয়ে ফিচার রয়েছে। টাইম অ্যাওয়ে ফিচারটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অ্যাপ ব্যবহারে বিরতি দেওয়া যায়।   

অন্যদিকে, মিনেসোটা রাজ্য টিকটকের বিরুদ্ধে আদালতের কাছে দাবি করেছে, তাদের কার্যক্রমকে প্রতারণামূলক, অন্যায্য বা অনৈতিক ঘোষণা করা, এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি এবং মিনেসোটায় টিকটক ব্যবহারকারী প্রতিটি শিশুর জন্য ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা করা হোক।

অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন মোট অর্থের হিসাব দিতে রাজি হননি। তবে তিনি বলেন, “এটা অনেক বড় অঙ্ক।” তার ধারণা, মিনেসোটার লাখ লাখ শিশুর ডিভাইসে টিকটক ইনস্টল করা আছে।

এলিসন বলেন, “আমরা টিকটক বন্ধ করতে চাই না। তবে চাই তারা যেন নিজেদের আচরণ ঠিক করে। টিকটকের মতো পণ্য বৈধভাবে ব্যবহার করা যায় কিন্তু সবকিছুর মতো এগুলোও সঠিক ও নিরাপদভাবে ব্যবহারযোগ্য করতে হবে।”

মিনেসোটা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক অঙ্গরাজ্য মেটা প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ফিচার তৈরি করছে যা ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে ফেলে। 

একই ধরনের অভিযোগে স্ন্যাপচ্যাট ও গেইমিং প্ল্যাটফর্ম রোব্লক্স-এর বিরুদ্ধেও কিছু অঙ্গরাজ্যে মামলা চলছে।