৩০ বছর পূর্তিতে ক্যানন ‘জি৭ এক্স মার্ক থ্রি’র বিশেষ সংস্করণ
এ ক্যামেরাটি বিশেষভাবে ভ্লগারদের জন্য তৈরি ক্যাননের প্রথম ক্যামেরাগুলোর মধ্যে একটি। এর মাধ্যমে ইনস্টাগ্রামের জন্য ‘ভার্টিকাল ভিডিও’ ধারণ করা যায়।
ডিজিটাল ফটোগ্রাফির দুনিয়ায় তিন দশকের রাজত্ব উদযাপন করতে ক্যানন নিয়ে এসেছে বিশেষ চমক। তাদের প্রথম পাওয়ারশট ক্যামেরা দিয়ে যে বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল তার ৩০ বছর পূর্তিতে বাজারে আসছে জনপ্রিয় এক মডেলের লিমিটেড এডিশন।
প্রযুুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, ১৯৯৬ সালে ক্যাননের প্রথম ‘পাওয়ারশট’ ক্যামেরা বাজারে আসে, যাতে ছিল কেবল ০ দশমিক ৫ মেগাপিক্সেল সেন্সর। ডিজিটাল ছবির বিপ্লব শুরু করতে বড় ভূমিকা রেখেছিল ক্যামেরাটি।
সেই যাত্রার ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন করতে ‘পাওয়ারশট জি৭ এক্স মার্ক থ্রি’ কম্প্যাক্ট ক্যামেরার একটি লিমিটেড এডিশন উন্মোচন করেছে কোম্পানিটি। এ বিশেষ সংস্করণে অল্প কিছু নতুনত্ব থাকলেও তা মূলত সাত বছর আগে বাজারে আসা মূল মডেলটির মতোই।
এ লিমিটেড এডিশন মডেলটিতে নতুন ‘গ্রাফাইট’ রং ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর সামনের রিংটিতে বিশেষ এক নকশা দিয়েছে কোম্পানিটি, যা ক্যাননের মতে ক্যামেরাটিতে ‘আভিজাত্য ও উচ্চমানের’ আবহ তৈরি করবে।
এ ছাড়া ক্যামেরার বডিতে ৩০ বছর পূর্তির একটি লোগোও প্রিন্ট করা হয়েছে। ক্যানন বলেছে, লিমিটেড এডিশন মডেলের বিশেষ অনুভূতি দেওয়ার জন্যই এ লোগোটি যোগ করেছে তারা।
ক্যাননের ‘জি৭ এক্স মার্ক থ্রি’ বিশেষভাবে ভ্লগারদের জন্য তৈরি প্রথম ক্যামেরাগুলোর মধ্যে একটি। এর মাধ্যমে ইনস্টাগ্রামের জন্য ‘ভার্টিকাল ভিডিও’ বা লম্বালম্বি ভিডিও ধারণ করা যায়।
এ ক্যামেরায় রয়েছে ২০ দশমিক ১ মেগাপিক্সেল সেন্সর, তিন ইঞ্চির ফ্লিপ-আপ টাচস্ক্রিন, ২৪ থেকে ১০০ মিলিমিটার ফাস্ট জুম লেন্স, যার অ্যাপারচার ১.৮ থেকে ২.৮। রয়েছে একটি মাইক্রোফোন ইনপুট।
ক্যামেরাটি কোনো ক্রপ করার প্রয়োজন ছাড়াই ফোরকে ৩০ এফপিএস ভিডিও সাপোর্ট করে ও ১০৮০ পিক্সেল রেজুলিউশনে ১২০ এফপিএস গতিতে ভিডিও ধারণ করতে পারে।
তবে এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল, ক্যামেরাটি দিয়ে সরাসরি ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে ইউটিউবে স্ট্রিমিং করা যায়, যা তখন নতুন থাকলেও বর্তমানে সাধারণ ফিচারে পরিণত হয়েছে। শুরুতে ক্যামেরাটির দাম ছিল ৭৪৯ ডলার।
ক্যামেরাটি ইদানীং বাজারে খুব একটা পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কয়েক বছর আগে ইনফ্লুয়েন্সারদের কাছে এর পুরানো বিভিন্ন মডেল জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় ক্যামেরাটি মূল দামের চেয়েও অনেক বেশি দামে বিক্রি হতে শুরু করে।
এ ভাইরাল জনপ্রিয়তার কারণেই ক্যানন ২০২৫ সালের অগাস্টে উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দেয় ও কয়েক মাস পর ৮৮০ ডলারে তা আবার বাজারে আনতে শুরু করে।
সে তুলনায় এ নতুন লিমিটেড এডিশন ক্যামেরার দাম অনেক বেশি, এক হাজার ২৯৯ ডলার। তবে এর সঙ্গে এক লিমিটেড এডিশন ‘পিক ডিজাইন’ রিস্ট স্ট্র্যাপ ও একটি ৩২ জিবি এসডি কার্ড দিচ্ছে ক্যানন। এপ্রিল মাস থেকে ক্যামেরাটির শিপিং শুরু হবে।
ক্যামেরার পাশাপাশি দুটি দারুণ ‘আরএফ-মাউন্ট’ ফুল-ফ্রেম সেন্সর উপযোগী লেন্সের ঘোষণাও দিয়েছে কোম্পানিটি। প্রথমটি আল্ট্রা-ওয়াইড অ্যাঙ্গেল আরএফ ১৪ মিলিমিটার ফাস্ট-অ্যাপারচার প্রাইম জুম লেন্সের অ্যাপরচার এফ ১.৪, যার দাম ২ হাজার ৫৯৯ ডলার। ফলে ক্যামেরাটি কম আলোতেও উজ্জ্বল ও উচ্চমানের ছবির নিশ্চয়তা দিচ্ছে।
অন্যটি হচ্ছে ১ হাজার ৮৯৯ ডলার মূল্যের আরএফ ৭ থেকে ১৪ মিলিমিটার ফাস্ট-অ্যাপারচার ফিশআই লেন্স, যার অ্যাপারচার ২.৮ থেকে ৩.৫। এসটিএম ফিচারসমৃদ্ধ লেন্সটি সর্বোচ্চ ১৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত ভিউ দেবে।
