০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

অ্যালগরিদম ছাড়া ‘ব্র্যান্ড আধিপত্য’ বাড়বে ফিডে: ইনস্টাগ্রাম প্রধান

অস্ট্রেলিয়ায় কোম্পানিটির বহুল আলোচিত এক সিরিজের উদ্বোধনী উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে ইনস্টাগ্রাম প্রধান এ মন্তব্য করেছেন।

অ্যালগরিদম ছাড়া ‘ব্র্যান্ড আধিপত্য’ বাড়বে ফিডে: ইনস্টাগ্রাম প্রধান
এ ধরনের ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হলে তা প্ল্যাটফর্মের সার্বিক কার্যকারিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 11 Sep 2026, 02:41 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:58 AM

অ্যালগরিদমবিহীন সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আরও খারাপ হবে, অ্যাপটিতে তাদের কাটানো সময় কমে যাবে ও ফিডে ব্র্যান্ড-সম্পর্কিত কনটেন্টের পরিমাণ বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ইনস্টাগ্রামের প্রধান নির্বাহী অ্যাডাম মোসেরি।

অস্ট্রেলিয়ান সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবহারকারীদের অ্যালগরিদম বেছে নেওয়া বা বর্জনের সুযোগ দেওয়ার নতুন পরিকল্পনার প্রেক্ষিতে এমন মন্তব্য সামনে এল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ নতুন এক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন, যার আওতায় বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমগুলোকে ব্যবহারকারীদের সামনে দুটি স্পষ্ট বিকল্প তুলে ধরতে বাধ্য করা হবে।

দুটি বিকল্পের মধ্যে একটি হচ্ছে অ্যালগরিদম-সুপারিশকৃত কনটেন্টের ফিড ও অন্যটি ব্যবহারকারীর অনুসরণ করা বিভিন্ন পেইজের ‘রিভার্স ক্রনোলজিক্যাল’ বা উল্টো কালানুক্রমিক ফিড।

একইসঙ্গে, অনলাইনে ক্ষতিকর বিভিন্ন বিষয় কঠোরভাবে ঠেকাতে লেবার পার্টি বিভিন্ন যুগোপযোগী পদক্ষেপ হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় কোম্পানির বহুল আলোচিত ‘অ্যালগো কনফেশনস’ সিরিজের উদ্বোধনী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে অংশ নিয়ে ইনস্টাগ্রাম প্রধান এ মন্তব্য করেছেন।

অ্যালবানিজ সরকারের প্রস্তাব নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি বলেছেন, ইনস্টাগ্রামে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের বহুমুখী অ্যালগরিদম সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে আছে কোন বন্ধুদের স্টোরি ব্যবহারকারী বেশি ঘন ঘন দেখবেন তা র‍্যাংক করা, পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে চ্যাটিং বা মেসেজ সাজেশনে কোন ব্যবহারকারী প্রথমে আসবে তা নির্ধারণ করা ও সার্বিকভাবে মানুষের ফিডে কোন কনটেন্ট দেখানো হবে তা চূড়ান্ত করা।

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ায় ‘অ্যালগো কনফেশনস’ সিরিজটি চালু হল।

এ উদ্যোগে সেলিব্রিটি ও ইনফ্লুয়েন্সাররা অংশ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন যে, কীভাবে ইনস্টাগ্রাম কোনো ব্যবহারকারীর ফিডে বিভিন্ন কনটেন্ট নির্বাচন করে, এবং, সেটিং থেকে বিভিন্ন ট্যাগ যোগ বা অপসারণ করে ব্যবহারকারী নিজে কীভাবে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন।

সামাজিক মাধ্যমের পুরানো রূপ ফিরিয়ে আনার দাবি প্রসঙ্গে মোসেরি বলেছেন, কেবল ‘খুব সোচ্চার সংখ্যালঘু গোষ্ঠী’ সামাজিক মাধ্যমকে আবার ‘রিভার্স ক্রনোলজিক্যাল’ ফিডে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

তার মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা হলে তা কেবল ব্যবহারকারীদের আরও বেশি করে পোস্ট করতে উৎসাহিত করবে, যা প্ল্যাটফর্মের সার্বিক কার্যকারিতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

অ্যালগরিদম ছাড়া সামাজিক মাধ্যম পরিচালনার ফল কেমন হতে পারে সে বিষয়ে মোসেরি বলেছেন, এর ফলে প্ল্যাটফর্মে ব্র্যান্ড ও কোম্পানিগুলোর আধিপত্য অতিরিক্ত বেড়ে যাবে।

“শেষে যা দাঁড়াবে তা হচ্ছে, রিচ বাড়ানোর সেরা উপায় হবে কেবল ঘন ঘন পোস্ট করা এবং যারা সবচেয়ে বেশি পোস্ট করার সামর্থ্য রাখে তারাই তা করবে ও ফলে বেশি রিচ পাবে।”

মোসেরি বলেছেন, ব্যবহারকারীরা যেভাবে পোস্ট করেন নির্মাতারা তার চেয়ে বেশি পোস্ট করেন, আর বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও কোম্পানি পোস্ট করে তাদের চেয়েও অনেক বেশি। অ্যালগরিদম বাদ দেওয়া হলে মানুষ ব্র্যান্ডের কনটেন্টে ‘অভিভূত’ হয়ে পড়বেন এবং বন্ধু ও নির্মাতাদের পোস্টের ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাবেন।

“তখন মানুষ অভিজ্ঞতার প্রতি কিছুটা কম আগ্রহী হয়ে পড়বে, তারা অ্যাপটির ব্যবহার কমিয়ে দেবেন, যার মানে তখন ছড়িয়ে পড়ার মতো রিচও কমে যাবে। রিচ কমতে থাকায় মানুষ আরও বেশি ক্ষুব্ধ হতে শুরু করবেন।

ফলে সার্বিক এনগেজমেন্ট ও ব্যবহারকারীর সন্তুষ্টির মাত্রা দুটোই কমে যাবে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

অ্যালগরিদমের ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করে মোসেরি বলেছেন, “একজন ব্যক্তি ব্যক্তিগতভাবে যা চাইতে পারেন ও পুরো কমিউনিটির ক্ষেত্রে যখন আপনি সেটির বাস্তবায়ন করেন তখন কী ঘটে এর মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।

“তবে এর মানে এই নয় যে র‍্যাংকিং নিখুঁত। আমরা ভুল করি– র‍্যাংকিং সম্পর্কে আমাকে যা হতাশ করে তা হচ্ছে আমরা শেষ পর্যন্ত এমন সব বিষয়কে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে ফেলি, যা পরিমাপ করা যায় ও যেসব বিষয় পরিমাপ করা কঠিন, সেগুলোকে অবমূল্যায়ন করি।”