মিররলেস ক্যামেরা বাজারে আনছে চীন, বদলে যাবে হিসাব?
বর্তমানে বাজারের সেরা কোনো মিররলেস ক্যামেরা কিনতে চাইলে লাইকার মতো হাতেগোণা কয়েকটি ইউরোপীয় ব্র্যান্ড ছাড়া বাকি সবগুলোর ঠিকানা জাপানেই।
সেই ফিল্ম যুগ থেকে শুরু করে হালের ডিজিটাল ক্যামেরার বাজারে দীর্ঘকাল ধরে একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছে জাপান। ক্যানন, সনি, নিকন, ফুজিফিল্ম, প্যানাসনিক, ওএম সিস্টেম, সিগমা, রিকো বা পেনটাক্সের মতো শীর্ষস্থানীয় সব ব্র্যান্ডের জন্মই জাপানে, যাকে বলা হয় ডিজিটাল ফটোগ্রাফির তীর্থভূমি।
বর্তমানে বাজারের সেরা কোনো মিররলেস ক্যামেরা কিনতে চাইলে লাইকা বা হাসলব্লাড-এর মতো হাতেগোণা কয়েকটি ইউরোপীয় ব্র্যান্ড ছাড়া বাকি সবগুলোর মূল ঠিকানা ওই জাপানেই।
অন্তত এখন পর্যন্ত!
শতাব্দীপ্রাচীন এ সমীকরণে এবার বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট টেকরেডার। কারণ, ডিজিটাল ফটোগ্রাফির বাজার নিয়ন্ত্রণে এক নতুন পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে চীন।
এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে চীনের শেনজেনভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানি ‘ডিজেআই’। জনপ্রিয় অ্যাকশন ক্যামেরা নির্মাতা ‘গোপ্রো’কে পেছনে ফেলে বিক্রি বাড়িয়েছে তারা। পকেট ব্লগিং ক্যামেরা ও ড্রোন প্রযুক্তির বাজারেও এখন ডিজেআইয়ের জয়জয়কার।
অন্যদিকে, ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরার উদ্ভাবন ও বিক্রিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে চীনা কোম্পানি ‘ইনস্টা ৩৬০’। পরিবর্তনযোগ্য লেন্স বা ইন্টারচেঞ্জেবল-লেন্স ক্যামেরার ক্ষেত্রেও প্রভাব ধরে রেখেছে চীন।
দেশটির লেন্স নির্মাতা কোম্পানি ‘ভিলট্রক্স’ এখন সনি, নিকন ও ফুজিফিল্মের মতো জায়ান্টদের পাশাপাশি সম্প্রতি এল-মাউন্ট ক্যামেরার জন্যও ভালো মানের লেন্স তৈরি করছে।
একাধিক প্রতিবেদন ও বাজারের গুঞ্জন বলছে, চীনের কিছু শীর্ষ প্রযুক্তি নির্মাতা এবার সরাসরি তাদের নিজস্ব ‘মিররলেস ক্যামেরা’ বাজারে আনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনা বিভিন্ন কোম্পানির এ সরাসরি আগমন স্তিমিত হয়ে আসা ক্যামেরা শিল্পে এক নতুন প্রতিযোগিতা ও বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
চীনা মিররলেস থেকে যা আশা করা যায়
ক্যামেরা প্রযুক্তিতে চীনা বিভিন্ন কোম্পানির বৈপ্লবিক পদচারণার অংশ হিসেবে বেশ কিছু সম্ভাব্য মিররলেস ক্যামেরা বাজারে আসার জোর গুঞ্জন রয়েছে।
৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা তৈরিতে জনপ্রিয় চীনা কোম্পানি ‘ইনস্টা৩৬০’-এর প্রধান নির্বাহী জিংকাং জেকে লিউ বলেছেন, তারা অন্তত দুটি নতুন মিররলেস ক্যামেরা বাজারে আনার জন্য কাজ করছেন। যার মধ্যে একটি ক্যামেরার আকৃতি বা ডিজাইন হবে একেবারেই ভাবা যায় না এমন, যা ছবি তোলার প্রচলিত ধারণাকেই বদলে দিতে পারে।
ক্যামেরাটি এআই ও আধুনিক স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর হতে পারে, যা প্রযুক্তি জগতে নতুন ধারা তৈরি করবে। পাশাপাশি ফাঁস হওয়া কিছু চিত্র থেকে ধারণা মিলেছে, তাদের দ্বিতীয় ক্যামেরাটি হবে একটি মিনিমালিস্ট বা ছিমছাম ‘মাইক্রো ফোর থার্ডস’ বডির।
অন্যান্য জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের ক্যামেরা বডির জন্য কম খরচে আন্তর্জাতিক মানের লেন্স তৈরি করে বাজারে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছে ‘ভিলট্রক্স’। বর্তমানে সনি ও ক্যাননের দখলে থাকা প্রায় ৭০ শতাংশ ক্যামেরা বাজারকে টেক্কা দিতে দারুণ সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে।
নিজেদের সাশ্রয়ী লেন্স তৈরির মতো একই নীতিতে যদি ভিলট্রক্স মানসম্মত ক্যামেরা বডি তৈরি করতে পারে তবে তা সাধারণ বা শিক্ষানবিস গ্রাহকদের বাজারে বিরাট আলোড়ন তৈরি করবে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিলট্রক্স তাদের প্রথম মিররলেস ক্যামেরাটি ‘এপিএস-সি’ ফরম্যাটে ও ‘এল-মাউন্ট’ ক্যাটেগরিতে বাজারে আনতে পারে। এমন গুঞ্জনের বড় কারণ, এল-মাউন্টের জন্য নতুন কিছু এপিএস-সি প্রাইম লেন্স তৈরির কাজ করছে ভিলট্রক্স, অথচ বাজারে বর্তমানে এল-মাউন্ট ব্যবহার করে এমন কোনো এপিএস-সি ক্যামেরা বডি নেই।
কোনো ক্যামেরা ব্যবহারের সুযোগ না থাকার পরও কেবল লেন্স তৈরির পেছনে ইঙ্গিত একটাই, তারা নিজেরাই হয়ত এ ফরম্যাটের নতুন ক্যামেরা বাজারে আনছে।
দীর্ঘদিন ধরে ক্যানন, সনি, নিকন ও সম্প্রতি ফুজিক্যামেরার অধীনে থাকা শীর্ষ বাজারটিতে এসব চীনা নির্মাতাদের আগমন বড় ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি করবে। দামের দিক থেকে সাশ্রয়ী ও গঠনগত দিক থেকে নতুন ধারার এসব ক্যামেরা মিররলেস প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের আরও কাছে নিয়ে যাবে।
