ছিয়াশির মারাদোনার ছায়া বাইশের মেসি
৩৬ বছর আগে-পরের দুই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাবেক ও বর্তমান অধিনায়কের প্রভাব প্রায় একই।
দিয়েগো মারাদোনা বেঁচে থাকলে নিশ্চয় কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলিতে গ্যালারিতে গলা ফাটাতেন। এই কিংবদন্তি ওপাড়ে চলে গেছেন দুই বছর আগে। তবে সশরীরে না থাকলেও তিনি আছেন বিশ্বকাপে- উত্তরসূরিদের অনুপ্রেরণা হয়ে, ভক্তদের ট্যাটুর মাঝে, পোস্টারে, ব্যানারে। আরেকটি জায়গাতেও তার ছায়া দেখা যাচ্ছে প্রবলভাবে। ১৯৮৬ সালে যেভাবে মারাদোনা দেশকে বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দিয়েছিলেন, প্রায় একইভাবে এবার দলকে ফাইনালে তুলেছেন লিওনেল মেসি।
প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে হারের ধাক্কা সামলে, টানা পাঁচ জয়ে ফাইনালের মঞ্চে এসেছে আর্জেন্টিনা। সামনে থেকে দলকে পথ দেখিয়েছেন মেসি। আর্জেন্টিনা অধিনায়ক নিজে করেছেন ৫ গোল, সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৩টি।
ক্রীড়ার পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা অপটার তথ্য অনুযায়ী, সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত আসরে ৪৫ শটে সম্পৃক্ত (শট ও সুযোগ তৈরি) থেকেছেন মেসি। আর্জেন্টিনার মোট শটের যা ৫৬.৩ শতাংশ; অবিশ্বাস্যভাবে, ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো আসরে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ে মারাদোনার প্রভাবের প্রায় সমান।
৩৬ বছর আগে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দিয়েছিলেন মারাদোনা। সেবার আর্জেন্টিনার মোট শটের ৫৬.৪ শতাংশ ছিল মারাদোনার। ১৯৬৬ আসর থেকে বিবেচনায় নিয়ে অন্তত কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়া দলগুলোর মধ্যে যা বিশ্বকাপে রেকর্ড।
পূর্বসূরির অনুপাতকে ফাইনালে ছাড়িয়ে যেতে পারেন মেসি। তার এখনকার ৫৬.৩ শতাংশ মারাদোনার চেয়ে স্রেফ ০.১ শতাংশ কম।
নিজের পঞ্চম ও শেষ বিশ্বকাপে এরই মধ্যে বেশ কিছু রেকর্ড গড়েছেন মেসি। প্রথম চার আসরে নকআউট পর্বে ৮ ম্যাচে ৭৫৬ মিনিট খেলে, গোলের জন্য ২৩টি শট নিয়ে কোনো গোল ছিল না তার। এবার শেষ ষোলো, কোয়ার্টার-ফাইনাল, সেমি-ফাইনাল, তিন ম্যাচেই একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন ৩৫ বছর বয়সী তারকা।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই বছর আর্জেন্টিনার হয়ে ৭ ম্যাচে তিনি করেন ১১ গোল। জাতীয় দলের হয়ে এক পঞ্জিকাবর্ষে তার সবচেয়ে বেশি ১২ গোল ছিল ২০১২ সালে। বিশ্বকাপে ৫ গোল করে এই বছর দেশের জার্সিতে ১৩ ম্যাচে তার গোল এখন ১৬টি।
সেটি আরও বাড়ানোর সুযোগ ফ্রান্সের বিপক্ষে রোববারের ফাইনালে, সঙ্গে তার অধরা বিশ্বকাপ ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার।
