ঘুরে দাঁড়িয়ে ১৪ মিনিটের ৪ গোলে বেলজিয়ামকে হারাল ফ্রান্স
অনেকটা সময় পর্যন্ত পিছিয়ে থেকে তিন বদলি খেলোয়াড়ের গোলে দারুণ এক জয় পেল জিনেদিন জিদানের দল।
ম্যাচ জুড়ে আক্রমণে দাপট দেখাল ফ্রান্স। তবে আচমকা গোল করে এগিয়ে গেল বেলজিয়াম। জাগাল ফরাসিদের বিপক্ষে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে সাড়ে চার দশকের জয়খরা কাটানোর আশাও। কিন্তু শেষ দিকে পাল্টে গেল চিত্র। ১৪ মিনিটে চার গোল করে দারুণ জয় তুলে নিল জিনেদিন জিদানের দল।
ঘরের মাঠে সোমবার রাতে উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে ৭৬তম মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল ফ্রান্স, শেষ পর্যন্ত তারা জিতেছে ৪-১ গোলে। জয়ীদের সবকটি গোল করেছেন তিন বদলি খেলোয়াড় মিলে।
দদি লুকেবাকিওর গোলে পিছিয়ে পড়া ফ্রান্সকে সমতায় ফেরান দেজিরে দুয়ে। একটু পরই দলকে এগিয়ে নেন রায়ান শের্কি। আর শেষ সময়ে জোড়া গোল করেন মাইকেল ওলিসে।
ম্যাচে প্রায় ৬৬ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২৩ শট নিয়ে আটটি লক্ষ্যে রাখতে পারে ফ্রান্স। বেলজিয়ামের পাঁচ শটের দুটি লক্ষ্যে ছিল।
আসরে প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের পর ইতালির সঙ্গে ১-১ ড্র করে ফ্রান্স। এখন জয়ের পথে ফিরেই তারা চলতি আন্তর্জাতিক বিরতি শেষ করল এবং চার ম্যাচের মধ্যে এই প্রথম কোনোটিতে একাধিক গোল করতে পারল।
চার ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপের শীর্ষে আছে ফ্রান্স।
একই সময়ে গ্রুপের আরেক ম্যাচে তুরস্ককে ৩-১ গোলে হারিয়ে, ৭ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে ইতালি। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনে বেলজিয়াম। তুর্কিরা হেরেছে চার ম্যাচেই।
হলুদ কার্ডের খাঁড়ায় ফ্রান্সের বিপক্ষে অধিনায়ক ইউরি টিলেমান্স ও মাঝমাঠের তারকা কেভিন ডে ব্রুইনাকে পায়নি বেলজিয়াম।
দশম মিনিটে প্রথম কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারে বেলজিয়াম। রোমেলু লুকাকুর ওই প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন ফ্রান্স গোলরক্ষক।
পাঁচ মিনিট পর প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগ পায় ফ্রান্স। মানু কোনের পাস ধরে বাহডলে বাহকোলার চিপ শট ব্যর্থ করে দেন বেলজিয়ামের অভিষিক্ত গোলরক্ষক মার্টেন ভ্যানডাভোর্ট।
৩৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। নিজেদের অর্ধ থেকে চমৎকার থ্রু বল বাড়ান রোমেও লাভিয়া, আর অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন লুকেবাকিও।
দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে ভালো একটি সুযোগ পান উসমান দেম্বেলে। তবে ফ্রান্স অধিনায়ক শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।
৫৮তম মিনিটে দারুণ সেভে জাল অক্ষত ভ্যানডাভোর্ট। কাছ থেকে এস্তেবান লাপোলের প্রচেষ্টা আটকে দেন তিনি।
দুই মিনিট পর মাহনেস আকিউস ও দেম্বেলেকে তুলে শের্কি ও ওলিসেকে নামান কোচ।
৬৭তম মিনিটে ওলিসে গোল পেয়েই যাচ্ছিলেন প্রায়। বক্সের বাইরে থেকে তার জোরাল শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান ভ্যানডাভোর্ট।
৭২তম মিনিটে বাহকোলার জায়গায় দুয়েকে নামান জিদান। মাঠে নামার পাঁচ মিনিটের মধ্যে চমৎকার গোলে সমতা ফেরান তিনি। লুকা দা কুইয়ার পাস ধরে জায়গা বানিয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন পিএসজি ফরোয়ার্ড।
৮১তম মিনিটে ডান দিক থেকে ওলিসের পাস বক্সে পেয়ে শটে দলকে এগিয়ে নেন শের্কি। গোলরক্ষক বল স্পর্শ করলেও আটকাতে পারেননি।
আর ৮৮ ও ৯১তম মিনিটে জোড়া গোল করেন ওলিসে। জাতীয় দলের সবশেষ তিন ম্যাচে মোট চার গোল করলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই উইঙ্গার।
আরও পড়ুন
