তুরস্ককে আবার হারিয়ে দুইয়ে ইতালি
চারটি ম্যাচ খেলে ব্যর্থতার বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে তুর্কিরা।
আত্মবিশ্বাসী শুরু করেও পিছিয়ে পড়ল তুরস্ক। দ্বিতীয়ার্ধে সমতা টেনে প্রথম পয়েন্ট পাওয়ার আশা জাগাল তারা। কিন্তু পরে আরও দুটি গোল করে জয়ের আনন্দে ভাসল ইতালি।
বোলোনিয়ায় সোমবার উয়েফা নেশন্স লিগের ম্যাচে ৩-১ গোলে জিতেছে স্বাগতিকরা।
জানলুকা স্কামাক্কার গোলের পর আরাল শিমশিরের নৈপুণ্যে সমতা টানে তুরস্ক। পরে রিকার্দো কালাফিওরির গোলে ইতালি আবার এগিয়ে যাওয়ার পর, জয নিশ্চিত করা গোলটি করেন পিও এস্পোজিতো।
‘এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপে চার ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে ইতালি।
একই সময়ে শুরু আরেক ম্যাচে বেলজিয়ামকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। তিন জয় ও এক ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ফরাসিরা। ৬ পয়েন্ট নিয়ে তিনে বেলজিয়ানরা।
এখনও কোনো পয়েন্ট না পাওয়া তুরস্কের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার আশা শেষ হয়ে গেছে।
আগের তিন ম্যাচে আটটি গোল খেয়ে কেবল একটি করতে পারা তুরস্ক এবার শুরুটা বেশ আত্মবিশ্বাসী করে। চার মিনিটের মধ্যে তিনটি সুযোগ তৈরি করে তারা, তবে জানলুইজি দোন্নারুম্মার দেয়াল ভাঙতে পারেনি।
ত্রয়োদশ মিনিটে ওজান কাবাকের ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে আটকে দেন ইতালির গোলরক্ষক। ষোড়শ মিনিটে সালিহ ওজকানের শটও আটকে দেন তিনি। পরের মিনিটে নিজেদের ভুলেই বিপদে পড়তে যাচ্ছিল স্বাগতিকরা; তবে অরক্ষিত আকগুনের হেড ঠেকাতে বেগ পেতে হয়নি আগের ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে সাতটি সেভ করা দোন্নারুম্মার।
২৬তম মিনিটে প্রথম উল্লেখযোগ্য সুযোগেই এগিয়ে যায় ইতালি। ডান দিক থেকে সতীর্থের ক্রসে ছয় গজ বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষের একজনের গায়ে লেগে বল পেয়েই শট নেন জানলুকা স্কামাক্কা, ক্রসবারে লেগে জালে জড়ায় বল।
জাতীয় দলের হয়ে এটা তার দ্বিতীয় গোল। প্রথমটি করেছিলেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ইউরো বাছাইয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের নবম মিনিটে সমতায় ফিরতে পারতো তুরস্ক, কিন্তু ছয় গজ বক্সের বাইরে অরক্ষিত শিমশিরের হেড রক্ষণে প্রতিহত হয়। চার মিনিট পর অন্যপাশে ইসা দুম্বিয়ার শট রুখে দেন তুর্কি গোলরক্ষক।
৬১তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় তুরস্ক। সতীর্থের ব্যাকহিল পাস গোলমুখে ফাঁকায় পেয়ে অনায়াসে জালে ঠেলে দেন শিমশির। জাতীয় দলের হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে এবং প্রথমবার শুরুর একাদশেই খেলতে নেমে গোলের খাতা খুললেন এই উইঙ্গার।
সফরকারীদের স্বস্তি অবশ্য তিন মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। ডান দিকে ফ্রি কিক পেয়ে ডি-বক্সে ক্রস বাড়ান নিকোলো বারেল্লা, আর লাফিয়ে কোনাকুনি হেডে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন রিকার্দো কালাফিওরি।
জাতীয় দলের জার্সিতে ১৭ ম্যাচে প্রথম গোল করলেন এই ডিফেন্ডার।
৭৮তম মিনিটে আবারও ভীতি ছড়ায় তুরস্ক। জোরাল শট নেন ওজকান, দারুণ ক্ষিপ্রতায় বল বাইরে পাঠান দোন্নারুম্মা।
নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট বাকি থাকতে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দেন এস্পোজিতো। আলেস্সান্দ্রো রোমানোর শট প্রায় লক্ষ্যেই ছিল, তবে মাঝপথে পা বাড়িয়ে বলের দিক পাল্টে স্কোরলাইনে নাম লেখান ২১ বছর বয়সি স্ট্রাইকার।
তুরস্কের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও একটি গোল করেন তিনি।
ইতালির ডাগআউটে দ্বিতীয় মেয়াদে এসে ঘরের মাঠে প্রথম জয় পেলেন রবের্তো মানচিনি।
আরও পড়ুন
