ভজিনিয়ার খ্যাতির বিড়ম্বনা
‘এখনকার আর আগের জীবনের মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পেলে আমার আগের জীবনটাই বেছে নিতাম’, বললেন বিশ্বকাপের বিস্ময় কেইপ ভার্ডের ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক।
দেশের প্রথম বিশ্বকাপ অভিযানে গিয়েই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে রাতারাতি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়ে যান ভজিনিয়া। কিন্তু খ্যাতির কারণে যেভাবে সবার মনোযোগ কেড়েছেন বা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন, তা সামলাতে গিয়ে কেইপ ভার্ডের ৪০ বছর বয়সি গোলরক্ষক এখন অসহায় বোধ করছেন!
আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত দ্বীপপুঞ্জ কেইপ ভার্ডের জনসংখ্যা স্রেফ পাঁচ লাখের মতো। তারাই প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে সবাইকে চমকে দিয়ে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে ড্র করে জায়গা করে নেয় নকআউট পর্বে। সেখানে আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত হেরে যায় তারা ৩-২ গোলে।
আসরে চার ম্যাচে ১৮টি সেভ করা ও এই বছরের বর্ষসেরা গোলরক্ষকের মনোনয়ন পাওয়া ভজিনিয়া এখন বিশ্বজুড়ে পরিচিত এক তারকা। বিশ্বকাপের শুরুতে ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ার ছিল ৫০ হাজারের মতো। এখন সেটা বেড়ে হয়েছে দুই কোটি ৮০ লাখ।
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নজর কেড়েই তিনি যোগ দেন চিলির ক্লাব কোলো-কোলোতে। ব্রিটেনের ‘অবজারভার’ পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভজিনিয়া বলেন, এই খ্যাতিই এখন তার জন্য বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
“আমার শান্তি ও স্বস্তি হারিয়ে ফেলেছি আমি। এখন আর আমার কোনো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বলে কিছু নেই।
“রেস্তোরাঁয় গেলে দেখা যায় কেউ না কেউ আমার সঙ্গে ছবি তুলতে বা অটোগ্রাফ নিতে চাইছে। অথবা আরও খারাপ ব্যাপার হলো, কেউ হয়তো আমার ভিডিও করছে... এক্ষেত্রে আমার আসলে কিছুই করার নেই বলেই মনে হয়।”
এমনকি এর প্রভাব পড়েছে ভজিনিয়ার পরিবারের ওপরও; কেইপ ভার্ডেতে তার মায়ের বাড়িতে প্রতিদিন ভক্তরা ভিড় জমাচ্ছেন।
“আমি তো সেখানে নেই, তাই তাদের কোনোভাবে সাহায্যও করতে পারছি না।
“অনেকেই বিখ্যাত হতে চায়... কিন্তু তারা সেই বাস্তবতার কেবল ইতিবাচক দিকটাই দেখে। সত্যি বলতে, এখনকার আর আগের জীবনের মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ পেলে আমার আগের জীবনটাই বেছে নিতাম।”
