বার্সেলোনার গোলবন্যায় ভেসে গেল বেতিস
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লা লিগায় দুটি হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগের প্রস্তুতিটা যথার্থই হলো হান্সি ফ্লিকের দলের।
কয়েকদিনের খরা কাটিয়ে দর্শনীয় গোলে দলকে এগিয়ে নিলেন লামিন ইয়ামাল, এবং শুরু হলো বার্সেলোনার আরেকটি গোল উৎসব। দারুণ দুটি গোলে রেয়াল বেতিস দুইবার ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেও, প্রতিপক্ষের দাপুটে ফুটবলের জবাব তাদের জানা ছিল না।
প্রতিপক্ষের মাঠে শনিবার লা লিগার ম্যাচটি ৫-২ গোলে জিতেছে হান্সি ফ্লিকের দল।
বার্সেলোনার অন্য চার গোলদাতা হলেন- রদ্রি, গাব্রিয়েল জেসুস, এরিক গার্সিয়া ও দানি ওলমো।
৯ ম্যাচের সবগুলো জিতে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে শীর্ষস্থান আরও মজবুত করল বার্সেলোনা। তাদের চেয়ে ৫ পয়েন্ট কম নিয়ে দুইয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
১৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রেয়াল বেতিস। এক ম্যাচ খেলে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে রেয়াল মাদ্রিদ।
ইয়ামালের অসাধারণ নৈপুণ্যে দশম মিনিটে এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। জুল কুন্দের ছোট পাস ধরে দ্রুত একটু এগিয়ে, ডি-বক্সের ডান কোণায় বডি ডজে একজনকে ফাঁকি দিয়েই বাঁ পায়ের ট্রেডমার্ক শট নেন তরুণ তারকা, বল হাওয়ায় ভেসে দূরের পোস্ট দিয়ে ঠিকানা খুঁজে পায়।
লা লিগায় দুই ও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিন ম্যাচ পর গোল পেলেন ইয়ামাল। লিগে তার মোট গোল হলো আটটি। সব মিলিয়ে মৌসুমে তার গোল ও অ্যাসিস্ট হলো সমান ৯টি করে।
শুরু থেকে কেবল ২৫ শতাংশ সময় পজেশন রেখে খেলা বেতিস ২৭তম মিনিটে গোলের জন্য প্রথম প্রচেষ্টাতেই সাফল্য পেয়ে যায়।
তাদের কর্নার বার্সেলোনার দুইজন ক্লিয়ার করার সুযোগ পেয়েও পারেননি। এরপর, ডানদিক থেকে পাবলো ফোরনালসের ক্রস ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়ে হেডে সমতা টানেন আর্জেন্টাইন সেন্টার-ব্যাক ভালেন্তিন গোমেস।
৩৯তম মিনিটে এগিয়েও যেতে পারতো বেতিস। তবে এক্তর বেইয়েরিনের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন জোয়ান গার্সিয়া।
দুই মিনিট পরই আবার এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। ফের্মিন লোপেসের কর্নারে সবার ওপরে লাফিয়ে হেডে গোলটি করেন রদ্রি। এবারের গ্রীষ্মে ম্যানচেস্টার সিটি থেকে বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে দলটির হয়ে প্রথম জালের দেখা পেলেন এই স্প্যানিয়ার্ড।
দুই মিনিটের মধ্যে ডি-বক্সের বাইরে থেকে চমৎকার ভলিতে আবার সমতায় ফেরার আনন্দে মেতে ওঠে বেতিস। তবে এর আগে তাদের ফরোয়ার্ড কুচো এর্নান্দেসের হাতে বল লাগায় ভিএআর মনিটরে দেখে গোল দেননি রেফারি।
দ্বিতীয়ার্ধের চতুর্থ মিনিটে লোপেসের শট ঝাঁপিয়ে আটকে দেন গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর জেসুস জালে বল পাঠালেও গোল মেলেনি, তিনি নিজেই অফসাইডে ছিলেন।
পরের মিনিটেই অবশ্য গোল পেয়ে যান জেসুস। এবারও ইয়ামালের পাস ছয় গজ বক্সের বাইরে পেয়ে বল জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
বার্সেলোনার দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ অবশ্য দুই মিনিটও স্থায়ী হয়নি। দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে ডি-বক্সের মুখ থেকে নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন আব্দে এজজাজুলি।
তবে এই গোলের আগে মাঝমাঠের এক ঘটনায় ইয়ামালকে ফাউল করার দাবি তোলে বার্সেলোনা। রেফারির সাড়া না মিললেও, কিছুটা বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে দুই দল। বেতিসের ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফাকুন্দো বের্নালকে লাল কার্ড দেখান রেফারি, আর ইয়ামালকে হলুদ।
প্রতিপক্ষ শিবিরে একজন কমে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই চতুর্থ গোল আদায় করে নেয় বার্সেলোনা। গোলটির পেছনে অবশ্য দায় আছে বেতিস গোলরক্ষকের। ফ্রি কিকে ছয় গজ বক্সে উড়ে আসা বলের গতি-প্রকৃতি বুঝে উঠতে না পারায় পাঞ্চ করার চেষ্টায় ব্যর্থ হন ভায়েস, সেই সুযোগে পাউ কুবার্সির হেড পাস গোলমুখে পেয়ে অনায়াসে ফাঁকা জালে পাঠান এরিক গার্সিয়া।
ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেকটা কেটে যাওয়ায় ৭০তম মিনিটে ইয়ামালকে তুলে নেন কোচ, বদলি নামেন চোট কাটিয়ে ফেরা হাফিনিয়া।
পরের কয়েক মিনিটে জেসুস, অ্যান্থনি গর্ডন আরও কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া করার পর, ৮১তম মিনিটে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন ওলমো। ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে গোলটি করেন এই স্প্যানিয়ার্ড।
দারুণ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শিরোপাধারী পিএসজির মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা। আর আগামী সপ্তাহান্তে তারা লা লিগায় খেলবে রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে।
