শেষ সময়ের গোলে হার এড়াল ব্রাজিল
যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে হায়ানের গোলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ড্র করল কার্লো আনচেলত্তির দল।
একের পর এক আক্রমণ করেও কোনো কাজ হচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল, সিকি শতাব্দী পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারতে যাচ্ছে ব্রাজিল। তবে শেষ মুহূর্তে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের উদ্ধার করলেন হায়ান। তার চমৎকার হেডে হার এড়াল কার্লো আনচেলত্তির দল।
প্রীতি ম্যাচে শুক্রবার ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়ার লড়াই শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ ফ্রি কিকে অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে নেন নেস্টরি ইরানকুন্ডা। হাফিনিয়ার কর্নারে জাল খুঁজে নিয়ে সমতা টানেন ২০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড হায়ান।
টাউন্সভিলে প্রথম সুযোগটি পায় অস্ট্রেলিয়া। সপ্তম মিনিটে ইরানকুন্ডার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠান গোলরক্ষক হুগো সোসা।
পরের মিনিটে হেড করতে গিয়ে মাথায় সংঘর্ষে আঘাত পান ইয়াকব ইতালিয়ানো ও দগলাস সান্তোস। কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে খেলা।
২১তম মিনিটে লক্ষ্যে প্রথম শট নিতে পারে ব্রাজিল। ব্রুনো গিমারাইসের শট ঠেকান অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচ। দুই মিনিট পর হাফিনিয়ার হেড ব্যর্থ করে দেন তিনি।
৩১তম মিনিটে সুযোগ পান এন্দ্রিক। কিন্তু দুই জনের চ্যালেঞ্জের মুখে শটই নিতে পারেননি তিনি। তার জার্সি টেনে ধরা হলেও পেনাল্টির আবেদনে সাড়া দেননি রেফারি।
চার মিনিট পর ভিনিসিউস জুনিয়রের শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন অস্ট্রেলিয়ার গোলরক্ষক।
৩৮তম মিনিটে হাফিনিয়ার শট কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন বিচ। নষ্ট হয় দারুণ সুযোগ। পরের মিনিটে ডি বক্স থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিয়ে দলকে হতাশ করেন গিমারাইস।
৪১তম মিনিটে প্রায় অলিম্পিক গোল পেয়ে যাচ্ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মিডফিল্ডার কনর মেটকাফে। দূরের পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায় বল। বল স্পর্শ করতে পারেননি দুই দলের কেউই।
বিরতির আগে জালে বল পাঠান এস্তেভোঁ। কিন্তু আক্রমণের শুরুতে গিমারাইস ফাউল করায় মেলেনি গোল। মনিটরে কয়েকবার রিপ্লে দেখে ফ্রি কিক দেন রেফারি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সুযোগ পান ভিনিসিউস। কিন্তু ৪৭তম মিনিটে হাফিনিয়ার ক্রসে ভলিই করতে পারেননি রেয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।
৬৩তম মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে আড়াআড়ি শটে চেষ্টা করেন হাফিনিয়া। ছন্দে থাকা বার্সেলোনা অধিনায়ক একটুর জন্য লক্ষ্য খুঁজে পাননি। পরের মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ক্রসবারের ওপর দিয়ে শট নেন এস্তেভোঁ।
৬৯তম মিনিটে চমৎকার ফ্রি কিকে অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে নেন ইরানকুন্ডা। এই গোলে দায় কম নয় সোসার। কাছের মানব দেওয়ালের উপর দিয়ে কাছের পোস্ট ঘেঁষে যাওয়া বল ঠেকানোর ঠিকঠাক চেষ্টাই করেননি ব্রাজিল গোলরক্ষক। এক-দুই পা সরে গিয়েই থেমে যান তিনি!
পিছিয়ে পড়ার পর যেন জেগে ওঠে ব্রাজিল। খেলায় গতি বাড়ায় সফরকারীরা। আক্রমণাত্মক ফুটবলে তৈরি করতে থাকে সুযোগ। তবুও কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে হায়ানের নৈপুণ্যে স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
আগামী মঙ্গলবার আরেকটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হবে দল দুটি।
