জামাল-মোরসালিনদের চোখে-মুখে আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়া
শেখ মোরসালিনের কণ্ঠেও তাই প্রকাশ পেল, লক্ষ্য জয়ের ধারা ধরে রাখার।
সবার আগে মাঠে ঢুকলেন বিশ্বনাথ ঘোষ। এসেই গা-গরমে নেমে গেলেন। এরপর একে একে তারিক, ইব্রাহিম, জামাল, রাকিবরা ঢুকলেন বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়। শ্রীলঙ্কা ম্যাচের প্রস্তুতিতে নেমে পড়ল দল। সবার হাসিমুখে ফুটে উঠল ভুটানকে হারিয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আত্মবিশ্বাস।
‘এ’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে বুধবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। ভুটানের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের পর শুক্রবার রিকভারির দিকে মনোযোগ দেন কোচ টমাস ডুলি। শনিবার ফের শুরু করলেন মূল প্রস্তুতি।
অনুশীলনের আবহে জয়ে সাফ শুরুর ছাপ স্পষ্ট। রাইট-ব্যাক থেকে নাম্বার-৯ পজিশনে খেলা বিশ্বনাথ বরাবরই প্রস্তুতিতে থাকেন স্বতফূর্ত। এদিনও সতীর্থরা ‘বিশু-বিশু’ চিৎকারে তাকে নানাভাবে ‘খোঁচা’ দিলেন, পাল্টা উত্তর দিলেন বিশ্বনাথও। শুকি ইতোফোসাকে ‘চোর-পুলিশ’ খেলার বৃত্তে রেখে চলল পাসিং অনুশীলন।
সতীর্থে লং পাসে ফাহামিদুল ইসলাম শট নিতে গিয়ে বলের সাথে সংযোগ করতে পারলেন না, তা নিয়েও হলো হাসাহাসি। একজন অবশ্য কিছুটা গম্ভীর ছিলেন, তিনি তপু বর্মন। ভুটান ম্যাচের আগে ওয়ার্ম-আপ করতে নেমে ব্যথা পেয়ে শেষ পর্যন্ত খেলতেই পারেননি। এদিন ট্রেনারের সাথে একাকী অনুশীলন করলেন অধিনায়ক।
গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ১৫ মিনিট উন্মুক্ত ছিল অনুশীলন। এই সময়ে দলের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলতে এলেন শেখ মোরসালিন। ভুটান ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি এই ফরোয়ার্ডও। শ্রীলঙ্কা ম্যাচে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় থাকার কথা বললেন তিনি। জয়ে সাফ শুরুর স্বস্তি, আত্মবিশ্বাস ঠিকরে পড়ল তার কণ্ঠেও।
“অবশ্যই যেহেতু আমরা শুরুটা ভালো করে করেছি, আমরা জিতেছি প্রথম ম্যাচ। আমরা আশা করছি, দ্বিতীয় ম্যাচও আমরা জিতব ইনশাল্লাহ। আমরা তো আত্মবিশ্বাসী। যেহেতু দেশের মাটিতে খেলা, আমাদেরকে জিততে হবে।
“আমার চোট ছিল না, একটু জ্বর ছিল... আরও চার-পাঁচ দিন আগে রিকভার করে ফেলছি আলহামদুলিল্লাহ। এখন আমি একদম হান্ড্রেড পার্সেন্ট ফিট, আশা করছি সুযোগ পেলে ভালো করব।”
অনেক প্রবাসী খেলোয়াড় নিয়ে আসা শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে সতর্ক থাকার কথাও বললেন মোরসালিন। তবে, নিজেদের জয়ের সম্ভাবনার প্রশ্নে শোনালেন জয়ের আশাবাদ।
“(শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে) ধারণা বলতে…আমরাও একমত যে, ওরা আসলে খুবই ভালো দল। তো আমরা কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছি না। আমরা ওইভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি; যেহেতু আমরা প্রথম ম্যাচ জিতেছি এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, সবাই ভালো একটা সময়ের মধ্যে আছে; আশা করছি, আমরা জিতব এবং জেতার জন্যই আমরা পরের ম্যাচ খেলব।”
ভুটানের বিপক্ষে জিততে ঘাম ছুটে যায় দলের। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে জয়সূচক একমাত্র গোলটি করেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। বিশ্বনাথ, শমিত একাধিক সুযোগ নষ্ট না করলে, স্কোরলাইন বড় হতে পারত। তবে, মোরসালিনের মনে হচ্ছে, বড় ব্যবধানে না জিতে ভালোই হয়েছে!
“একদিক থেকে আমি মনে করি যে... ভালো হয়েছে (অল্প ব্যবধানের জয়)। কেননা, অনেক সময় হয় যে, অনেক বেশি গোল দিয়ে ফেললে বডি রিল্যাক্স হয়ে যায়। তাই আমি মনে করি ওইদিক থেকে যে, আমাদের ওই... মানে আমরা সবাই এখনও খুব ক্ষুধার্ত হয়ে আছি (গোলের জন্য)। তাই আমি মনে করি, আমরা নেক্সট ম্যাচে...(আমরা সেই ক্ষুধা নিয়ে খেলতে নামতে পারব)।”
