৬০ বছর পর আবার ইংল্যান্ড-মেক্সিকো ও আসতেকা দুর্গ
মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে ইংল্যান্ড; তবে একটি জায়গায় অপরাজেয় মেক্সিকো।
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর মুখোমুখি হচ্ছে ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড।
ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে (এখনকার মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম) শেষ ষোলোর ম্যাচটি শুরু হবে ৬ জুলাই ৬টায় (এএম)।
এর আগে দেখে নেওয়া যাক কিছু পরিসংখ্যান:
২
এই নিয়ে দ্বিতীয়বার ও ৬০ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও মেক্সিকো। আগের একমাত্র দেখায় ১৯৬৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ববি চার্লটন ও রজার হান্টের গোলে ২-০ গোলে জিতেছিল ইংল্যান্ড। সেবারই এখন পর্যন্ত তাদের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছিল ‘থ্রি লায়ন্স’ নামে পরিচিত দলটি।
৪
মেক্সিকোর বিপক্ষে সবশেষ চার ম্যাচেই জিতেছে ইংল্যান্ড, সবগুলোই প্রীতি ম্যাচ- ১৯৮৬ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে।
সব মিলিয়ে দুই দলের আগের ৯ দেখায় ইংল্যান্ডের জয় ছয়টি, মেক্সিকোর দুটি, অন্যটি ড্র হয়েছে।
এই নিয়ে চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে কোনো স্বাগতিক দলের মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড। এর আগে ১৯৫৪ (সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে জয়), ১৯৮২ (স্পেনের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র) ও ১৯৯০ (ইতালির কাছে ২-১ গোলে হার) সালে এই অভিজ্ঞতা হয়েছিল তাদের।
৮
আসতেকায় মেক্সিকোর অতীত ইতিহাস দুর্দান্ত। এখানে কখনও বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে তারা হারেনি; দুটি ড্র করেছে এবং আটটি জিতেছে, যার মধ্যে রয়েছে টানা ছয়টি জয়।
১১
এই মাঠে বিশ্বকাপে এটি হবে মেক্সিকোর ১১তম ম্যাচ। এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে নির্দিষ্ট একটি ভেন্যুতে কোনো দলের সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড হবে এটি।
৮৯
আসতেকায় খেলা আগের ৮৯টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মেক্সিকো মাত্র দুইবার হেরেছে- ২০০১ সালে কোস্টা রিকার বিপক্ষে ও ২০১৩ সালে হন্ডুরাসের বিপক্ষে। এখানে টানা ২২টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অপরাজিত আছে মেক্সিকো (১৬ জয়, ছয় ড্র)।
৪০
দীর্ঘ ৪০ বছর পর আসতেকায় ফিরছে ইংল্যান্ড। এখানে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বহুল আলোচিত কোয়ার্টার-ফাইনালে ২-১ গোলে হেরেছিল তারা।
প্রথম ৫১ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য স্কোরলাইনের পর তিন মিনিটের মধ্যে ফুটবল ইতিহাসের কুখ্যাত ও বিখ্যাত দুটি গোল করেন দিয়েগো মারাদোনা। রেফারির চোখ ফাঁকি দিয়ে লাফিয়ে হেডের ভঙিমায় হাত দিয়ে প্রথম গোল করেন তিনি, যে গোলটি পরিচিত ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে। পরে প্রতিপক্ষের পাঁচ জন আউটফিল্ড খেলোয়াড়কে ছিটকে দিয়ে দুর্দান্ত একটি গোল করেন মারাদোনা, যেটি পরিচিত ‘গোল অব দা সেঞ্চুরি’ নামে।
শেষ দিকে ইংল্যান্ডের একমাত্র গোলটি করেন গ্যারি লিনেকার।
৪
চলতি আসরে চার ম্যাচের সবকটি জিতেছে মেক্সিকো, বিশ্বকাপের এক আসরে তাদের সবচেয়ে বেশি জয়ের নজির এটি। এই শতাব্দীতে তারা মাত্র দুটি আয়োজক দলের একটি, যারা আসরে প্রথম চার ম্যাচ জিতেছে। ২০০৬ সালে এই স্বাদ পেয়েছিল জার্মানি। আর ইতালি একমাত্র আয়োজক দল, যারা তাদের প্রথম পাঁচটি ম্যাচের প্রতিটিতে জিতেছিল (১৯৯০ সালে)।
৫
চলতি আসরে এখনও গোল খায়নি মেক্সিকো। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দল হিসেবে আসরে নিজেদের প্রথম পাঁচ ম্যাচে জাল অক্ষত রাখার হাতছানি তাদের সামনে। ১৯৯০ সালে এটি করে দেখিয়েছিল ইতালি।
৪
চলতি আসরে তিনটিসহ বিশ্বকাপে হেডে মোট চার গোল করেছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে হেডে তার চেয়ে বেশি গোল আছে শুধু জার্মানির জার্ড মুলার (পাঁচ) ও মিরোস্লাভ ক্লোসার (সাত)
