গোলবন্যায় লিভারপুলের রেকর্ড
পুরোটা সময় আলো ছড়ানো রবের্তো ফিরমিনো দুটি গোল করলেন ও তিনটিতে রাখলেন অবদান।
তিন রাউন্ড পেরিয়ে গেলেও জয় ছিল না একটিও। তাতে দলের সবাই যে কতটা ক্ষুধার্ত হয়ে উঠেছিল, তারই যেন প্রমাণ দিল লিভারপুল। ম্যাচ শুরু হতেই গোল উৎসবে মেতে উঠল তারা। চলল শেষ পর্যন্ত। এক মুহূর্তের জন্যও স্বস্বির নিঃশ্বাস ফেলতে পারল না বোর্নমাউথ।
শনিবার অন্যরকম এক বিকেলের সাক্ষী হলো অ্যানফিল্ড। সমর্থকদের উল্লাসে ভাসিয়ে একের পর এক গোল করতে থাকলেন রবের্তো ফিরমিনো-লুইস দিয়াসরা। ৮৫ মিনিটের মধ্যে প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড ছোঁয়ার পথ করে ফেলল তারা। গ্যালারি থেকে তখন ভেসে আসছিল ‘উই ওয়ান্ট ১০’ চিৎকার।
শেষ পর্যন্ত তা অবশ্য হয়নি। ৯-০ গোলের জয়ে রেকর্ড ছুঁয়ে মাঠ ছাড়ল লিভারপুল।
বিশাল এই ব্যবধানে জয়ের কীর্তি এ পর্যন্ত মোট দুবার করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রথমবার তারা রেকর্ডটি গড়েছিল ১৯৯৫ সালে ইপসউইচের বিপক্ষে। পরে ২০১৯ সালে সাউথ্যাম্পটনের বিপক্ষে ওই রেকর্ড ছুঁয়েছিল লেষ্টার সিটি। আর গত বছর ফেব্রুয়ারিতে আবার সাউথ্যাম্পটনের জালেই ৯-০ গোলের জয়ের উল্লাসে মাতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
লিভারপুলের হয়ে দুটি করে গোল করেন ফিরমিনো ও দিয়াস। অন্য গোলদাতারা হলেন হার্ভি এলিয়ট, ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ড, ভার্জিল ফন ডাইক ও ফাবিও কারবাইয়ো।অন্যটি প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী।
টানা দুই ড্রয়ের পর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মাঠে হার-কক্ষপথে ফিরতে এদিন যেমন শুরুর দরকার ছিল, ঠিক সেটাই পেয়ে যায় লিভারপুল। ঘড়ির কাটা ছয় মিনিট ছোঁয়ার আগেই প্রতিপক্ষের জালে দুবার বল পাঠায় তারা।
ম্যাচ শুরুর ১৪৯ সেকেন্ডের মাথায় আসে প্রথম গোল। মোহামেদ সালাহর ক্রস রক্ষণে প্রতিহত হওয়ার পর ডান দিক থেকে ফিরমিনো ছয় গজ বক্সের মুখে খুঁজে নেন দিয়াসকে। নিখুঁত কোনাকুনি হেডে জালে বল পাঠান কলম্বিয়ার ফরোয়ার্ড।
উদযাপন শেষে খেলা শুরু হতেই ফের উল্লাসে মাতে স্বাগতিকরা। ডান দিক থেকে আসা পাস ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি ফিরমিনো। তবে কাছেই ছিলেন এলিয়ট, ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ১৯ বছর বয়সী ইংলিশ উইঙ্গার।
প্রবল চাপ ধরে রাখা লিভারপুল প্রথম ২০ মিনিটেই পেতে পারত আরও কয়েকটি গোল। ষোড়শ মিনিটে এলিয়টের বাঁ থেকে বাড়ানো পাস গোলমুখে পায়ে লাগাতে ব্যর্থ হন সালাহ। তিন মিনিট পর মিশরের এই স্ট্রাইকারের দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া শট এক হাত দিয়ে ক্রসবারের ওপর দিয়ে বাইরে পাঠান গোলরক্ষক।
২৮তম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে ব্যবধান আরও বাড়ান অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ড। ফাঁকায় ফিরমিনোর ছোট পাস পেয়ে জায়গা বানিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জোরাল শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ইংলিশ রাইট-ব্যাক।
তিন মিনিট পর স্কোরলাইন ৪-০ করে বোর্নমাউথের সব আশা যেন শেষ করে দেন ফিরমিনো। ডান দিক থেকে ছয় গজ বক্সে আসা বলে পা বাড়িয়ে আলতো ভলিতে গোলটি করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
প্রতিপক্ষের সীমানায় শুরু থেকে ভীতি ছড়ানো ফিরমিনো ৪২তম মিনিটে আরেকটি ভালো শট নেন। তবে গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন। তিন মিনিট পরই অবশ্য সফরকারীদের জালে ফের বল পাঠান ফন ডাইক। কর্নারে হেডে গোলটি করেন ডাচ ডিফেন্ডার।
স্কোরলাইনে ব্যবধান বিশাল বড়। তারপরও লিভারপুলের পারফরম্যান্সে তীব্রতার কমতি হলো এতটুকুও। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতে প্রথম মিনিটেই মিলে গেল ষষ্ঠ গোল। এ যাত্রায় তাদের আরেকটি আক্রমণ রুখতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠান বোর্নমাউথ ডিফেন্ডার ক্রিস মেফাম।
৬২তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফিরমিনো। অ্যান্ডি রবার্টসনের দূর থেকে নেওয়া শট গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে ঠেকালেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি। আলগা বল গোলমুখে পেয়ে ফিরমিনোর প্রথম প্রচেষ্টা গোলরক্ষকের পায়ে প্রতিহত হয়, তবে ফিরতি চেষ্টায় আর ব্যর্থ হননি তিনি।
শেষ দিকে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে আরও দুটি গোল করে সিটি। বদলি নামা কারবাইয়ো ৮০তম মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে থেকে লক্ষ্যভেদী শটের পর হেডে শেষ গোলটি করেন দিয়াস।
স্কোরলাইনে তো বটেই, ম্যাচের পরিসংখ্যানেও ফুটে উঠছে লিভারপুলের পারফরম্যান্স কতটা দাপুটে ও নিখুঁত ছিল। ৭০ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের উদেশ্যে ১৯টি শট নিয়ে ১২টি লক্ষ্যে রাখে তারা। যার অধিকাংশই পায় জালের ছোঁয়া।
দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো এমন জয়ে পয়েন্ট টেবিলে লাফ দিয়ে দিয়েছে লিভারপুল। চার ম্যাচে ৫ পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরে উঠেছে তারা।
দিনের প্রথম ম্যাচে সাউথ্যাম্পটনকে ১-০ গোলে হারানো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ৬ পয়েন্ট নিয়ে আছে সপ্তম স্থানে।
আর্লিং হলান্ডের হ্যাটট্রিকে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ৪-২ গোলে জেতা ম্যানচেস্টার সিটি ১০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে।
