২৭ বছরের ফুটবল জীবনে এমন পেনাল্টি দেখেননি আর্তেতা
সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ জিতলেও রেফারির পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ আর্সেনাল কোচ।
রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়ার পরই বেশ ক্ষুব্ধ ছিলেন মিকেল আর্তেতা। যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তিনি। সেই পেনাল্টিতে কোনো গোল হজম করতে হয়নি তাদের। পরে দুই গোল করে ম্যাচ জিতে নিয়েছে তার দল। তবু ক্ষোভের আগুন নেভেনি আর্সেনাল কোচের। ম্যাচের পর উত্তপ্ত কণ্ঠেই বললেন, এই ধরনের সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটিতে শনিবার সান্ডারল্যান্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে জয়যাত্রা ধরে রাখে আর্সেনাল। তবে ওই পেনাল্টিতে গোল হলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হলেও হতে পারত। তখনও পর্যন্ত ম্যাচ ছিল গোলশূন্য।
ঘরের মাঠে ৫৪তম মিনিটে ওই পেনাল্টি পায় সান্ডারল্যান্ড। কর্নার থেকে আসা বলে ড্যান ব্যালার্ডকে এজরি কন্সা জাপ্টে ধরে নামানোর জন্য পেনাল্টি দেন রেফারি জন ব্রুকস। তবে সেটি কাজে লাগাতে পারেননি এন্জো লু ফি। ফরাসি মিডফিল্ডারের শট ঠেকিয়ে দেন আর্সেনালের গোলকিপার দাভিদ রাইয়া। বল তার হাতে লেগে পোস্টে লাগে।
এর মিনিট তিনেক যেতেই দুর্দান্ত গোলে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন বদলি নামা ব্রুনো গিমারাইস। শেষ মুহূর্তে আরেকটি গোলে জয় নিশ্চিত করেন বুকায়ো সাকা।
প্রত্যাশিত তিন পয়েন্ট পেলেও রেফারিকে শূলে চড়াতে ছাড়েননি আর্তেতার। ম্যাচের পর ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি টিএনটি স্পোর্টে কথোপকথনে।
“গুরুত্বপূর্ণ এক জয় এটি, কিন্তু ফলাফল সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত। এই পর্যায়ের ফুটলে এমন সিদ্ধান্ত অগ্রহণযোগ্য। একটা মৌসুম এবং চ্যাম্পিয়নশিপের গতিপথ বদলে দিতে পারে এটি। কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি এটি ১০ বার দেখেছি এবং এই পর্যায়ের ফুটবলে এটি পেনাল্টি হতে পারে না। কোনোভাবেই হতে পারে না।”
“২৭ বছর ধরে ফুটবলে আছি, কোনো অবস্থাতেই, কোনো প্রেক্ষাপটে, কোনো স্তরে, কোনো লিগে এটি পেনাল্টি হতে পারে না। আমি এটা সরাসরি দেখেছি এবং আমার মনে হয়েছে যে, এই ধরনের পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়, কারণ এটি একটি ‘জুডো রোল’, এটিই এর আসল রূপ। এমনটা হতে পারে না।”
ম্যাচ জিতলেও আর্সেনাল এ দিন খুব দাপুটে পারফরম্যান্স উপহার দিতে পারেননি। বরং সান্ডারল্যান্ড বেশ উজ্জীবিত ফুটবল উপহার দেয়। তবে লড়াইয়ে হাল না ছেড়ে শেষ পর্যন্ত দৃঢ়তা দেখিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল আদায় করে ছাড়ে চ্যাম্পিয়নরা।
দলের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি খুশি না হলেও লড়িয়ে মনোভাবের প্রশংসা করেন আর্তেতা। আর্সেনাল কোচ কৃতিত্ব দেন তিনি নিজ দলের গোলকিপার আর প্রতিপক্ষকেও।
“বারবার, প্রতিবার চেষ্টা করার জন্য আমাদের যে মনোবল ও সাহস রয়েছে, তা অবিশ্বাস্য। একদিক থেকে আমি খুব আনন্দিত, আবার অন্যদিক থেকে খুব চিন্তিতও।
দাভিদ রাইয়া ছিল অবিশ্বাস্য। প্রয়োজনের মুহূর্তে সে-ই ফুটবল ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। সান্ডারল্যান্ড যেভাবে আমাদের জন্য কাজটা কঠিন করে তুলেছিল, তারা অনেক প্রশংসার দাবিদার।”
লিগ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে চার ম্যাচের সবকটি জিতল আর্সেনাল। চ্যাম্পিয়ন্সও লিগও শুরু করেছে তারা নাপোলিকে হারিয়ে। এই পাঁচ ম্যাচে গোল হজম করেছে তারা কেবল একটিতে।
প্রিমিয়ার লিগে এই মৌসুমে কোনো পয়েন্ট না হারানো অন্য একমাত্র দল ম্যানচেস্টার সিটি। রবিবার ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ইউনাইটেডকে হারাতে পারলে তাদের পয়েন্টও হবে আর্সেনালের সমান।
