২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মিড ডে মিল: লালমনিরহাটে পুষ্টিকর খাবারের টানে ‘ক্লাসে ফিরছে’ শিশুরা

এই কর্মসূচির আওতায় পাটগ্রামের ১৪৫টি বিদ্যালয়ের ২৫ হাজার ৩৫৬ জন এবং কালিগঞ্জের ১৬২টি বিদ্যালয়ের ২২ হাজার ৪৪ জন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Sep 2026, 01:50 PM

Updated : 27 Sep 2026, 01:56 PM

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং চালুর পর লালমনিরহাটে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসার আগ্রহ বেড়েছে।

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কষ্ট কমায় শ্রেণিকক্ষে ফিরছে শিশুরা, যার প্রভাব পড়ছে বিদ্যালয়ে তাদের উপস্থিতিতেও।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে জেলার পাটগ্রাম ও কালিগঞ্জ উপজেলায় বিশেষ এই পুষ্টি কর্মসূচি চালু করা হয়।

এর আওতায় পাটগ্রামের ১৪৫টি বিদ্যালয়ের ২৫ হাজার ৩৫৬ জন এবং কালিগঞ্জের ১৬২টি বিদ্যালয়ের ২২ হাজার ৪৪ জন শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তাহের পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী তাজা বনরুটি, কলা, সিদ্ধ ডিম, দুধ ও ফর্টিফাইড বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা এই কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছে। বিদ্যালয়ে খাবার পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ‘নিয়মিত’ স্কুলে আসছে। এতে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতিও আগের তুলনায় ‘বেড়েছে’।

কালিগঞ্জ উপজেলার পণ্ডিতপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আম্বিয়া খাতুন বলেন, “আগে শিশুদের দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত থেকে ক্লাস করতে হতো, যার কারণে বিদ্যালয়ে আসার প্রতি তাদের অনিহা ছিল।

“এখন মানসম্মত তাজা রুটি, ডিম, দুধ ও কলা পাওয়ায় উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ক্ষুধা না থাকায় শিশুরা ক্লাসেও বেশি মনোযোগ দিতে পারছে।”

একই কথা জানায় পাটগ্রামের মুন্সীটারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান। এ শিক্ষার্থীর ভাষ্য, "আগে ক্ষুধা লাগলে ক্লাসে বসে থাকতে কষ্ট হতো। এখন প্রতিদিন স্কুলে খাবার পাচ্ছি, পেট ভরা থাকে তাই আনন্দ নিয়ে সব ক্লাস শেষ করতে পারি।”

ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন-ইএসডিএফ এই কর্মসূচির প্রযুক্তিগত সুবিধা ও খাবার সরবরাহ তদারকির দায়িত্বে রয়েছে।

সংস্থাটির স্কুল ফিডিং প্রকল্পের সাধারণ ব্যবস্থাপক (জেনারেল ম্যানেজার) আশিক আহমেদ জেবাল জানান, শিশুদের কাছে সঠিক ও মানসম্মত পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকারি নির্দেশ মেনে তারা নিয়মিত তদারকি চালাচ্ছেন।

খাবারের গুণগত মান সম্পর্কে বনরুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘আল মদিনা বেকারি অ্যান্ড কনফেকশনারি’র স্বত্বাধিকারী খলিলুর রহমান বলেন, "আমাদের নিজস্ব ফুড টেকনোলজিস্ট ও ল্যাবরেটরি রয়েছে। প্রতিদিন মান পরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়েই রুটিগুলো স্কুলে পাঠানো হয়।”

পাটগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হামিদ সরকার বলেন, “ক্লাসের বিরতিতে পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা পাওয়ায় বর্ষাসহ যেকোনো প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে।”

তিনি বলেন, “খাবারের বৈচিত্র্য শিশুদের স্কুলে আসার বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে, যা প্রাথমিক শিক্ষার ঝরে পড়া রোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।”

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবেদা খাতুন বলেন, “স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালুর পর আমাদের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বেড়েছে। কর্মসূচিটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি আমরা নিয়মিত বিদ্যালয়গুলো মনিটরিং করছি।”

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বিদ্যালয়মুখী করার ক্ষেত্রেও এই কর্মসূচি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। দিন দিন আমাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও উপস্থিতি বাড়ছে।”