জব্দ করা প্যাকেটে হেরোইন না আচার?
এ ঘটনায় বিচারক আগামী ১৭ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট আদালতের পিপি।
নাটোরে দুই বছর আগে জব্দ হয়েছিল ১ কেজি ২৯০ গ্রাম হেরোইন, মামলার বিচারের শেষ পর্যায়ে এসে সেই সাত প্যাকেটে মিলল আচার সদৃশ বস্তু।
গত মঙ্গলবার মামলার যুক্তিতর্কের আগে নাটোরের জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মো. শরীফ উদ্দিন উপস্থিতিতে মাদক আলামতের প্যাকেট খোলা হলে সেখানে আচার সদৃশ বস্তু পাওয়া যায় বলে পিপি সিরাজুল ইসলাম জানান।
নাটোরের জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ মো. শরীফ উদ্দিন এ ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী ১৭ জুলাই আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের বাবুর পুকুরপাড় এলাকায় তল্লাশি চৌকি বসায় র্যাব। রাজশাহী থেকে পাবনাগামী মাছরাঙ্গা পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে মাসুম হোসেন নামের ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছে থাকা পলিথিনে মোড়ানো সাতটি প্যাকেটে এক কেজি ২৯০ গ্রাম হেরোইন পাওয়া যায়।
মাসুম হোসেন বগুড়ার পাল্লাপাড়া এলাকার প্রয়াত আব্দুল সাত্তারের ছেলে। র্যাব সে সময় বলেছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা ‘স্বীকার’ করেছেন মাসুম। হেরোইনের প্যাকেটগুলো বিক্রির জন্য পাবনার দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
র্যাব ওই রাতেই মাসুমকে নাটোর সদর থানায় হস্তান্তর করে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।
আদালতের পিপি সিরাজুল ইসলাম বলেন, আসামির অনুরোধে মঙ্গলবার মামলার শুনানির দিন আলামতগুলো দেখতে চান বিচারক। আলামত খোলার পর দেখা যায়, সেই সাতটি প্যাকেটে খয়েরি রঙের আচারের মতো বস্তু।
“এখন মাননীয় আদালত যদি মনে করেন, এটা আরেকবার রাসায়নিক পরীক্ষা করা দরকার, করবেন এবং পরীক্ষা করলেই জানা যাবে এটা হেরোইন, আচার, না অন্য কিছু। আগামী ১৭ তারিখ আইও আসবেন, তার মতামত শুনে আদালত সিদ্ধান্ত দেবে।”
জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিক উদ্দিন তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, “জব্দ আলামত আমাদের সংশ্লিষ্ট ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠালে রিপোর্টে হেরোইনের আলামত পাওয়ায় আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছি। পরে ওই আলামত সিলগালা অবস্থায় কোর্ট পুলিশের মালখানায় জমা দেওয়া হয়।”
