চাঁদপুরে বারান্দায় খেলার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ২ শিশু, ঢাকায় প্রেরণ
বারান্দার পাশে ৩৩ হাজার ভোল্টের লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ২ শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
চাঁদপুর শহরে বাসার বারান্দায় খেলতে গিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে এসে দুই শিশু গুরুতর দগ্ধ হয়েছে।
শনিবার দুপুর ২টার দিকে শহরের নিউ ট্রাক রোড এলাকার ‘আরএস টাওয়ারের’ পঞ্চম তলার একটি ফ্ল্যাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) আসিবুল হাসান বলেন, দগ্ধ দুই শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ফাইজার শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ এবং সাব্বিরের শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
তাদের দুজনের অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
দগ্ধ ফাইজা আক্তার (৬) লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার মৃত মো. ফরহাদের মেয়ে এবং মো. সাব্বির (৪) একই এলাকার মো. সুমন মিয়ার সন্তান। শিশুরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে চাঁদপুর শহরের স্বজনের বাসায় বেড়াতে এসেছিল।
দুর্ঘটনার বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ বলেন, খবরটি তিনি শুনেছেন। তবে এ ঘটনায় থানায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ হয়েছে কিনা তা তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
যে বাসায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেটির ভাড়াটিয়া প্রবাসী সোহেল দেওয়ানের স্ত্রী ইয়াছমিন আক্তার বলেন, দুপুরে তার দুই খালাতো বোন সন্তানদের নিয়ে তাদের বাসায় বেড়াতে আসেন। একপর্যায়ে শিশুরা খেলতে খেলতে বারান্দায় যায়। এর কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দ শুনে তারা বারান্দায় ছুটে গিয়ে দুই শিশুকে দগ্ধ ও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পরিবারের সদস্যদের ধারণা, শিশুরা খেলতে খেলতে হাতে থাকা লোহার তৈরি কোনো পাইপ বা বস্তু বারান্দার বাইরে বাড়িয়ে দিলে তা পাশ দিয়ে যাওয়া ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে আসে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটটির বারান্দার একেবারেই কাছ দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন চলে গেছে।
এ বিষয়ে বাড়ির মালিক রাসেল মিয়ার বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। পরবর্তীতে বাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
