২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ময়মনসিংহে সাংবাদিক তোফাজ্জালের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি

পুলিশের করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় কারাগারে আছেন তোফাজ্জাল।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Sep 2026, 06:48 PM

Updated : 28 Sep 2026, 06:48 PM

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সাংবাদিক এইচ টি তোফাজ্জাল হোসেনের বিরুদ্ধে করা মাদক মামলা প্রত্যাহার ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সহকর্মীরা।

সোমবার বেলা ১১টায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচিতে সাংবাদিক ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে গৌরীপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আল আমিন এবং গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. শাহজাহান কবির হীরা বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার করতে হবে। সেইসঙ্গে সাংবাদিক তোফাজ্জাল হোসেনকে রশি দিয়ে বেঁধে মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের দাবি জানান সাংবাদিকরা।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর রাতে গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের কলতাপাড়া এলাকায় থেকে সাংবাদিক তোফাজ্জালকে আটক করে পুলিশ।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় লোকজন তোফাজ্জালকে একটি বাড়িতে আটক করে মারধর এবং রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পরে তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আটকের পর তোফাজ্জালের শার্টের পকেট থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো ১৯টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে; এর মধ্যে ১৭টি সবুজ ও দুটি গোলাপি। উদ্ধার করা ইয়াবার ওজন প্রায় দুই গ্রাম এবং আনুমানিক বাজারমূল্য নয় হাজার ৫০০ টাকা বলে এজাহারে করা হয়েছে।

এ ছাড়া মামলায় রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল জব্দের কথাও বলা হয়েছে।

তবে তোফাজ্জালের সহকর্মী ও পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনাটিকে ষড়যন্ত্র দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. শাহজাহান কবির হীরা।

তবে পুলিশের দাবি, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তোফাজ্জালকে হেফাজতে নেওয়া হয়। সেই সময় উপস্থিত লোকজনের সামনে তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এরপর আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো পক্ষের বক্তব্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ঘটনাস্থলের ভিডিও বা সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি, জব্দ তালিকা, উদ্ধার করা মাদকের পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং পুলিশের কার্যক্রমসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, “অভিযোগ যার বিরুদ্ধেই থাকুক, আইন সবার জন্য সমান। সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা থাকলে তারও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেইসঙ্গে সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা জরুরি।”

তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে মারধর বা আটকে রাখার অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

সেইসঙ্গে সাংবাদিক তোফাজ্জালের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের দাবি জানান খায়রুল আলম।

সাংবাদিক তোফাজ্জাল ডেসটিনি পত্রিকার গৌরীপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন।