০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা নিয়ে উধাও সমবায় সমিতির সভাপতি

১৫ শতাংশ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা বাগিয়ে উধাও কাপাসিয়ার এক সমবায় সমিতির সভাপতি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Oct 2026, 10:50 AM

Updated : 01 Oct 2026, 10:50 AM

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একটি সমবায় সমিতির হাজারো সদস্যের জমা রাখা প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে সভাপতি উধাও হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে।

টাকা খোয়ানো শুভেচ্ছা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের আমানতকারীরা জমানো অর্থ ফেরতের আশায় প্রতিদিন বন্ধ থাকা কার্যালয়ের সামনে ভিড় করছেন।

তাদের অভিযোগ, সমিতির সভাপতি আবুল হাসেম (৪৬) এই টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। তিনি উপজেলার দড়িমেরুন গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে।

এ ঘটনায় থানা ও আদালতে দুটি মামলা করেছেন দুজন গ্রাহক।

অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাংকের চেয়ে বেশি (১৫ শতাংশ) মুনাফা দেওয়ার প্রলোভনে পড়ে সাতটি ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার মানুষ নিজেদের জমানো অর্থ ওই সমিতিতে জমা রাখেন। ১৭ সেপ্টেম্বর হঠাৎ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে সপরিবারে আত্মগোপনে চলে যান হাসেম।

সমিতির সদস্যরা বলেন, অনেক সদস্য ব্যাংক থেকে ডিপিএস ভেঙে বা ঋণের টাকা তুলে সমিতিতে জমা রেখেছিলেন। সমিতির প্রকৃত মূলধন দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১০ কোটি টাকায়।

কাপাসিয়ার রাওনাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তিনতলা ভবনের ওপরে থাকা সমিতিটির অফিসসহ সবকিছুতে তালা ঝুলছে।

রাওনাট বাজার সমিতির সভাপতি সফিকুল আলম বলেন, “আবুল হাসেম টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। সারাদিন নারী ও পুরুষ গ্রাহকরা চরম উৎকণ্ঠা নিয়ে সমিতির সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন। জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে অনেকে এখন পাগলপ্রায়।”

টাকা হারিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন সমিতির সদস্য সালমা বেগম, সুবর্ণা আক্তার ও নিখিল দাসসহ ফুলবাড়িয়া এলাকার একাধিক বাসিন্দা। তারা জানান, একেকজন গ্রাহকের এক থেকে শুরু করে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত জমা ছিল ওই সমিতিতে।

এদিকে গাজীপুর জেলা সমবায় দপ্তরের তদারকির অভাব এবং পরিদর্শকদের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের কারণে এই আর্থিক প্রতারণার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

কাপাসিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজুল আমিন বলেন, “গ্রাহকদের তথ্য অনুযায়ী, সভাপতি আবুল হাসেম প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। তার মোবাইল নম্বর বন্ধ রয়েছে। প্রতারিত সদস্যরা এরই মধ্যে থানা ও আদালতে দুটি পৃথক মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

সমিতির বাৎসরিক নিরীক্ষা বা সদস্য সংখ্যার বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান গাজীপুর জেলা সমবায় কর্মকর্তা আরিফা সুলতানা শিপা।

জেলা সমবায় কর্মকর্তার এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, কোটি টাকার জালিয়াতির বিষয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা কিছুই জানেন না বললে তার বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।