রাঙামাটিতে হাতির আক্রমণে কিশোরের মৃত্যু
বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পূর্ব চাইল্যাতলী এলাকায় তিনটি হাতি অবস্থান করছিল; নিহত ফয়সাল ও তার কয়েকজন সহপাঠী মিলে সেখানে হাতি দেখতে যায়।
রাঙামাটির লংগদুতে হাতির পালের আক্রমণে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম ইউনিয়নের পূর্ব চাইল্যাতলী এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হযরত আলী।
নিহত কিশোরের নাম মো. ফয়সাল (১৪)। সে পশ্চিম চাইল্যাতলী এলাকার মো. শফিকের ছেলে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইসমাঈল হোসেন জানান, গত এক সপ্তাহ ধরেই কয়েকটি হাতি লোকালয়ে ঢুকে ফসলের ক্ষতি করছে, ঘরবাড়ি ভেঙে দিচ্ছে। রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে পূর্ব চাইল্যাতলী এলাকায় তিনটি হাতি অবস্থান করছিল। নিহত ফয়সাল ও তার কয়েকজন সহপাঠী মিলে সেখানে হাতি দেখতে যায়। এসময় তাদের দলটিকে ধাওয়া করে হাতির পাল।
তিনি বলেন, “তাড়া খেয়ে সবাই এলেও ফয়সাল হাতির পালের আক্রমণের মুখে পড়ে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফয়সালের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করি। পরে পুলিশ এসে মৃতদেহের সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।”
ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী বলেন, “আমরা বনবিভাগকে বলেছি হাতির জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করা দরকার। বিশেষ করে হাতির উপযোগী খাবারের জন্য নির্দিষ্ট এলাকায় কলাগাছ, কাঁঠালগাছ লাগানো গেলে হাতির লোকালয়ে যাতায়াত কমে যেত। পাশাপাশি হাতির লোকালয়ে প্রবেশের রাস্তায় জলাশয় তৈরি করলেও হাতির যাতায়াত হয়ত বন্ধ করা সম্ভব হবে।”
এ বিষয়ে বনবিভাগের পাবলাখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা সজিব মজুমদার জানান, এলাকাটি হাতিপ্রবণ হওয়ায় বন বিভাগের এলিফেন্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) নিয়মিত কাজ করছে।
নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে থানায় জিডি করার পরামর্শ দিয়েছেন জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, “পরিবারটিকে তিন লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”
লংগদু থানার ওসি মো. ইকবাল উদ্দিন জানান, কিশোরের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
