গোপালগঞ্জে ১ হাজার ২৮৮ মণ্ডপে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি
প্রতিমা শিল্পী উত্তম পাল বলেন, “দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ বাজারে কাজ করে যা পাই তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর। তারপরও বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছি।”
প্রকৃতিতে শরত আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষণ গণনা শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজার। সারা দেশের মতো গোপালগঞ্জ জুড়েও শুরু হয়েছে পূজার প্রস্তুতি।
একদিকে দশভূজা দেবীর বিগ্রহ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা। অন্যদিকে মণ্ডপের সাজসজ্জা ও আলোক সজ্জার ফ্রেমের কাজ চলছে পুরোদমে।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, গোপালগঞ্জে এ বছর ১ হাজার ২৮৮ মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৫০টি, কাশিয়ানী উপজেলায় ২২৬টি, কোটালীপাড়া উপজেলায় ৩১৫টি, মুকসুদপুর উপজেলায় ৩০৭টি ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ৯০টি মণ্ডপে পূজার প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে।
পূজা উদযাপন ফ্রন্টের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক অশোক বিশ্বাস বলেন, আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবী পক্ষের সূচনা হবে। এরপর ১৫ অক্টোবর দেবীকে বোধনের মধ্য দিয়ে আহ্বান করা হবে। ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার পর ধারাবাহিকতায় ২১ অক্টোবর দশমী বিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে শারদীয়া দুর্গোৎসবের।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস মতে, এ বছর দেবী ঘোড়ায় চড়ে মর্তে আসবেন। নৌকায় চেপে কৈলাশে ফিরবেন তিনি।
গোপালগঞ্জ শহরের খাটরা কালিবাড়ি কমিটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, “মায়ের পূজা করে আমরা দুর্গতি নাশ চাই। অসূরের বিনাশ চাই। শুভ বুদ্ধির উদয় চাই। আমাদের প্রস্তুতি ভালো। সবার সহযোগিতায় আমরা উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা আয়োজন ও উদযাপন করতে পারব।”
শহরের সিকদারপাড়ার বাজার যুব সংঘের দুর্গা মন্দিরের প্রতিমা তৈরি করছিলেন প্রকাশ দাসসহ তার সহকর্মীরা।
তিনি বলেন, “সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার ৫টি পূজা মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ পেয়েছি। একটি প্রতিমা তৈরিতে ১০ থেকে ১১ দিন সময় লাগে। আমিসহ ৬ জন কারিগর কাজ করছি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিমা তৈরি শেষ করতে রাত জেগে হলেও কাজ করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, “তৈরির পর এক একটি প্রতিমায় রংতুলির আঁচড় দিতে দুই দিন করে সময় লাগে। প্রতিমা না শুকিয়ে রংতুলির কাজ করলে তা সুন্দর হয় না। এ কারণে পূজা শুরু হওয়ার ৮-১০ দিন আগেই প্রতিমার গায়ে মাটি লাগানোর কাজ শেষ করতে হয়।
তিনি বলেন, “যে প্রতিমা যত বেশি শুকানো হবে, সেটি তত বেশি সুন্দর দেখা যাবে।”
প্রতিমা শিল্পী উত্তম পাল বলেন, রং তুলিসহ অন্যান্য সামগ্রীর দাম বেড়েছে। দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির এ বাজারে কাজ করে যা পাই তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর। তারপরও বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছি। ১৬ বছর ধরে মায়ের মূর্তি তৈরি করে আসছি। এ পেশা আঁকড়েই বাঁচতে চাই।”
বাজার যুব সংঘের পূজা মণ্ডপের পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য দিলীপ কুমার সাহা দীপু বলেন, “আমরা ধর্মীয় ভাবগাম্বীর্যের মধ্যে দিয়ে পাঁচ দিন দেবীর আরাধনা করব। এর মধ্যেই প্রতিমা তৈরি হয়েছে। এখন সাজসজ্জা-আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন গেটের ফ্রেমের কাজ চলছে। আমরা ১২ অক্টোবরের মধ্যে পূজার যাবতীয় কাজ শেষ করব।”
পূজা উদযাপন ফ্রন্টের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক অশোক বিশ্বাস বলেন, “আমারা পূজামণ্ডপগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছি। তাদের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দিচ্ছি। প্রশাসন ও আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করব।”
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, “জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পূজা উদযাপন কমিটির সাথে যোগাযোগ রয়েছে। রোববার তাদের সাথে সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় তাদের পরামর্শ গ্রহণ করা হবে।
এর মধ্যে সরকার মণ্ডপ প্রতি ৬০০ কেজি চাল বরাদ্দ দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “গোপালগঞ্জের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি সমুন্নত রয়েছে। পূজায়ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সেভাবেই প্রশাসন ও আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনী কাজ করছে। আশা করছি উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উৎযাপিত হবে।”
