চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় আসামির যাবজ্জীবন
আসামির কাছে থেকে ৮৯৯ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়েছিল।
চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস এ রায় দেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম।
রায় ঘোষণার সময় আসামি জালাল মালিথা (৫১) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার রেলপাড়ার মৃত আলতাফ হোসেন মালিথার ছেলে।
মামলার বরাতে আইনজীবী বলেন, ২০২১ সালের ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গার একাডেমি মোড়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এ সময় কুষ্টিয়া থেকে চুয়াডাঙ্গাগামী ‘সোনারতরী এক্সপ্রেস’ বাসে তল্লাশি চালানো হয়।
বাস থেকে নামার সময় জালাল মালিথার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাকে আটক করা হয়। পরে তার হাতে থাকা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে ৮৯৯ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন পাওয়া যায়।
প্রতিটি অ্যাম্পুলে দুই মিলিলিটার করে ইনজেকশন ছিল। এসব ইনজেকশনের আনুমানিক মূল্য ছিল দুই লাখ ৬৯ হাজার ৭০০ টাকা।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় জালাল মালিথার বিরুদ্ধে মাদক নিজের কাছে রাখা ও বিক্রির উদ্দেশ্যে সংরক্ষণের অভিযোগ আনা হয়।
পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তৎকালীন উপপরিদর্শক সাহারা ইয়াসমিন তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। চারজনের সাক্ষ্য নেওয়া এবং মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত জালাল মালিথাকে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেন।
রায়ে উদ্ধার করা মাদক রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম বলেন, “এই রায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছে।”
