পটুয়াখালীতে ছাত্রদল নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ: ‘আব্বা ডেকেও রেহাই পাইনি’
কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারুক।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন মেহেদী হাসান ফারুক নামে এক ছাত্রদল নেতা।
নির্যাতনের সময় ‘আব্বা’ বলে ডাকলেও তাকে ছাড়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারুক।
সংবাদ সম্মেলনে তার সঙ্গে মহিপুর থানা সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রবিউল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন ।
সংবাদ সম্মেলনের পর ফারুকের চাচা আমীর আলী ফরাজী বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মহিপুর থানায় মামলা করেছেন বলে থানার ওসি (তদন্ত) মো. রাসেল আহমেদ জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, “এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। মামলার তদন্ত চলছে।”
মামলায় আসামিরা হলেন- কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মা. মাসুদ রানা, ছাত্রদল নেতা মো. রাশেদ, সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম, নাইম, রাসেল, হাসান, মাইনুদ্দিন ও কাওছার। তাদের বাড়ি কলাপাড়ায় বলে জানান ওসি।
এদিকে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রদল নেতা যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন, তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী।
মামলার এজাহার ও সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে সাক্ষী হওয়াকে কেন্দ্র করে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম ও রাশেদসহ ১০ থেকে ১৫ জনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করেন তিনি।
ফারুকের দাবি, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর থেকে সাদা পোশাকে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যান। তাদের হাতে ওয়াকিটকি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পরে তাকে মোটরসাইকেলে করে কলাপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।
কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিমের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে দফায় দফায় মারধর ও নির্যাতন করে। রাত ১টা পর্যন্ত তাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন ফারুক।
বিএনপির এ নেতা দাবি করেন, “আমি তাদের পা ধরে, আব্বা বলে ডেকেছি। বলেছি, আমার বাবা নেই, আপনারাই আমার বাবা। আমার মা অসুস্থ এ ঘটনা জানলে তিনি মারা যেতে পারেন। তারপরও তারা আমাকে রেহাই দেয়নি।’
“খবর পেয়ে মহিপুর ইউনিয়ন শাখা ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম শাওন ও রবিউল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় আমাকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।”
সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। দীর্ঘ ১৫ দিন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর ২৬ সেপ্টেম্বর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বরিশালে নেওয়া হয় বলে জানান ফারুক।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে বিভিন্নভাবে ‘হুমকি’ ও ‘ভয়ভীতি’ দেখানো হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন ফারুক।
এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। বর্তমানে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান ফারুক।
তবে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আমিরুল ইসলাম ফাহিম।
ফাহিম বলেন, “ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”
